সখীপুরে কলা পাকাতে বিষাক্ত কেমিক্যাল

 

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু :
টাঙ্গাইলের সখীপুরে কলা পাকাতে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশানো হচ্ছে । চিকিৎসকরা বলছেন কলা পাকানোর কাজে যেসব বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশানো হচ্ছে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুকিপুর্ণ। কেমিক্যাল মিশ্রিত কলা খেয়ে জীবনহানির সম্ভাবনার কথাও তারা উড়িয়ে দেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর, বড়চওনা, কচুয়া, তক্তারচালা, নলুয়া, দেওদিঘী, কালিদাস, কামালিয়াচালাসহ বিভিন্ন হাট বাজারে যেসব কলা বিক্রি করা হচ্ছে তার শতভাগ কলাই বিষাস্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে কলা পাঁকানো ও রং সুন্দর করতে ব্যবসায়ীরা এ বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে থাকেন।
নাক প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কলার বেপারী বলেন, তাঁরা দ্রুত কলা পাকানোর কৌশল হিসেবে বাগান থেকে কলা কেনার পর কলায় প্রমোট ও রিপেনসহ নানা ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে থাকেন। ওই কেমিক্যাল মিশ্রিত কলা দুই-এক দিনের মধ্যেই নরম ও হলদে রং ধারণ করে খাবার উপযোগী হয়। যা তাদের বিক্রি করতে সহজ হয়।
কেমিক্যাল মেশানোর পক্রিয়া বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, বাগান থেকে কলা কাটার পর সেগুলো ফানায় ফানায় পৃথক করা হয়। এক পর্যায়ে বালতি বা ড্রামের মধ্যে পানির সাথে কেমিক্যাল মিশিয়ে তাতে কলার ফানা চুবিয়ে ওঠানো হয়। পরে বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ওই কলা তারা বিক্রি করেন। একই পন্থায় সব বেপারীরাই কলা পাকিয়ে বিক্রি করে থাকেন বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে নলুয়া বাজারের এক খুচরা কলা বিক্রেতা জানান, বেপারীরা কলায় কি মেশান তা তারা জানেন না। তারা বেপারীদের কাছ থেকে কিনে আনেন আর বাজারে পসরা সাজিয়ে তা খুচরা গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করেন।
বিষাক্ত এসব দাহ্য পদার্থ মিশানো কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জানিয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থকর্মকর্তা ডা. রাফিউল করিম খান জানান, কেমিক্যাল মিশ্রিত কোন খাদ্য গ্রহণ করলে তার প্রভাব পড়ে লিভার এবং কিডনীর উপর। ওইসব খাদ্য গ্রহণের পর তা দাহ্যে পরিণত হওয়ার পর নিঃসরণ ঘটে লিভার এবং কিডনীর মাধ্যমে। ফলে কেমিক্যাল মিশানো খাদ্য শরীরের এই দুটি অংশের উপর প্রভাব ফেললেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিডনীকেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফায়জুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, খাদ্যে কেমিক্যাল ব্যবহারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদি কেউ এ ধরনের কাজে জড়িত থাকে তবে তার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.