সখীপুরে পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে রাজী না হওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত

 

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু :
টাঙ্গাইলের সখীপুরে চার মাসের পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় স্বামী-শ্বাশুড়ি মিলে পারভীন আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতেই গৃহবধূ পারভীন আক্তারকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর গ্রামের দিনমজুর শাবদুল মিয়ার শারিরীক প্রতিবন্ধী মেয়ে পারভীন আক্তার (২৮) সাথে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের খেজিবুর রহমানের ছেলে আবদুল হাইয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে পারভীন আক্তার অন্তস্বত্তা হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মাতাব্বর মিলে এক মাস আগে প্রেমিক আবদুল হাইয়ের সঙ্গে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী আবদুল হাই ও শ্বাশুড়ি মিলে পারভীনের গর্ভের চার মাসের পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার শালিশী বৈঠকও হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় পূণরায় স্বামী ও শ্বাশুড়ি মিলে পারভীনের ওপর নির্যাতন শুরু করে। খবর পেয়ে ওই রাতেই মুমূর্ষ অবস্থায় পারভীনকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পারভীন আক্তার বলেন, আমার গর্ভের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে চাই। সেটি নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় স্বামী ও শ্বাশুড়ি মিলে আমার ওপর এ নির্যাতন চালিয়েছেন। সে তাঁর স্বামী ও শ্বাশুড়ির দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বেশ কয়েক দফা সালিশ করা হয়েছে। তিনিও অসহায় মেয়েটির নির্যাতনকারীর বিচার চান।
এ ব্যপারে স্বামী আবদুল হাইয়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজী হননি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.