ব্রেকিং নিউজ :

বাসাইলে ১৫টি অবৈধ ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন; হুমকির মুখে শতাধিক বসতবাড়িসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু :
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশাই ও ঝিনাই নদীতে অবৈধভাবে ১৫টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নদীতে বালু উঠানোয় তীরবর্তী শতাধিক বসতবাড়িসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মী প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসের সম্মুখিন। নদীর বুকে হারাতে চলেছে শত শত একর আবাদি জমি। স্থানীয়দের দাবি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি হাবলা, কাঞ্চনপুর, কাউলজানীসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারনে তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। এর ফলে বালু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ না করায় ওইসব অসাধু ড্রেজার মালিকরা সুযোগ বুঝে তা আবার চালু করছেন।
জানা যায়, বাসাইল উপজেলার কাউলজানী, কাঞ্চনপুর ও কাশিল ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত বংশাই ও ঝিনাই নদী । এ দুটি নদীতে বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ১৫টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। অভিযোগ উঠেছে নদীতে পানিতে ভাসমান চরাট বানিয়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাইপের মাধ্যমে গভীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর অনেক স্থানের পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। আশপাশের স্কুল, আবাদি জমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাসাইল উপজেলার ডুমনীবাড়ি বাজার সংলগ্ন অংশে মামুন মালিকানাধীন ড্রেজার, সুন্যা আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন অংশে কুমুর উদ্দিনের ড্রেজার মেশিন, সুন্যা দক্ষিণপাড়া এলাকায় শাহীনের ড্রেজার মেশিন, সুন্যা ঘোনাবাড়ি এলাকায় মিঠুর ড্রেজার মেশিন , সুন্যা পূর্বপাড়া ও ইশ্বরগঞ্জ বাজার সংলগ্ন অংশে মান্নান মেম্বারের ড্রেজার মেশিন, নাইকানীবাড়ি এলাকায় জামিলের ড্রেজার মেশিন, একই এলাকায় কাঙ্গালীছেও গ্রামের দুলালের ড্রেজার মেশিন, হাবলা বিলপাড়া বাজার থেকে কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত শাহীন, শামীম, জাকির ও বিশু’র ড্রেজার মেশিন, কাঠালতলী এলাকায় আমিনুর মেম্বারের মালিকানাধীন ড্রেজার মেশিনসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৫টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তাদের বসতবাড়ি ও জমির ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্যা গ্রামের এক কৃষক বলেন, এভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ও আবাদি জমি হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের অনেক জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আরো অনেক লোকের জমিও বিলীন হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামছুন্নাহার স্বপ্না জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.