মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বানভাসিদের বাঁচান ………..বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

গত রাত ছিল মুসলিম জাহানের এক বরকতময় পবিত্র রাত। রসুলে করিম (সা.) এ রাতে সর্বশক্তিমান, দয়ালু আল্লাহর দিদার লাভ করেছিলেন। পৃথিবীর জন্য বয়ে এনেছিলেন লাখো কোটি বরকতময় নির্দেশনা। রসুল (সা.)-এর মাধ্যমে বয়ে আনা আল্লাহর নির্দেশ যারা ধরে আছেন তারা অবশ্য অবশ্যই আল্লাহর দয়া ও ছায়া পাবেন।

সবার লেখারই একটা মাকসুদ বা উদ্দেশ্য থাকে। আমার লেখারও আছে। একজন লেখকের সব থেকে বড় সার্থকতা তার লেখা যদি কারও ভালো লাগে। শত্রু-মিত্রনির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রে সৎ থাকতে চেষ্টা করি। ভুলে কাউকে কষ্ট দিলে তা ভিন্ন কথা। কিন্তু কাউকে অবজ্ঞা বা অবহেলা করি না। বয়স হয়েছে, এখন কোনোক্রমেই অন্যকে অপমান করে নিজেকে ছোট করার চেষ্টা করি না। তাই যখন যা দেখি, যেভাবে দেখি সেভাবেই বলার চেষ্টা করি। পাঠক নাকি তাই পছন্দ করেন। গত সংখ্যায় ‘একজন বিনয়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা’ শিরোনামে আসাদুজ্জামান খান কামালকে নিয়ে দুই কথা লিখেছিলাম। ছেলেবেলায় তেমন লেখাপড়া করতাম না। তাই পণ্ডিত হতে পারিনি। লেখায় অনেক দুর্বলতা আছে, তেমন মুনশিয়ানা নেই। লেখক-সাহিত্যিকরা যেভাবে তিলকে তাল করে ফুটিয়ে তোলেন, বুকে কাঁপন জাগায়, অনেকে আবার সুড়সুড়ি দেয় আমি ওসবের কিছুই পারি না বা করি না। আসাদুজ্জামান খান কামাল সম্পর্কে লেখাটি শুনেছি অনেকের ভালো লেগেছে। বিশেষ করে সরকারপক্ষের সামর্থ্যবানদের। ভালো লাগতেই লিখি। কিন্তু কী করব, উচিত না বলে থাকতে পারি না। সত্য বলা আমার অভ্যাস। আমার সত্য অন্যের কাছে মিথ্যাও হতে পারে। কিন্তু আমি মিথ্যাকে সত্য বানাতে চেষ্টা করি না। হৃদয় যতক্ষণ কোনো কিছু সত্য বলে সায় না দেয় ততক্ষণ সত্যকেও সত্য বলে মানতে পারি না। তাই আমাকে নিয়ে অনেকেরই কিছু সমস্যা আছে। তা থাকুক। কিছু সমস্যা না থাকলে কেউ সমাধানের কথা চিন্তা করবে না। সেজন্য সমস্যা থাকা ভালো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তার একান্ত সচিবকে নিয়ে দুই কথা লিখেছিলাম। কত আর হবে এক কলামের দু-তিন লাইন। তাতেই লোকটা অত খুশি হতে পারেন ভাবতেও পারিনি। কয়েকটি অনলাইনে তার প্রতিক্রিয়া দেখলাম। তিনি বলেছেন, ‘মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে আমার নাম এটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া। আমি এমন প্রশংসা কখনো পাইনি, আশাও করিনি। ভারত উপমহাদেশের অত বড় মহান নেতা শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর একান্ত সচিব শ্রী আর কে ধাওয়ানের সঙ্গে আমার তুলনা— এ যে আমার সারা জীবনের সাধনার ফল। ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব ডা. হারুনুর রশিদ বিশ্বাস মনে হয় প্রথম প্রথম আর কে ধাওয়ানকে বুঝতে বা চিনতে পারেননি। লম্বা মানুষ সোজা চলাই পছন্দ করি। তাই আগে-পিছে কোনো বিশেষণ ছাড়াই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিবকে ইন্দিরাজির একান্ত সচিব আর কে ধাওয়ানের সঙ্গে তুলনা করেছিলাম।

সত্যিই আর কে ধাওয়ান একজন বিখ্যাত অসাধারণ মানুষ। পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় ছোট্ট আর কে ধাওয়ান তার বাড়ি আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফুট-ফরমায়েশ খাটতেন। তারপর মহান নেত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কাজ করতেন। এটাওটা আনা-নেওয়া, ফাইলপত্র সাজানো-গোছানো ওসব করতে করতে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক। তারপর ইন্দিরাজির এপিএ। তারপর ধীরে ধীরে আশির পর তার একান্ত সচিব। নিষ্ঠা আর ভাগ্য মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়। ইন্দিরাজির মৃত্যুর পর রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভায় একজন মন্ত্রী।

একটা ঘটনা বলি। পরিচিতের বিড়ম্বনা। ১৯৭৯ সালের শেষ দিকে ভারতে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেছে। ইন্দিরাজি তার উইলিংডন রোডের বাড়িতে আমাকে খেতে ডেকেছেন। মনে হয় আমি আর আরিফ আহমেদ দুলাল গিয়েছি। আমরা ইন্দিরাজির বাড়িতে ঢুকে গাড়ি থেকে নেমেছি, ঠিক তখনই এক ম্যাটাডোর এলো। তা থেকে সঞ্জয় গান্ধী নামলেন। একেবারে সামনে নেমেছিলেন। তাই আমার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভিতরে চলে যান। হ্যান্ডশেক করার সময় আমি আমার পরিচয় দিয়েছিলাম, কাদের সিদ্দিকী। মনে হয়েছিল তিনি আমাকে চিনতে পারেননি। সঞ্জয় গান্ধী চলে গেলে আর কে ধাওয়ান তার ঘর থেকে দৌড়ে এসে বললেন, ‘টাইগার সাব, ম্যাডাম আপকে লিয়ে ইন্তেজার মে হ্যায়। আপ আন্দার যাইয়ে। ’ ধাওয়ানজিই নিয়ে গেলেন। ইন্দিরাজি বসে ছিলেন। যতবার তার সঙ্গে দেখা হয়েছে মায়ের মতো পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেছি। সালাম করে পাশে বসতেই সঞ্জয়কে ডাকলেন, ‘সঞ্জয়, সঞ্জয়, ইহা আও। ’ সঞ্জয় গান্ধী এলে ইন্দিরাজি পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে বললেন, ‘তুমি ওকে চেনো? বাংলাদেশের মস্তবড় মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছেলে টাইগার সিদ্দিকী। ’ সঞ্জয় গান্ধী চমকে ওঠেন। কারণ মাসখানেক আগে সঞ্জয় গান্ধী পশ্চিমবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংগ্রামী মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে আমি তার জন্য ফুলমালা পাঠিয়েছিলাম। ফুলমালা নিয়ে গিয়েছিল নারায়ণগঞ্জের নাসিম, মৌলভীবাজারের সুলতান মনসুর, রাঙামাটির রাজা দীপঙ্কর তালুকদার, সাভারের গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, গৌড়, বৈদ্য, রক্ষীবাহিনীর বিজন সরকার, সখীপুর গজারিয়ার লুত্ফর, ভালুকা তামাইটের আবদুল্লাহ বীরপ্রতীক, আরিফ আহমেদ দুলালসহ আরও কয়েকজন। আমার তরফ থেকে ফুলমালা পেয়ে তিনি ভীষণ খুশি হয়েছিলেন এবং আমার জন্য বেশকিছু দামি উপহার পাঠিয়েছিলেন। সেই সময় সুব্রত মুখার্জি, সোমেন মিত্র, নুরুল ইসলাম, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, অজিত পাঁজা প্রায় ১০-১৫ হাজার লোকের মধ্যে আমার প্রতিনিধিদের কলকাতার নিজাম প্যালেসে সঞ্জয় গান্ধীর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, প্রদীপ ভট্টাচার্য, আবদুল মান্নান, এ বি এ গনি খান চৌধুরী, অশোক সেন, এমনকি ভারতের বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জিসহ সবাই আমাকে খুব ভালোবাসতেন, সহযোগিতা করতেন। তাদের নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো বিরোধ থাকলেও আমাকে নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল না। মহিলাদের মধ্যে শ্রীমতি ফুলরেণু গুহসহ আরও অনেকের কাছে ছিলাম খুবই প্রিয়। নামের কী বিড়ম্বনা! টাইগার সিদ্দিকীকে সঞ্জয় গান্ধী চেনেন জানেন, উপহার পাঠান কিন্তু কাদের সিদ্দিকীকে জানেন না। সেই রাতে ইন্দিরাজি নিজ হাতে আমাদের খাইয়েছিলেন। ধাওয়ানকে নিয়ে বলছিলাম। জনতা পার্টি সরকারের সময় কংগ্রেসের ছিল খুবই দুর্দিন। কিছু দিনের মধ্যে কংগ্রেস দুই ভাগ হয়। ইন্দিরাজি গঠন করেন ইন্দিরা কংগ্রেস। প্রবীণরা সব কংগ্রেসে থেকে যান। অল্প কয়েকজন এআইসিসির সদস্য ইন্দিরাজির সঙ্গে যোগ দেন। তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রী প্রণব মুখার্জি, এ বি এ গনি খান চৌধুরী ও অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নরসিমা রাও। তারপর অনেক কথা, অনেক ঘটনা। সর্বোদয় নেতা শ্রী জয়প্রকাশ নারায়ণের সঙ্গে যোগাযোগ, মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারে তার অংশগ্রহণ না করা— এসবই পরের কথা। কিন্তু সেই চরম দুঃসময়ে অনেকে ইন্দিরাজিকে ছেড়ে গেলেও শ্রী ধাওয়ান যাননি। তা ছাড়া যখনই যেখানে তার সঙ্গে দেখা হয়েছে সদা হাসিমুখ দেখেছি। কখনো তার মুখ কালো বা মলিন দেখিনি। এমনকি শাহ কমিশনের চরম নির্যাতন-নিপীড়নের সময়ও তিনি ছিলেন অটল, অবিচল। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের একান্ত সচিব ডা. হারুনুর রশিদ বিশ্বাসের সঙ্গে আর কে ধাওয়ানের তুলনা করেছিলাম। তার ভালো লেগেছে এটাই ভালো কথা।

অসময়ে পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সেখানকার মানুষের কষ্ট দূরে থাকা শহুরে চোখে কেউ বুঝতে পারবে না কার অবহেলায় মানুষের ওপর এমন দুর্ভোগ নেমে আসে। বছর বিশেক আগে এক রাজনৈতিক সফরে দলবল নিয়ে ইটনার কাটখালে এক ধনী বাড়িতে রাত কাটিয়েছিলাম। বিরাট গৃহস্থ। প্রতি বছর পাঁচ-সাত হাজার মণ ধান পান। পরপর দুবার ঢলে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তিনি তখন প্রায় সর্বস্বান্ত। নব্বইরয়ের পর প্রায় পাঁচ-সাত বছর সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর পর্যন্ত ছোটাছুটি করেছি। বর্ষায় যেমন শুকনো মৌসুমেও তেমন। জায়গাগুলো চোখ বন্ধ করেও দেখতে পাই। পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো কোনো জায়গায় সাত-আট ফুট পাশ মাটির বাঁধ দিয়েছে। বাঁধগুলো কেন দিয়েছে বলতে পারব না। প্রতি বন্যা বা ঢলে বাঁধগুলো ভাঙবে আর তারা ঠিকাদারদের সঙ্গে ভাগ-বাটোয়ারা করে পয়সা নেবে। লোকজন সর্বস্বান্ত হবে— এই যদি পরিকল্পনা হয় তাহলে ঠিকই আছে। আর তা যদি না হয় বাঁধগুলো আরও শক্ত মজবুত বড়সড় করতে অসুবিধা কোথায়? বাঁধগুলোর ওপর কংক্রিটের রাস্তা বানানো যেতে পারে। তাতে মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হতো, অন্যদিকে অসময়ের ঢলে খেতখামার তলিয়ে মানুষ সর্বস্বান্ত হওয়া থেকে বাঁচত। কেন ওভাবে কাজ হয় না বলতে পারব না। কদিন আগে ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম। একই বিমানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সঙ্গে পাশাপাশি বসেছিলাম। আশির দশকে কলকাতা থেকে দিল্লির পথে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের বিমানে তার সঙ্গে প্রথম দেখা। তিনি তখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আমি ছিলাম ইকনোমি ক্লাসে। তিনি বিজনেস ক্লাস থেকে উঠে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সেদিনই ভদ্রলোককে আমার বেশ ভালো লেগেছিল। কিন্তু হাওর-বাঁওড়ের দুর্গত মানুষদের প্রতি মনে হয় তেমন দয়া-মায়া-দরদ নেই। থাকলে বার বার এমন হতো না।

হুজুর মওলানা ভাসানী বেঁচে থাকতে মাঝেমধ্যে গোখাদ্যের জন্য মিছিল-মিটিং করতেন। কিন্তু বুঝতে পারতাম না গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির খাবারের জন্য অমন করেন কেন। এখন বয়স হয়েছে, এখন বুঝতে পারি। গরিব কৃষকের শুধু পেটের সন্তানই প্রকৃত সন্তান না। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও তাদের সন্তান। অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের চেয়েও বেশি। হাওর-বাঁওড়ের মানুষের ধান গেছে, ভেবেছিল মাছ ধরে খাবে। সেই মাছেও মড়ক। খেত গেছে, মাছ মরছে এখন মানুষ মরবে তারপর সরকার দুর্গত এলাকা ঘোষণা করবে। অসভ্য বিবেকহীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব বলেছেন, ‘দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের ২২ ধারায় কোনো এলাকার অর্ধেক মানুষ মারা না গেলে সে এলাকাকে দুর্গত ঘোষণা করা হয় না। অনেকে না বুঝেই হাওর এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে বলছেন। সেখানে একটা ছাগলও তো মরেনি। ’ হায়রে কপাল! এর পরও সেই সচিব গরিব মানুষের টাকায় ফুর্তি করে বেড়ান? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, প্রতি মাসে প্রতি পরিবারে ৩০ কেজি চাল আর ৫০০ টাকা দেওয়া হবে। গরিবের সঙ্গে আর কত তামাশা করা হবে? ৫০০ টাকা এখন একজন শ্রমজীবী মানুষের দৈনিক মজুরি। আর কোনো গরিব পরিবার একজন দুজনকে নিয়ে নয়। চার-পাঁচ জনের নিচে গ্রামে কোনো পরিবার নেই। ১৫ কেজি চালের নিচে একজনের মাস যায় না। আর গরিব মানুষের ভাত বেশি লাগে। তাদের অনেকের ১৫ কেজিতেও মাস যাওয়ার কথা নয়। প্রতি পরিবারে অন্তত ১০০ কেজি চাল আর মাসে ৫ হাজার টাকা আবার ফসল ওঠা পর্যন্ত বরাদ্দ করলে সরকারের কী এমন ক্ষতি হতো? কিন্তু সেই পঞ্চাশ-ষাট দশকের বরাদ্দ যদি এখন করা হয় তাকে তামাশা ছাড়া আর কী বলা যায়?

২২ এপ্রিল শনিবার ‘গুরুত্বহীন ফ্যাকাশে মুজিবনগর দিবস, মায়ের খোরপোশের দাবি’ শিরোনামে আমাদের সময়ে একটি লেখা ছিল। তার নিচেই ‘অর্ধেক মানুষ মারা না গেলে আবার কিসের দুর্গত এলাকা’ শিরোনামে কথাসাহিত্যিক জয়া ফারহানার একটি লেখা পড়ে অভিভূত ও মুগ্ধ হয়েছি। ইদানীং অমন হৃদয়কাড়া লেখা খুব একটা পড়িনি। লেখাটি আমার আত্মার খোরাক জুগিয়েছে। শহুরে লেখাপড়া জানা একজন মহিলার অমন দরদ অমন ভাবনা, বিবেকহীন নিষ্ঠুর সমাজের সঙ্গে চলতে চলতে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। শরত্চন্দ্রের গফুরের কাছে আমেনা আর মহেশ যে এক— অনেকেই তা ভাবতে পারেন না, ভাবেনও না। আমেনার দুই মুঠো ভাতের জন্য গফুরের চিন্তা মহেশের এক মুঠো বিচালির চেয়ে কম নয়। আমি গ্রামে গ্রামে ঘোরা ছেলেবেলায় পালিয়ে বেড়ানো মানুষ। রাত-দিন দুষ্টামি ছিল আমার প্রধান অবলম্বন। আমি আমার দীপ-কুঁড়ি-কুশিকে যে আদর-সোহাগে ডাকাডাকি করি, গ্রামের কোনো বধূ তার হাঁস-মুরগিকে তার চেয়ে খুব একটা কম আদরে তি-তি, তৈ-তৈ বলে ডাকে না। কুশিমণি মাকে ডাকলে তার মা যেভাবে ছুটে আসে, চাঁড়িতে বাঁধা পালের গরুর হাম্বা ডাকে কিষান-কিষানি তার চেয়ে খুব একটা কম আবেগে গরুর কাছে ছুটে যায় না। এসব কীভাবে কাকে বোঝাব? এ সমাজ ও সভ্যতা বড় বেশি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কে দাঁড়াবে বানভাসি হাওরের মানুষের পাশে?

প্রধানমন্ত্রী, ১৯৭৩-৭৪-এ দুর্ভিক্ষকবলিত রংপুরের মানুষের দুঃখে আপনার পিতাকে তার মাথার চুল ছিঁড়তে দেখেছি। আপনি একটু উদ্যোগী হয়ে ভাটি বাংলার দুঃখী মানুষদের বাঁচান। কত আর লাগবে, দু-তিন হাজার কোটি টাকা; যা সরকারের ফেলে দেওয়া ছেঁড়া কাগজের দামের সমানও নয়। এ সময় মানুষের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ আপনাকে দয়া করবেন।

লেখক : রাজনীতিক।

সূত্র: http://www.bd-pratidin.com

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.