ব্রেকিং নিউজ :

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের দুই চিকিৎসক ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত: চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স
একমাত্র শিশু কনসালটেন্ট দুই বছর ধরে ডেপুটেশনে 

মেডিকেল অফিসার ছুটি ছাড়াই চার বছর

 

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু:
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক (ইএমও) মো.সেলিম ভূঁইয়া সাত দিনের ছুটি নিয়ে দীর্ঘ চার বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। অপরদিকে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের একমাত্র শিশু কনসালটেন্ট ডা. জাহাঙ্গীর আলম গত দুই বছর ধরে সখীপুরের স্থলে ডেপুটেশনে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী দেখছেন। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শিশুসহ অন্য রোগীরা দৈনন্দিন তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চার বছর অনুপস্থিত থাকা ডা. সেলিম ভূইয়ার বিরুদ্ধে শিগগির বিভাগীয় মামলা এবং সখীপুরের একমাত্র শিশু কনসালটেন্ট জাহাঙ্গীর আলমকে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাঁর কর্মস্থল সখীপুরে ফিরিয়ে আনা হবে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রাফিউল করিম খান জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৮ অক্টোবর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার (ইএমও) পদে যোগ দেন ডা. সেলিম ভূঁইয়া। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই সাত দিনের ছুটির আবেদন করে আর তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। অনুপস্থিত ওই চিকিৎসককে কর্মস্থলে ফিরে আসার বিষয়ে বহুবার টাঙ্গাইল সিভিল সার্জনসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডা. সেলিম বর্তমানে নেপালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর দেশে ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই। ওই চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের একমাত্র শিশু কনসালটেন্ট ডা. জাহাঙ্গীর আলম ২০১৫ সালে সখীপুরে যোগদান করেই ডেপুটেশনের চলে যান টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বেতন নিচ্ছেন সখীপুরের নামে কাজ করছেন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাফিউল করিম খান বলেন, ওই দুই চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো হয়েছে। পদগুলো শূণ্য না হওয়ায় নতুন করে কোনো চিকিৎসক পদায়নও দেয়া যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. শরীফ হোসেন খান বলেন, ‘বিনা অনুমোদিতে অনুপস্থিত চিকিৎসকের বিষয়টি তিনিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.