নিউজ ডেস্ক: ধর্ষণের মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘটনা ও অভিযোগের মধ্যকার সময় বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মনে করে আদালত। গত বৃহস্পতিবার রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায় দেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার।
পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেছেন, ৭২ ঘণ্টা পার হলে ধর্ষণের অভিযোগ মামলা হিসেবে নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। রায়ের শুরুতে বিচারক উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার বলছেন এটি আলোচিত মামলা। কিন্তু আমার কাছে সব মামলাই আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ।’ এরপর বিচারক একে একে মামলার এজাহার, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরার সংক্ষিপ্তসার, মেডিকেল প্রতিবেদন এবং আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির বিবরণ দেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, ‘উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্ষণ মামলায় মেডিকেল প্রতিবেদন জরুরি। কিন্তু এখানে যে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে তাতে দেখা যায় ভিকটিমের ওপর কোনো সেক্সুয়াল ভায়োলেশন হয়নি। ভিকটিমদের পরিধেয় বস্ত্রতে পাওয়া ডিএনএ নমুনা আসামিদের সঙ্গে মিলেনি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৯ (১) ধারায় ধর্ষণের যে সংজ্ঞা তার কিছুই এখানে নেই।’
বিচারক বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে এ মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছেন। ২২/২৩ বছরের দুজন তরুণী ৩৮ দিন পর এসে বলল ‘আমরা রেপড হয়েছি’, এ বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার বিবেচনা করা উচিত ছিল। ’ এই মামলাটি নিষ্পত্তি হতে ৯৩ কার্যদিবস সময় লেগেছে উল্লেখ করে পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, এই সময়ে অন্যান্য যেসব মামলা রয়েছে সেগুলো নিষ্পত্তি করা যেত। আদালতের ‘পাবলিক টাইম’ নষ্ট করা হয়েছে। আদালতের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে আদালত বলে, ‘দুজন ভিকটিম, অ্যাপয়নমেন্ট করে স্বেচ্ছায় হোটেলে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে সুইমিং করেছেন। ডান্স করেছেন। ঘটনার ৩৮ দিন পর তারা বললেন ‘আমরা ধর্ষণের শিকার হয়েছি’। এই কারণে সন্দেহ থেকে যায় এবং এই সন্দেহের সুবিধা আসামি পাবে।
আদালত আরও বলে, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শি¦ক অবস্থার প্রেক্ষিতে বোঝা যাচ্ছে তারা সেখানে ধর্ষণের শিকার হননি। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি।’ মূলত আসামি সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার প্ররোচনায় ভিকটিমরা এই মামলা করেছে বলে মন্তব্য করেন বিচারক।
আদালত বলে, প্রসিকিউশন তথ্য-প্রমাণ দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। রায়ের পর্যবেক্ষণে পুলিশের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ৭২ ঘণ্টা পর মেডিকেল টেস্ট করা হলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না। তাই ঘটনার এই সময়ের বেশি হলে মামলা গ্রহণ করা উচিত হবে না।

