সাহিত্য মানবসভ্যতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্য থেকে কোনো একটির অনুপস্থিতি যেমন মানবদেহকে বিকলাঙ্গ করে দেয়,ঠিক তেমনি সাহিত্যচর্চার অনুপস্থিতি মানবসভ্যতাকে নিশ্চল করে দেয়।
সাহিত্যচর্চা ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনে মানু্ষকে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায়।
সাহিত্যচর্চা মানুষের মধ্যে শুভবোধের বিকাশ ঘটায়।মানুষের অমিত সম্ভাবনার দ্বারকে উন্মোচিত করে।
পৃথিবীরর বহু দেশ-জাতি এই সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে উৎকর্ষের শ্রেষ্ঠ আসনে উত্তীর্ণ হয়েছে। আর কিছু জাতি সাহিত্যের মুল্যায়ন না করে নিজেদের অস্তিত্বকে হারিয়েছে। তাই বলা চলে,সাহিত্য হচ্ছে একটি জাতির মূল চালিকাশক্তি।
কিন্তু বর্তমান সময়ে একদল ইসলামবিদ্বেষী এই সাহিত্যকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রকাশ্যে মুসলমানদের ওপর আঘাত হানছে। আমাদের সমাজকে তাদের কুসাহিত্যের মাধ্যমে ইসলামি বিধিবিধানের ভুল ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্ত করছে। আর যুব সমাজকে করছে পথভ্রষ্ট।
বিশেষকরে শিশুদের মগজকে ধোলাই করছে। সাহিত্যের নামে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে কাল্পনিক সব গল্প, সুপারম্যান, রাক্ষস ইত্যাদি। ফলে ঘুমের ঘোরে সে শিশু স্বপ্ন দেখে সুপারম্যান হয়ে আকাশে উড়ছে! রাক্ষস হয়ে সে পৃথিবীর সব খেয়ে ফেলছে। এ সবই হলো ইসলামবিদ্বেষী চক্রের দূরভিসন্ধি। যে শিশুর কোমল হৃদয়ে রাক্ষস হওয়ার স্বপ্ন গেথে দেয়া হয়েছে, সে হয়তো একদিন বাস্তবেই মানু্ষরুপী রাক্ষস হয়ে ওঠবে। তখন তার কাছে দেশের কোনো সম্পদ-ই নিরাপদ থাকবে না। চাঁদাবাজি,দুর্নীতি তার কাছে সবই সম্ভব হবে।অথচ তার স্বপ্ন দেখার কথাছিল সাহাবায়ে কেরামের নববী আদর্শে আদর্শিত হবার। কিন্তু আজ তা না হয়ে হচ্ছে পুরো উল্টো।
এর কারণ একটাই আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতি আজ অনৈসলামি চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। যাদের মন- মানসিকতা ও চিন্তা- চেতনা ইসলামি নয়। ওরা ক্ষতি ও দুস্কৃতির ক্ষেত্রে খুবই ভয়ঙ্কর।
আর এর থেকে মুক্তি লাভের একমাত্র উপায় ও পন্থা হচ্ছে,কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলনের পাশাপাশি ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যকে বিশ্ব দুয়ারে তুলে ধরা। আর তখনই আমাদের এই সাহিত্য- সংস্কৃতি মুক্তি পাবে।
মোঃ হুসাইন আহমদ
শিক্ষার্থী,কওমি মাদরাসা,টাংগাইল।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

