ব্রেকিং নিউজ :

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মেলা শেষ হলেও শেষ হয়নি অশ্লীল নৃত্য

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুরে মাসব্যাপি ঐতিহ্যবাহী ফালচাঁন শাহ (ফাইলা পাগলার ) মেলা শেষ হলেও শেষ হয়নি মেলায় আয়োজিত অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনা। মেলার নির্ধারিত তারিখ শেষ হয়েছে। নেই ভক্তদের আনাগোনা । রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় স্বাধীন বাঙলা সার্কাস নামের বেরাইটি শোতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে নর্তকীদের অর্ধনগ্ন অশ্লীল নৃত্য। অশ্লীল এসব নৃত্য দেখতে শিশু-কিশোর যুবক বৃদ্ধদের হুমরিপড়া ভীড় পড়ে। ১ ঘন্টা নাচ দেখতে ৫০ টাকা থেকে ২’শ টাকা গুনতে হচ্ছে প্রতিজনকে। মেলা শেষ হলেও অদিদির্ষ্ট কালের জন্য চলছে এ অশ্লীলতা । সুযোগ পেলেই মঞ্চে থাকা উঠতি বয়সের ছেলেরা নর্তকিদের জড়িয়ে ধরে করছে অসভ্যতা।

স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, অনেক চিন্তায় রয়েছি। মেলার নামে এমন অসভ্যতা চললেও প্রশাসন কিছুই বলছেনা । সন্ধ্যা হলে ছেলেরা পড়ালেখা বাদ দিয়ে মেলায় চলে যায়। চোখের সামনে এমন অশ্লীলতার মেলা চললে নিজেদের আত্মসন্মান বোধ আর থাকে না। এসব ক্ষোভের কথা বলেন আরো একাধিক অভিভাবক।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেলার নাম করে এখানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। রাত-দিন মাইক আর সাউন্ডে উচ্চ আওয়াজে ঘুম হয়না। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় চরম সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে মেলার অন্তরালে মাদকের আদান প্রদান চরম ভাবে বিস্তার লাভ করেছে বলেও তারা জানান।

শনিবার রাতে সরজমিনে ওই মঞ্চে গিয়ে দেখা যায়, ফাইলা পাগলার মেলাকে কেন্দ্র করে অবস্থিত বিশাল ফসলি মাঠে সাজানো হয়েছে এ সাকার্স নামের বেরাইটি শো। এখানে বসানো হয়েছে একটি বিশাল সার্কাস প্যান্ডেল। বসানো হয়েছে হরেক রকমের দোকান। মিনি সার্কাস প্রর্দশনীর অন্তরালে চলছে রাতভর অশ্লীল নৃত্য আর অসভ্যতা।

কথা হয় মেলায় নাচ দেখতে আসা শাহাদত আলী নামের এক যুবকের সাথে। তিনি বলেন, বন্ধুদের নিয়ে এসেছিলাম মেলায় নাচ দেখতে। পরিবারে অন্য সদস্যদের নিয়ে এ নাচ দেখা সম্ভব নয়।

আবুল কালাম নামে আরেক দর্শক বলেন, এ নৃত্য মেলার ঐতিহ্য নষ্ট করছে। মেলার নামে অশ্লীলতা উঠতি বয়সের ছেলেদের খারাপের দিকে ধাপিত করছে বলেও তিনি মনে করেন।

মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, মেলা শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ওই সার্কাস নামের নাচগান চালানো হচ্ছে। এতে মেলা কমিটির সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য নবু মেম্বার বলেন, মেলার প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্যই এ সার্কাসের আয়োজন করা হয়েছে। তবে তিনি সার্কাসে অশ্লীল নাচের কথা অস্বীকার করেন।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম বলেন, মেলার নামে অশ্লীলতা চলছে কি না জানা নেই। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.