টাঙ্গাইলের ভাাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ বর্ষেও হল পায় না শিক্ষার্থীরা

 

 

 

সাইফুল মজুমদার,মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাসের অভাবে তীব্র আবাসন সংকটে ভুগছেন। ছাত্রাবাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচের বাইরেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প আসনের হল গুলোতে রয়েছে নানান সমস্যা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়ণরত ৫০৯১ শিক্ষর্থীর ৮০ ভাগই আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে আবাসন সংকটে রয়েছে বিপুল সংখ্যক অনাবসিক শিক্ষার্থী।

 

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবাসন সংকটের কারনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের পাশে মেস কিংবা বাসা ভাড়া করে থাকছেন। এই আবাসন সংকট কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকাগুলোতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে মেস ও ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার রমরমা ব্যবসা। এসব মেস ও বাসায় প্রতিনিয়ত লোডশেডিং, থাকার নোংরা পরিবেশ ও বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের অনাবসিক শিক্ষার্থী শাহনেয়াজ প্রিতম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ বর্ষে উঠার পরেও হলে আবাসন ব্যবস্থাপনা থাকায় বাধ্য হয়ে আমাকে থাকতে হচ্ছে মেসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না নিশ্চিত করতে পাড়ায় আমাদের ঝুঁকি নিয়ে এসব জরাজীর্ণ মেসগুলোতে থাকতে হচ্ছে। মেসগুলোতে নেই সার্বক্ষণিক বিদ্যু ব্যবস্থা, ফলে পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়াও নেই কোনো নিরাপত্তা, ফলে আমাদের প্রায়ই ছুরি হচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র।

 

 

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরে এ পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে মাত্র ৫টি হল (তিনটি স্বল্প আসনের)। এর মধ্যে ৩টি ছাত্র ও ২টি ছাত্রী হল। পুরাতন ২টি হলের নতুন করে সম্পসারনের কাজ চলছে। এসব হলের আবাসন সংখ্যা মাত্র ৯১৯ টি। হল অফিস সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান হলে ৭৩ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৪০০ জন, শহীদ জিয়াউর হলে ৫৪ জন, আলেমা খাতুন ভাসানী হলে ৮৮ জন এবং শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হলে ৩০৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন সুবিধা রয়েছে।

 

 

 

আবাসন সংকটের কারনে ছাত্রদের থেকে ছাত্রীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। হলের অনেক রুমে ছাত্রীদের ডাবলিং করে থাকতে হয়। আবার অনেকে থাকছেন গনরুম গুলোতে। আর যাদের গনরুমেও জায়গা হয়নি তাদের বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের আশপাশের মেসগুলোতে। এসব এলাকাতেও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থান।

 

 

 

মেসে অবস্থানরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় বর্ষে উঠার পরেও হলে আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাকে থাকতে হচ্ছে মেসে। পোহাতে হচ্ছে নানা রকম সমস্যা। গুনতে হচ্ছে অধিক পরিমান ভাড়া। এছাড়াও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সংকটের কথা স্বীকার করে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইন্জি. মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, একটি ছাত্র হল ও একটি ছাত্রী হল খুব শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট কিছুটা হলেও নিরসন হবে বলে আমরা আশা করছি।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.