ব্রেকিং নিউজ :

সখীপুরে মাদকে ছড়াছড়ি; জড়িত রাজনৈতিক নেতা, নারী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা

 

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু :
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার পৌর শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিনদিন মাদকের ভয়াবহতা বেড়েই চলছে। ঈদকে সামনে রেখে বড় ধরনের একটি মাদকের চালান মাদক ব্যাবসায়ীদের হাতে এসেছে বলেও গুঞ্জন ওঠেছে। সখীপুরে যত্রতত্র চোলাইমদ, হেরোইন, ইয়াবা, ভাং, তারী, অনুমোদনহীন বিভিন্ন ব্রান্ডের এনার্জি ড্রিংক, ড্যান্ডি ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের নেশার জমজমাট ব্যবসা চলছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী একটি মহল নিজেদের অর্থায়নে মাদক ব্যবসার কাজে একশ্রেণির নারী, বখাটে ও স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে। মাদকের সহজলভ্যতায় সবচেয়ে বেশী আসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া উঠতি বয়সের কিশোর ও যুব সমাজ। উপজেলার বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাথে মাদকদ্রব্য গ্রহণের ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। উল্ল্যেখ যোগ্য ঘটনার মধ্যে মাদক গ্রহণে বাঁধা দেওয়ায় সখীপুর পৌর কাউন্সিলর বাদল হোসেন বাদুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা, মাদকসেবনে বাঁধা দেওয়ায় জামিল(১৬) আত্মহত্যা, সখীপুর মুজিব অনার্স কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস রানানাকে (২০) মাদকে বাধা দেওয়ায় ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা, মাদকাসক্ত ছেলেকে বাবা নিজ হাতে পুলিশে তুলে দেওয়া অন্যতম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ফার্মেসীতে পাওয়া কাঁশের সিরাপের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে কিংবা বাজারে পাওয়া সহজলভ্য এক ধরণের ড্যান্ডিকে (আঠা জাতীয়) স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা নেশা হিসেবে বেশি ব্যবহার করছে। সখীপুর পৌর শহর থেকে শুরু করে প্রতিটি ইউনিয়নের বাজারগুলোতে দখল করে আছে অনুমোদনহীন যৌন উত্তেজক ও নেশা জাতীয় নানা ধরনের এনার্জি ড্রিংক। সখীপুর পৌরসভার পুরাতন পৌরভবন এলাকা,কালিদাস রোডের প্রেম নগর ও যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনে রাতের শেষে পাওয়া যায় মদ,ড্যান্ডি,বিয়ারসহ নানা রকম নেশা জাতীয় দ্রব্যের খালি মোড়ক। পৌর এলাকার জামতলী, মাজারপাড়, কানারমোড়, পীচের মাথা, জেলখানা মোড়, মুজিব কলেজ মোড়সহ উপজেলার দেবরাজ, ধোপারচালা, নয়াপাড়া, ঘাটেশ্বরী, কালিদাস, হতেয়া, তক্তারচালা, বহেড়াতৈল, প্রতিমা বংকী, শোলা প্রতিমা, দাড়িয়াপুর, শালগ্রামপুর,লাঙ্গুলিয়া, বেতুয়া, কীর্ত্তণখোলা, কালিয়ানপাড়া, গজারিয়া, কালমেঘা, বহুরিয়াচতলবাইদ, নলুয়া, বেড়বাড়ী চৌরাস্তা , রতনপুর বাজার, মহানন্দপুর, কচুয়া বাজার ও বড়চওনা বাজার এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবস্যায়ীরা সক্রিয় তৎপর রয়েছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত সিকদার বলেন, যত্রযত্র নেশার উপকরণ পাওয়ায় আজ স্কুল কলেজ পড়ুয়া তরুণ ও যুব সমাজ ধ্বংস হতে চলেছ। বেড়েছে নানা অপরাধ প্রবণতা। উঠতি বয়সের ছেলেদের মায়াভরা মুখগুলো দেখলে যেখানে আদর করতে ইচ্ছা করবে, তার পরিবর্তে তাদের চোখে-মুখে এখন দেখা যায় নেশার উগ্র ছাপ।
সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকছুদুল আলম বলেন, প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমী সরকার রাখী বলেন, চিহ্নিত এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.