ব্রেকিং নিউজ :

টাঙ্গাইলে আওয়ামীলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার পরবর্তী স্বাক্ষ্যগ্রহণ ২০ মার্চ

নিউজ টাঙ্গাই ডেস্ক: টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রথম দফার স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। রোববার সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে বিচারাধীন এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহন শুরু হয়। এ স্বাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে ২০ মার্চ। এরআগে অসুস্থ্যতার কারনে আমানুর রহমান খান রানা এমপিকে আদালতে হাজির না করায় চারবার এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহন পেছানো হয়।

এ প্রসঙ্গে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম খান জানান, আদালতের বিচারক আবুল মনছুর মিয়া সকাল ১১টায় এজলাশে বসেন ও প্রথমেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু করেন। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার বাদি নাহার আহমেদ, ছেলে আহমেদ মজিদ সুমন ও মেয়ে ফারজানা আহমেদ মিথুনের হাজিরা দাখিল করেন।

এদিকে কেরানিগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এ হত্যা মামলার প্রধান আসামী টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে আদালতে আনা হয়।

এ মামলার বাদী নাহার আহমেদ এর স্বাক্ষ্যগ্রহণ নেয়া হয়। তার স্বাক্ষ্য শেষে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল বাকি বাদীকে জেরা শুরু করেন। জেরা অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী ধার্যকৃত স্বাক্ষ্যগ্রহণের দিন বাদীর অসমাপ্ত জেরা শেষে অন্য স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা করা হবে। তবে এ মামলায় কারাগারে আটক আসামী আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী ও মোঃ সমিরকে আদালতে হাজির করা হয় এবং জামিনের থাকা অপর তিন আসামী মাসুদুর রহমান, ফরিদ আহম্মেদ ও নাসির উদ্দিন নুরু আদালতে হাজির হয়।

এ মামলায় তাকে সহযোগিতা করেন এডভোকেট আব্দুল গফুর ও এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের। অপরদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট আব্দুল বাকি, জহিরুল ইসলাম জহিরসহ কয়েকজন।

উল্লেখ্য,টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিষ্টুলা অপারেশনের কারণে ঢাকা মেডিকেলের ড. আনম, নূরে আজমের তত্তাবধানে রয়েছেন। অপারেশন জনিত কারনে তিনি ভ্রমনের সাময়িক ভাবে অক্ষম হওয়ায় আদালতে হাজির না করায় ইতিপূর্বে নয়বার এই মামলার অভিযোগ গঠণের শুনানী পিছিয়ে যায়। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির অভিযোগ গঠণ করা হয়। একই সাথে স্বাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিন ছিল ১৮ অক্টোবর, দ্বিতীয় দিন ছিল ১ নভেম্বর ও তৃতীয় দিন ছিল ২৭ নভেম্বর। তবে তিনি অসুস্থ্য জনিত কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এর পরবর্তী দিন ধার্য হয় ২২ জানুয়ারী। স্বাক্ষ্যগ্রহণের ধার্য দিন ১১ ফেব্রুয়ারি এ মামলার প্রথম স্বাক্ষ্য গ্রহণ হলো।

গত ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারী টাঙ্গাইল পৌর শহরস্থ কলেজ পাড়ায় হত্যা শিকার হন ফারুক আহমদ। এতে টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার হলেও বাকি ১০ আসামী পলাতক রয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.