ফেসবুকে নাম বিড়ম্বনা: অদ্ভুত যতো নাম দেথে নিন

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বিশ্বকে বলা হয় একটি গ্রাম। কানাডার বিখ্যাত দার্শনিক মারশেল ম্যাকলুহান সর্বপ্রথম গ্লোবাল ভিলেজ কথাটি ব্যবহার করেছেন। পৃথিবী এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। এখন গোটা পৃথিবীকে একটি বিশ্বগ্রাম হিসেবে ধরা যায় প্রযুক্তির কল্যাণে। অর্থাৎ কারো হাতে একটি স্মার্ট ফোন থাকলেই ( অবশ্য ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে) তিনি বলতে পারবেন বিশ্ব এখন আমার হাতের মুঠোয়। তবে বর্তমানে সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেইসবুক পৃথিবীব্যাপী আলোচিত একটি সামাজিক যোগাযোগ সাইট।

২০০৪ সালে মার্ক জাকারবার্গ এই ফেইসবুক উদ্ভাবন করেন। তার এই উদ্ভাবন একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন। ফেসবুকের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া পুরনো বন্ধুদের ফিরে পাওয়ার যে আনন্দ তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ছোটবেলার সেই হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে খোঁজে পেয়ে সীমাহীন আনন্দে উদ্বেলিত হন অনেকেই। ফেইসবুকের মাধ্যমে এর আবিষ্কারক আয় করছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। ফেইসবুক আবিষ্কার করে মার্ক জাকারবার্গ যেমন একটি কল্যাণকর কাজ করেছেন। তেমনি এর রয়েছে কিছু নেতিবাচক প্রভাবও। যা সমাজ ও জাতির জন্য শুভ নয়। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে কারণ তারা রাত জেগে ফেইসবুক চালানোর কারণে সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারছে না। কেউ কেউ গড়ে তুলছে অনৈতিক সম্পর্ক। ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচয়, অতঃপর পরিণয়। রাশিয়া, মালয়েশিয়া, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রেমের কারণে বাংলাদেশে চলে আসছে ছেলেমেয়েরা। শেষ পর্যন্ত তারা বিয়ে করে সংসারও করতে দেখা গেছে। তবে ফেসবুকের সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হলো নাম বিভ্রাট, সঙ্গে ছবি বিভ্রাটও। দেখা গেছে নিজের আসল নাম গোপন (হাইড) করে অন্য নামে আইডি খুলে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায় এবং আইডিতে তার নিজস্ব কোনো ছবি না দিয়ে এমন কিছু দিল যা তার পরিচয় বহন করে না। তখন যার কাছে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠালো তিনি এক্সসেপ্ট করলো না। কারণ তিনি তাকে চিনেন না। অথচ এই সব আইডির এমন নাম, যা শুনলে হাসি পাবে যে করোরই। ছেলের আইডি অথচ ছবি মেয়ের। আবার মেয়ের আইডি ছবি দেয়া আছে ছেলের। এলএলবি শেষ করেছেন কিন্তু এখনও পর্যন্ত সনদের জন্য আবেদনই করেননি কিন্তু ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন অ্যাডভোকেট অমুক, অ্যাডভোকেট তমুক। ফেইসবুক নাম জার্নালিস্ট টিক্কা অথচ তিনি সাংবাদিক নন। তিনি কোনো পত্রিকাতেই কাজ করে না। ফেসবুক আইডির নাম এমপি রাসেল কিন্তু তিন এমপি নন। বাপ-দাদার চৌদ্দ গোষ্ঠীর কেউ চৌকিদারও ছিলেন না। বর্তমানে ফেক আইডিতে সয়লাব ফেসবুক। কারো কারে আইডি ৪-৫টি। নামে-বেনামে আইডি খুলে মানুষের চরিত্রহনন করছে কেউ কেউ। ব্যক্তিগত আক্রোশ তুলে ধরছে সামাজিক এই সাইটটিতে। যা অনুচিত একটি কাজ। ফেসবুক নাম হচ্ছে এসপি সাদ্দাম অথচ থানার পাশে ঘেঁষতেও পারে না। মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান নামে আইডি অথচ নিজেরাই সারাদিন মাদক সেবন করে লোড হয়ে থাকে। ভণ্ড ফকিরদের কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। কিন্তু ফেসবুকে বাবা থাকবে না, তা কি হয়? তাইতো একজনের আইডির নাম সেলফি বাবা সাকিব।

আবার দেখা যায় রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি করে প্রতিপক্ষকে গালিগালাজ করার জন্য পেইজ খুলেছে অমুক ভাই ফ্যানক্লাব। আসলে এটি করা হয়েছে তেল মারার জন্য। এবং বুঝানোর জন্য যে আমি অমুক ভাইয়ের জন্য জান দিয়ে দিচ্ছি। আসলে সব হচ্ছে শুভংকরের ফাঁকি। নাম হচ্ছে আরজে রাজ অথচ নিজের নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না, তিনি হচ্ছেন রেডিও জকি। ‘শান্ত ছেলে সাব্বির’ এটা তার ফেইসবুক নাম কিন্তু বাস্তবে সে মোটেও শান্ত নয়। কারণ তিনি কথায় কথায় উত্তেজিত হয়ে পড়ে অথচ তিনি হলো শান্ত ছেলে।

নিচে ফেইস বুকে একাউন্ট রয়েছে এমন কতগুলো অদ্ভুত নাম রয়েছে, দেখুন সেসব কী বাহার। পাগল প্রেমিক, ক্লান্ত পথিক, দেখতাছি রে সব দেখতাছি, সবার উপরে ভালবাসা, মেঘ বর, ঋতুরাজ বসন্ত, শিশু হদয়, তিতাসের ইব্রাহিম, লাইটার আল-আমিন, রানা ও পজেটিভ, নীল আকাশের চাঁদ, পথিক উজ্জ্বল, তিতাস আমার অহংকার, নীলাচল মিল্টন, ম্যাক সোহেল, বলতে চাই কিছু কথা, ইব্রাহিম ভাইয়ের সৈনিক, গোল্ডেন সিটিজেন, কুমিল্লা বন্ধু মহল, বিন্দু কন্যা রোজ, জাকির হোসেন ব্যবসা, তিতাসের আপনজন, স্বপ্নের রাজ কন্যা, ফেমাস বয় লাইকার রানা, এ্যাঞ্জেল মিম, অপরাধ উন্মোচনে প্রতিক্ষণ, সুখময় পৃথিবী, মাসুম এখন ফেইসবুক চালায়, পরান রে, মেঘলা আকাশ, সত্য বললেই গা জ্বলে, বদর খালীর সালমান, আমার ভালবাসা, অসমাপ্ত গল্প, একাকী অবেলা, চোখের নদী, একলা বয় সুমন, না বলা কথা, তিতাসের হিরো, স্পর্শের বাইরে তুমি, লীল আকাশের সাদা মেঘ, অচেনা মানুষ, বিদ্রোহী সৈনিক, দ্বীপু নাম্বার থ্রি, বিগ বস, অবুঝ মনের মানুষ, নির্জন রাত, উচিৎ কথা, ভালবাসার সেই মন পাখি, শিশির ভেজা সকাল, বাংলার সুমন, নীল দরিয়ার মাঝি, কুমিল্লার রাজনীতি, বুঝ বালক, ঝুলন্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন অন্ধকার, ভালবাসা ডট কম, অমুক ভাই ফ্যান ক্লাব, পালাবি কোথায়, মেঘের ছায়া, আমি খুকু, অনিকেত প্রান্তর, অচেনা অতিথি, পবিত্র প্রেম, মেঘের ছায়াসহ আরো হাজার হাজার নাম রয়েছে যা দেখলেই হাসি পাবে। অনেকে এ ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন এটা অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করীর মতো। জাতিগতভাবে আমরা এরকমই। কোনো একটা ব্যাপারে স্বাধীনতা পেলে তার সর্বোচ্চ ধস না দেখা পর্যন্ত আমরা ক্ষান্ত হই না। সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমটাকে কাজে লাগাতে পারলে অনেক মহৎ কাজ করা যায়।কিন্তু আমরা যেটার অপব্যবহার করছি। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উচিত এটার দেখভাল করা। এসব আইডি বন্ধ করে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সচেতন করা। (সংগ্রহিত)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.