
এসময় বীরমুক্তিযোদ্ধা ও মামলার বাদী আব্দুর রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে আব্দুস ছাত্তার খান বাবু বলেন-‘উপজেলার অর্জুনা, গাবসারা ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের শত শত একর ফসলি জমি, বাড়ি-ঘড় খননের আওতায় পড়ে। এই সমস্ত এলাকা ছিল আমাদের বসতবাড়ি। ১৯৯৮ সালের যমুনার সর্বগ্রাসী ভাঙনের ফলে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে কচুরি পানার মতো ভেসে ভেসে এ গ্রামে, ওগ্রামে কোন রকমভাবে মাথাগুজার আশ্রয়টুকু নিয়ে বেঁচে আছি। গত ৫/৬ বছর ধরে পলি পড়ে আমাদের এই জমিগুলো কায়েম হতে শুরু করে। আমরা আবার নতুনভাব বেচেঁ থাকার স্বপ্ন দেখি। নানান ধরনের ফসল ফলিয়ে আমরা যখন একটু ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছি তখন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে আসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই অবৈজ্ঞানিক, জনস্বার্থ পরিপন্থি নদী খনন প্রকল্প।’লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন- ‘হাইকোর্টের নির্দেশে ভূঞাপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সর্বশেষ বি.আর.এস জরিপ অনুযায়ী উক্ত এলাইনমেন্ট এলাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। দীর্ঘ দুইমাস আইনি লড়াইয়ের পর গত ৪ মার্চ মহামান্য হাইকোর্ট মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ড্রেজিং বন্ধের স্থগিতাদেশ দেন। আমরা সেই আদেশ ডিসি মহোদয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় তারা হাইকোর্টের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে এখনো খনন কাজ অব্যহত রেখেছে।’আব্দুস ছাত্তার বলেন- ‘সরকার যমুনা নদীর প্রবাহকে একটি ধারায় বহমান রাখার জন্য জামালপুর ও টাঙ্গাইল অংশে একটি নদী খনন প্রকল্প হাতে নেয়। গতবছর জামালপুর অংশের খনন কাজ শেষ হয়। স্বাভাবিকভাবে জামালপুর অংশের যেখানে কাজ শেষ হয়েছে তারপর থেকেই টাঙ্গাইল অংশের কাজ শুরু করার কথা। কারণ টাঙ্গাইল অংশে একটি রৈখ্যিক ধারা বর্তমানেও প্রবাহমান। কিন্তু হঠাৎ করে টাঙ্গাইল অংশে খননের গতিপথ পরিবর্তন করে ফসলি কায়েম জমির দিকে নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আমরা একাধিকবার আবেদন নিবেদন করেছি। স্থানীয়ভাবে আমরা মানববন্ধন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করে আসছি। ঢাকার শাহবাগ চত্বরেও আমরা মানববন্ধন করেছি। নানা সময়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশও হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে মামলার ১ নং বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন- ‘আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশনা না মানলে এবং ড্রেজিং বন্ধ করা না হলে উপজেলা পরিষদের চত্বরে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা আমাদের নায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন করব। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন তালুকদার, গ্রাম-পাঠাগার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছাত্তার খান বাবু, অর্জুনা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন সরকার প্রমুখ।
ড্রেজিং বন্ধ ও হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান- হাইকোর্টের কোন আদেশ পাইনি। ড্রেজিং বন্ধের আদেশ পেলে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান- ড্রেজিং বন্ধে গত ১৮ মার্চ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের নির্দেশনা পেয়েই কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

