ব্রেকিং নিউজ :

সখীপুরে বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত ৩০ কোটি টাকার আম নিয়ে বিপাকে চাষিরা

 

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু :
উপজেলায় অন্য বছরের চেয়ে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত আমের বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। কৃষি বিভাগের জোর তৎপরতা এবং স্থানীয় আম চাষিদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণের কারণেই বিষমুক্ত আম পাকানোর চরম সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এ উপজেলার আম চাষিরা। বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত ৩০ কোটি টাকার আম নিয়ে বিপাকে পড়েছে চাষিরা। আম চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে আমচাষীর সংখ্যা। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে হারে আমচাষে কৃষকরা এগিয়ে আসছেন এতে করে অল্পদিনেই সখীপুর আম চাষে চাপাইনবাবগঞ্জকেও ছাড়িয়ে যাবে ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ উপজেলার ২০ জন চাষীকে ১০০ টি করে আ অামরুপালি চারা দিয়ে প্রদর্শণী প্লট করে দেন। তিন বছরের মাথায় ওইসব প্রদর্শণীতে আমের ব্যাপক ফলন পেতে থাকে চাষীরা। এর পর থেকেই সখীপুরে শুরু হয় ব্যাক্তি উদ্যোগে আম চাষ। সখীপুরে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪’শ আমচাষী ৭’শ একর জায়গা জুরে আম চাষ করছেন। এছাড়া প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট আকারের অসংখ্য আম বাগান রয়েছে। এ সব আম বাগান থেকে চলতি মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২০০ মে.টন। উৎপাদিত আমের বাজার দর হবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এখানে দুর্লভ বারি-৪ ছাড়াও মল্লিকা, পালমার, পাল্লুতান, মহানন্দা, গোপালভোগ, গোপাল খাস, প্রাপ্তি, দশোরী, বিশ্বনাথ চ্যাটার্জি, ফজলি, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগসহ প্রায় ৩৬ জাতের আম এখানে চাষ হচ্ছে। তবে সখীপুরের মাটি আমরুপালি’র (বারি-৪) জন্য বেশি উপযোগি বলে আম চাষিরা জানান। সখীপুরের চাহিদা পূরণ করে এখানকার আম চলে যাচ্ছে জেলা শহর টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। যারা বাড়ির ওঠোনে আম বাগান করেছেন তারা পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারগুলোতে আম বিক্রি করছেন। প্রকার ভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি হচ্ছে। মাটির গুণাগুন অনুসারে সখীপুর আম উৎপানের জন্য উপযোগী বলে কৃষিবিদরা জানান। অন্য ফসলের চেয়ে আম বাগান অধিক লাভজনক হওয়ায় এ চাষে এখন অনেকেই এগিয়ে এসছেন। আমবাগান করে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বীও হয়েছে বহু অস্বচ্ছল পরিবার।
উপজেলার অভিজ্ঞ ও বড় আম চাষি আম দেলোয়ার বলেন, সখীপুরের মাটি ও পরিবেশ আম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতেই ঢাকার কারওয়ান বাজার, বাদামতলী, সদরঘাটসহ দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে বেপারীরা এখানকার আম বাগান আগাম কিনে নেন বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন সখীপুরে আমের সংরক্ষনাগার থাকলে চাষিরা আরও অধিক লাভবান হতেন। দিনদিন আম বাগান বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত আমের ফলন হওয়ায় আম চাষিদের কল্যাণে দ্রুত একটি আম গবেষণা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানান।
আমচাষী আবদুল মতিন বলেন, সখীপুরে উৎপাদিত আমের বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা লাভের বড় অংশ লোফে নিচ্ছেন। বিপণনের স্বার্থে কানসাটের মতো আমের বাজার স্থাপন করা দরকার।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা ফায়জুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সখীপুরের মাটিতে এক ধরণের খনিজ উপাদান রয়েছে যা আম উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং আম মিষ্টি’র জন্যও সহায়ক। চাষিদের কল্যাণে দ্রুত একটি আম সংরক্ষনাগার ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন পাঠিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.