বাসাইলে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে মডেল টেস্ট ॥ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

বাসাইল প্রতিনিধি:
আগামী ১ নভেম্বর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বোর্ড পরীক্ষার সময়সূচীর এক সপ্তাহ হাতে রেখেই ১১ অক্টোবর থেকে বাসাইলের সকল স্কুল-মাদরাসায় এক যোগে নেওয়া হচ্ছে মডেল টেস্ট পরীক্ষা। শেষ হবে ২৩ অক্টোবর। সরকারি নিয়মকে অমান্য করে উপজেলা শিক্ষক সমিতি এ মডেল টেস্ট পরীক্ষা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, পরীক্ষার নাম করে মাসিক বেতন ও অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি আদায় করছেন শিক্ষকরা। শুধু তাই নয় এ পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্যও করা হচ্ছে। মডেল টেস্ট পরীক্ষার ফি ধরা হয়েছে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা। পরীক্ষার ফি’র সাথে অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বেরের মাসিক বেতনও নেওয়া হচ্ছে। তারা আরো জানায়, মডেল টেস্ট পরীক্ষার খাতা দেখার আগেই বোর্ড পরীক্ষা শুরু হবে। এ পরীক্ষা কোন কাজেই আসবে না শিক্ষার্থীদের বরং তাদের ক্ষতি হবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশিল কেবিএন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক জেএসসি পরীক্ষার্থী জানান, বোর্ড পরীক্ষার মাত্র ৭দিন হাতে রেখে এ মডেল টেস্ট পরীক্ষা, এটা আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফি হিসেবে নেওয়া হয়েছে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা করে। মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশ না নিলে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না এমনও ভয় দেখিয়েছে শিক্ষকরা। নিরুপায় হয়ে আমরা অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরের বেতনও পরিধোশ করেছি।

অন্যান্য বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থীরা আরো জানায়, আমাদের বোর্ড পরীক্ষার সিলেবাস শেষ না করেই মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর বোর্ড পরীক্ষা, এতে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে পারছিনা। মডেল টেস্ট পরীক্ষা শেষ না হতেই ১ নভেম্বর অর্থাৎ এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হবে জেএসসি পরীক্ষা। এতে আমরা চরম হতাশায় আছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ১১ অক্টোবর বাংলা ১ম পত্র দিয়ে শুরু হয়েছে মডেল টেস্ট পরীক্ষা। শেষ হবে ২৩ অক্টোবর। শিক্ষার্থীরা ১১ তারিখে বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা দিয়েছে তারা আর ২৩ তারিখের আগে বাংলা বইয়ে হাতও দিতে পারবে না। মাত্র এক সপ্তাহ পরেই বোড পরীক্ষা। এই মডেল টেস্ট পরীক্ষা বোর্ড পরীক্ষার মাত্র এক সপ্তাহ আগে নেওয়ার কোন প্রয়োজন ছিল না। এতে করে শিক্ষার্থীদের চরম ক্ষতি হচ্ছে।

উপজেলার কাশিল কেবিএন বহমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব খান জানান, পরীক্ষার ফি ধরা হয়েছে ২শ’ ৫০ টাকা করে। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী ১১ অক্টোবর থেকে মডেল টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছে, শেষ হবে ২৩ অক্টোবর।

লাইলী বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শাহ আলম জানান, বোর্ড পরীক্ষার আগে প্রস্তুতিমূলক মডেল টেস্ট পরীক্ষা এটা শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে। বোর্ড পরীক্ষার মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেওয়াটা ঠিক হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। তবে সেপ্টেম্বরে শেষ করা হলে শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষতি হত না।

জেডিসি পরীক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষার ফি বাবদ এক থেকে দেড়শ’ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মীর মনিরুজ্জামান বলেন, গতমাসে পরীক্ষা নেয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল কিন্তু স্কুলগুলোতে বন্যার পানি থাকার কারণে নেওয়া সম্ভব হয়নি। মডেল টেস্ট পরীক্ষার জন্য কোন শিক্ষার্থীকে বাধ্য করা যাবে না। সমিতি থেকে এ পরীক্ষার জন্য কোন ফি নির্ধারণ করা হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল হাসান জানান, মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়ার জন্য সরকারিভাবে কোন নির্দেশনা নেই। শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকরা এ পরীক্ষা নিচ্ছেন। তবে কোন শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষার জন্য বাধ্য করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, এমপিভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে কোন মাসিক বেতন ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফি ধরা নেই। এটা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক নির্ধারণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, জেএসসি পরীক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষার সময়সূচি সম্পর্কে আমি অবহিত নই। বোর্ড পরীক্ষার মাত্র এক সপ্তাহ হাতে রেখে কিভাবে শিক্ষকরা মডেল টেস্ট পরীক্ষার তারিখ করলেন সে ব্যাপারে আগামী মিটিংএ আলোচনা করা হবে।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.