মির্জাপুরে ঈদের আগে ভিজিএফ পাচ্ছেন না দরিদ্র মানুষ!

 মির্জাপুরে ঈদের আগে ভিজিএফ পাচ্ছেন না দরিদ্র মানুষ। খাদ্য গুদামে চাহিদামত খাদ্য না থাকায় ভিজিএফ বিতরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খাদ্য গুদামে চাহিদামত চাল কিংবা গমের মজুদ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খাদ্য গুদাম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র মতে, সরকার প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ উপকারভোগী দরিদ্রদের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করে থাকেন। তবে এ বছর সংকটের কারণে ১০ কেজি চালের সমপরিমাণ মূল্যের ১৩ দশমিক ২৭০ গ্রাম গম বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মির্জাপুর পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের জন্য ২৭ হাজার ৯৯৩টি কার্ডের বিপরীতে ৩৭১ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু মির্জাপুর খাদ্য গুদামে মাত্র ৯৫ মেট্রিক টন গমের মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ঈদের আগে ভিজিএফ বিতরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলার আজাগানা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সিকদার, ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন, বাশতৈল ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন ও মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া জানান, দরিদ্রদের মধ্যে ঈদের আগে ভিজিএফের চাল দেয়ার সকল প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। কিন্তু ঈদের আগে বিতরণ করা হবে কিনা তা তারা জানতে পারেননি।

মির্জাপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কনক কান্তি দেবনাথ সাংবাদিকদের জানান, ভিজিএফ বিতরণের জন্য ৩৭১ টন গমের চাহিদার বিপরীতে মির্জাপুর খাদ্য গুদামে মজুদ রয়েছে মাত্র ৯৫ টন গম। নারায়ানগঞ্জ থেকে গম আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবহন ঠিকাদার মহাসড়কে যানজটের কারণে গম পাঠাচ্ছেননা। ফলে দরিদ্রদের ভিজিএফ বিতরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তবে গম আসা মাত্রই তা সংশ্লিষ্ট উপকারীভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার এ বছর কেজি প্রতি ৩৪ টাকা দরে চাল কিনতে চেয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে মোটা চাল ৩৭-৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একারণে মির্জাপুরের চাল কলের মালিকেরা চাল সরবরাহ করছেননা। তাছাড়া মির্জাপুরে চাল সরবরাহের জন্য আটটি চালকল থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র একটি চালকলের মালিক তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেনের সঙ্গে যোগোযোগ করা হলে তিনি বলেন, খাদ্য গুদামে চাহিদা মত গম না থাকায় ঈদের আগে দ্ররিদ্রদের ভিজিএফ দেয়া হবে না। ঈদের পরে দেয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.