ব্রেকিং নিউজ :

সখীপুরে খোলাঘাটা সেতু নির্মাণে ধীরগতি ; চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

 

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু :
টাঙ্গাইলের সখীপুর ও বাসাইল উপজেলার সংযোগ সড়কের বংশাই নদীর ওপর খোলাঘাটা সেতুর কাজ কার্যাদেশ পাওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্ধেশনা থাকলেও চার বছরে ওই সেতুর ৬০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি । বাকি কাজ শেষ করতে আরও কতদিন লাগবে-সংশ্লিষ্ট কেউ এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি। সেতুটির নির্মাণ কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই এলাকার লোকজন।

স্থানীয় এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের খোলাঘাটা এলাকায় বংশাই নদীর ওপর ৯০ মিটার দৈর্ঘের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৬১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। মেসার্স রহমান কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশে ঠিকাদারকে ১৮ মাস সময় বেধে দিলেও কাজের ধীরগতির কারণে ওই সময় সীমার মধ্যে মাত্র ৩০ ভাগ কাজ শেষ হয়। এরপর কয়েকবার ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময় বাড়িয়ে নিলেও প্রায় চার বছরেও ওই সেতুর ৬০ ভাগ নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি।

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মাত্র কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছে। কাদের নামের এক শ্রমিক বলেন, যেভাবে কাজ চলছে, এভাবে চলতে থাকলে, কাজটি শেষ হতে দু বছর লেগে  যাবে।

দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাইফুল ইসলাম শামীম বলেন, চার বছর আগে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এতোদিনেও ওই সেতুর ৬০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি। তিনি  জানান, সেতুটি নির্মিত হলে দুটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত সুবিধা হবে।  বর্ষাকালে খেয়া নৌকা নিয়ে এপার-ওপার পাড় হতে দুই উপজেলাবাসীর মালামাল বা পণ্য পরিবহনে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে আসতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সেতুটির কাজ শুরু থেকেই ডিলেডালা অবস্থায়  চলছে। নির্মাণ শ্রমিকেরা একদিন কাজ করলে বাকী ছয়দিনই আর খবর থাকেনা।

কাজের ধীরগতির ব্যাপারে মেসার্স রহমান কনস্ট্রাকশন এ প্রতিনিধি নজরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে বলে জানান ।

এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ কুদ্দুছ  জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে  সেতু কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ ওই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে এ বিষয়ে তিনিও কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

টাঙ্গাইলের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, সেতুটি নির্মাণে ঠিকাদারকে  চলতি বছরের জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান ।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.