সখীপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর এস এ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ মিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন খাতে দুর্নীতিসহ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। গোপনে নিয়োগ কমিটির সদস্য বাতিল, নিয়োগ পরীক্ষা স্থানান্তর করাসহ নিরাপত্তা কর্মী পদে আবেদনকারীর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। রাসেল নামের এক প্রার্থী জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে । পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সুপারিশে নিয়োগটি স্থগিত ঘোষনা করা হয়েছে।
ম্যানেজিং কমিটি সদস্য ও প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়,গত ২২ অক্টোবর ২০২১ দাড়িয়াপুর এস এ উচ্চ বিদ্যালয় চারটি পদে (ল্যাব সহকারী , নিরাপত্তাকর্মী ,পরিচ্ছনকর্মী ও অফিসসহায়ক) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নিয়োগ কমিটি এবং নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্র ও তারিখ ঘোষণা করা হয়। পরে প্রধান শিক্ষক গোপনে নিয়োগ কমিটির সদস্য ও নিয়োগ পরীক্ষার ভেন্যু পরিবর্তন করে টাঙ্গাইলে করেন। বিষয়টি নিয়ে গোলযোগ দেখা দিলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের বিষয় ওঠে আসে।
নিরাপত্তাকর্মী পদে প্রার্থী রাসেল মিয়া অভিযোগে করে বলেন, প্রধান শিক্ষক আজিজ মিয়া আমাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে ৫ লক্ষ টাকা নেন। নিয়োগ পরীক্ষার কিছুদিন আগে গোপনে জানতে পারি আমাকে নিয়োগ না দিয়ে বেশি টাকা নিয়ে অন্যজনকে নিয়োগ দেবেন। এখন তিনি আমার টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। আমি গরীব মানুষ মুদির দোকান করে সংসার চালাতাম। সব বিক্রি করে টাকার ব্যবস্থা করে দিছি। এখন আমার চাকরীও হলো না দোকানও শেষ হলো আমি কীভাবে সংসার চালাবো?
বিদ্যালয় অভিভাবক কমিটির সদস্য গোলাপ মিয়া বলেন, প্রধান শিক্ষক আগেও বিভিন্ন নিয়োগ বানিজ্য করেছেন। এবারো সেই পায়তারা করছেন। আমরা ৫ জন নিয়োগ কমিটির সদস্য, আমাদের না জানিয়ে নিয়োগ কমিটি ও নিয়োগ পরীক্ষার ভেন্যু পরিবর্তন করেছেন। তাঁর সুবিধামত অর্থবানিজ্য করে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা করছেন। আমার জানামতে চার পদে রাসেলসহ ৫ জনের কাছ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার নিয়োগ বানিজ্য করেছেন।
সাবেক ম্যানেজিং কমিটিরি সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, পূর্বেও এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ ছিলো। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্নীতিতে আসক্ত প্রধান শিক্ষক না থাকাই মঙ্গল। আমরা গ্রামবাসী তাকে প্রধান শিক্ষককের পদ থেকে অপসারণ চাই।
নিয়োগ বাণিজ্যে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল আজিজ বলেন, আমি নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে কোন প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেই নাই। তবে অফিস সহায়ক পদে রাসেল নামে যে ছেলেটি প্রার্থী ছিলো তাকে কমিটির সিদ্ধান্তে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিলো। পরে জানতে পারি সে মাদকসেবী তাই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।
নিয়োগ কমিটির পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি আরোও বলেন, কমিটির সদস্য পদ থেকে গোলাপ মিয়া কে অপসারণ করার কারণ হলো তার ভাতিজা এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছে। সরকারি বিধি সম্মত নয় তাই গোলাপকে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ।
দাড়িয়াপুর এসএ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিরি সভাপতি শফিউল আলম তুষার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার ভেন্যু পরিবর্তন হওয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী তারিখ সকল প্রার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে অর্থ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, এ বিষয়ে কিছু জানি না ।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মাদ মফিজুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর নিয়োগ পরীক্ষার ভেন্যু ওই বিদ্যালয়ে না হয়ে টাঙ্গাইল হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
