ব্রেকিং নিউজ :

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে চলন্ত বাসে এলএলবি’র ছাত্রী গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে মধুপুর থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত রূপা খাতুনের (২৩) বাড়ী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াস উপজেলার আসানবাড়ী গ্রামে। তার পিতার নাম- মৃত জিলহাজ প্রমাণিক। রুপা খাতুন অনার্স শেষ করে ঢাকা আইডিয়াল ল কলেজের এলএলবি’র শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিল।

এ বিষয়ে মধুপুর থানা পুলিশ বাদি হয়ে শনিবার হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর থেকে অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চালায় পুলিশ।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার রাতে মধুপুর-ময়মনসিংহ সড়কের বনের ভেতর রাস্তা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সোমবার রাতে তার স্বজনরা থানায় এসে লাশের ছবি দেখে তরুণীকে তাদের আত্মীয় রূপা খাতুন (২৩) বলে শনাক্ত করেন। তাদের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে মঙ্গলবার সকালে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী ছোয়া পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৬৩) চালক, কন্ট্রাকটার ও হেলপারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- জাহাঙ্গীর (২০), আকরাম (৩০), শামীম (৩৫), বাসচালক হাবিব (৩৮) ও বাসের সুপারভাইজার গেন্দু (৩২)। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের উপস্থিত করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত থাকার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার জন্য তাদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

নিহতের বড় ভাই হাফিজুর রহমান ও মধুপুর থানা পুলিশ জানায়, নিহত রূপা খাতুন বাংলাদেশ ইউনিলিভার কোম্পানিতে শেরপুর জেলায় প্রমোশনাল ডিভিশনে চাকরি করতো। গত শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সে নিবন্ধন পরীক্ষা দেয় বগুড়া জেলায় এসে। এরপর সে পরীক্ষা শেষে শেরপুরের উদ্দেশে ময়মনসিংহগামী ছোয়া পরিবহনের একটি গাড়িতে উঠে। পরে রাতে ওই চলন্ত গাড়িতেই তাকে গণর্ধষণ করার পর হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায় ধর্ষকরা।

রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকার বনাঞ্চলের রাস্তার ধারে এক তরুণীর রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকার খবর পায় মধুপুর থানা পুলিশ। শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে অপরাধীরা নিরাপদ ভেবে অজ্ঞাত ওই তরুণীর লাশ বনের ভেতর সড়কে ফেলে রেখে যায়।

পরে মধুপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে অফিসার ইন চার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম, অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলামসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে আসেন।

নিহতের বড় ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, “ওই রাত এবং পরদিন রূপা বাড়ি না ফেরার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে সোমবার রাতে মধুপুর থানায় উপস্থিত হয়ে লাশের ছবি দেখে পরিচয় সনাক্ত করি। পুলিশ লাশের পরিচয় না পেয়ে রূপার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে।”

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.