Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

সখীপুরে রাজাকারের দাপটে অতিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাসহ দুই শতাধিক ব্যবসায়ী

News Tangail

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: দেশ স্বাধীন হলেও টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাজাকার আঃ ছামাদ খানের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসায়ী। ওই রাজাকারের নানা অপকর্মের হাত থেকে বাচঁতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর গণ স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ করেছেন অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলুয়া গ্রামের মৃত হুরমুজ চেয়ারম্যানের ছেলে ৭১’র স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার ১৪২৫ বঙ্গাব্দে নলুয়া বাজার হাট ইজারাদার আঃ ছামাদ খান ইজারা নেওয়ার পরপরই শত বছরের ব্যবসায়ী মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় এবং ওইসব স্থানে নতুন করে সপ লাইসেন্স এবং দোকান ঘর তুলে দেওয়ার নামে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাসেমের কাছ থেকে ৫০ হাজার, চা বিক্রেতা মালেক খানের কাছ থেকে ৫০ হাজার, শ্রী হনু সরকারের কাছ থেকে ৫০ হাজার, রেহানা বেগমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকাসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক লোকের কাছ থেকে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও সরকারি ফির বাইরে তার ইচ্ছাধীন টোল আদায়, বন্দোবস্তকৃত ভূমির বাইরে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে রাস্তার ওপর দোকান ঘর গড়ে তুলেছেন। সরকারিভাবে ওই হাটে ব্যবসায়ীদের জন্য ভবন থাকলেও তিনি পরিকল্পিতভাবে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি করার লক্ষ্যে রাস্তার দুপাশে মাছ ও কাচা বাজার গড়ে তুলেছেন। যাতে করে তিনি জায়গা সংকট দেখিয়ে পুরাতন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিতে পারেন এবং লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া নতুনদের ঘর নির্মাণ করে দিতে পারেন।

জানা যায় আঃ ছামাদ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী ভূমিকায় ছিল। ওই সময় এমন কোন ঘৃণিত কাজ নাই যা তিনি করেন নাই। যার ফলে ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সংসদ সদস্য শওকত মোমেন শাহজাহানের নেতৃত্বে রাজাকার আঃ ছামাদের সমস্ত ঘর বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। এর আগে ২০০৩ সালে তিনি একইভাবে নলুয়া বাজারের ইজারা নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। রাজাকার আঃ ছামাদের এসব অপকর্মের তান্ডবে মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসায়ী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তার হাত থেকে বাঁচতে মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর স্বাক্ষরিত আবেদন জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরের পাঠানো হয়েছে।

টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম, চা বিক্রেতা মালেক খানসহ আরও একাধিক ব্যবসায়ী বলেন-আমাদেরকে নলুয়া বাজারে নতুন ঘর তুলে দিবেন এবং সপ লাইসেন্স করে দিবেন বলে টাকা নিয়েছেন। ঘর নতুবা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি ব্যবস্থা হচ্ছে বলে তাল বাহানা করছেন।

ওই বাজারে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর শামস্ উদ্দিন, ডা. নূরুল ইসলাম, জহির ডিলারসহ আরও একাধিক মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার আঃ ছামাদের হাট ইজারা বাতিল,পুরাতন ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি করা এবং নতুন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া লক্ষ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

যাদবপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমা-ার রজব আলী মেলেটারী বলেন- আঃ ছামাদ খান স্বাধীনতা বিরোধী থাকায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিল।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আঃ ছামাদের মুঠোফোন (০১৭২০-৬৬৮৩৫৩) যোগাযোগ করা হলে তিনি – ৭১ এ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সংসদ সদস্য শওকত মোমেন শাহজাহানের নেতৃত্বে তার বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এ কথা স্বীকার করলেও তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী সরকার রাখী বলেন- অভিযুক্তকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। যারা টাকা দিয়েছেন তাদেরকে নিয়ে বসা হবে অভিযোগ প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version