Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

সখীপুরে ভুল চিকিৎসায় স্কুলছাত্র মৃত্যু মামলা করতে চাইলে এক লাখ টাকায় রফাদফা

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে ভুল চিকিৎসায় মেধাবী ছাত্র সৌরভ আহমেদ (১৬) মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে ১ লাখ টাকায় রফাদফা হয়েছে। সৌরভের পরিবার অভিযুক্ত লাইফ কেয়ার ক্লিনিক ও ডাক্তার আবদুস সাত্তার এবং ডিআই রেজাউল করিমকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি নিলে তরিঘরি করে গত ২৬ জুলাই নিহত সৌরভের পরিবারকে একলক্ষ টাকা হাতে তুলে দেওয়া হয় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে। মীমাংসায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শফিউল ইসলাম বাদল, দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম শাইফুল ইসলাম শামীম, নিহতের পরিবার এবং ক্লিনিক পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এভাবেই টাকার বিনিময়ে একাধিকবার  পাড় পেয়ে যাচ্ছেন লাইফ কেয়ার ক্লিনিক এবং অভিযুক্ত দুই ডাক্তার ডি আই রেজাউল করিম ও আব্দুস ছাত্তার। তাদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হওয়া সৌরভের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে মীমাংসা করার কথা স্বীকার করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শফিউল ইসলাম বাদল এবং দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম শাইফুল ইসলাম শামীম।

নিহত সৌরভের মা লুপা বেগম এবং চাচা নজরুল ইসলাম টাকা পেয়ে মীমাংসার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা একপ্রকার চাপের মুখে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন বলেও দাবি করেন।

অভিযুক্ত ওই দুই ডাক্তার এবং ক্লিনিক মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানান।

সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদিউজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে নিহতের পরিবার আর আসেননি। টাকা নিয়ে মীমাংসা হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।

প্রসঙ্গত: উপজেলার দেওবাড়ি গ্রামের প্রবাসী শাহাদত হোসেনে ছেলে এবং লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র সৌরভকে সামান্য জ¦র নিয়ে গত ৪ জুলাই সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন তার পরিবার। পরদিন ৫ জুলাই সৌরভের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ছুটি নিয়ে হাসপাতালের বাহিরে বেড় হলেই তারা লাইফ কেয়ার ক্লিনিকের দালাল রিনা আক্তারের খপ্পরে পড়েন। এক রকম টেনে হিচড়ে ভালো চিকিৎসার কথা বলে লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি করান। খবর পেয়ে ছুটে আসেন ওই ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক আবদুস সাত্তার ও ডি আই রেজাউল করিম। এসেই সৌরভের এপেন্ডিস হয়েছে । জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন না করালে তাকে বাঁচানো যাবেনা। রক্তের গ্রæপ ছাড়া আর কোন টেস্ট না করিয়েই ওই দুই ডাক্তার দুপুর ২টায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান সৌরভকে। সন্ধ্যা ৬টায় অপারেশন শেষ করেই পরিবারকে জানানো হয় দ্রæত চার ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেন। ওর অপারেশনের জায়গা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে রক্ত না দিলে বাঁচানো যাবেনা। রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে ৭ জুলাই লাইফ কেয়ার ক্লিনিক নিজ খরচে সৌরভকে টাঙ্গাইলের মুক্তা ক্লিনিকে নিয়ে যান। ভুল চিকিৎসা করা হয়েছে বুঝেই মুক্তা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সৌরভকে ফেরত পাঠান। পরে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন ভুল চিকিৎসার কারনে সৌরভের এ অবস্থা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে থাকা লাইফ কেয়ারে কর্মরত ব্রাদার নজরুল ইসলাম প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পালিয়ে যান। দীর্ঘ ১৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২২ জুলাই রাতে সৌরভ মারা যায়।

 

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version