বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নপূরণ দূরে নয়

টাইগার ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান উন্নতিতে মুগ্ধ শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে শিগগিরই বাংলাদেশও বিশ্বকাপ জেতার কৃতিত্ব রচনা করবে বলেও অভিমত দিলেন লঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার। ২০২৩ সালের উপমহাদেশীয় বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান তিনি রেখেছেন টাইগার ক্রিকেটের কাছে। তরুণ ক্রিকেটার তৈরির পথ খোলা রাখতে পারলে এশিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপ জিততে বাংলাদেশের সামনে কঠিন কোনো চ্যালেঞ্জ নয় বলেও অভিমত দিলেন রানাতুঙ্গা।

 

সদ্যসমাপ্ত শ্রীলঙ্কা সফরে লড়াকু নৈপুণ্যেই সবার নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ও টি-২০ সিরিজের সূচনায় হার সত্ত্বেও সিরিজ ড্র করেছে সফরকারীরা। জয় দিয়ে লম্বা সফর শেষ করার মিশনে সফল বাংলাদেশ। শেষ টি-২০ ম্যাচে লঙ্কানদের উড়িয়ে টাইগাররা ৩ ফরম্যাটের সিরিজের ট্রফি ভাগাভাগি নিশ্চিত করেন। লঙ্কা সফরের আগে হোম ভেনুর বাঘ খ্যাত ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও লড়াকু ক্রিকেট ও উন্নতির ধারাবাহিকতা অটুট রাখতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

 

টাইগার ক্রিকেটের সাম্প্রতিক উত্থান ফাঁকি দিতে পারেনি রানাতুঙ্গার দৃষ্টিকে। বরং কলম্বোর পোর্ট অথরিটি মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খোলামেলাভাবেই প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসের কথা। রানাতুঙ্গা বলেন, ‘তরুণ ক্রিকেটার তৈরির পাইপলাইন উন্মুক্ত রাখার কাজটি নিশ্চিত করতে হবে টাইগারদের। প্রচুর ‘এ’ ভার্সনের ক্রিকেট আয়োজন অপরিহার্য। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সফরের আয়োজনের কাজটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার বিশ্বাস, সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

 

স্বপ্ন পূরণের জন্য দেশটির তরুণ ক্রিকেটারদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের দায়িত্ব গ্রহণের মানসিকতায় নির্ভর করছে সব কিছু। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে বাংলাদেশকে। এ ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রচুর পরিমাণ ক্রিকেট নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। তাদেরকে আপাতত জাতীয় দলের সাথে মিশিয়ে ফেলা চলবে না। প্ল্যান ও প্রাথমিক কর্মপন্থা বাস্তবায়নে সফল হলে উপমহাদেশীয় বিশ্বকাপ জেতা মোটেও কঠিন হবে না বাংলাদেশের জন্য।

 

প্রথমে সেমিফাইনাল টার্গেট আমার পছন্দ। সাফল্যের অবশিষ্ট পথ সবার ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ ও ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। দারুণ কয়েকজন পেসার পেয়েছে বাংলাদেশ। গতির পাশাপাশি বৈচিত্র্য আনায়ও দারুণ সফলতা পাচ্ছেন দেশটির বাঁ-হাতি পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রয়োজন হলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাকে আগলে রাখার দায়িত্ব বাংলাদেশের। আসছে বিশ্বকাপেই তারা চমকে দেবে অন্যদের। দারুণ এক বাংলাদেশ দল খেলবে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ। মিডল অর্ডারে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান প্রয়োজন টাইগারদের। বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশকে খুঁজে পেতে হবে নিজেদের অরবিন্দ ডি সিলভাকে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.