টাঙ্গাইলে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি; অভিভাবকদের ক্ষোভ

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় ,মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন, কোচিং সেন্টারগুলোর আঙ্গিনায় প্রতিনিয়তই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি করা হচ্ছে নিন্মমানের খাবার। স্কুলের আঙ্গিনায় হকারদের তৈরি ঝালমুড়ি, পরুটা, সিঙ্গারা, , ফুচকা, চটপটি, কেক এবং বিভিন্ন ধরনের আচারসহ নিন্ম মানের ভেজাল খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা পুষ্টিহীনতাসহ প্রতিনিয়তই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে । বিদ্যালয় কৃর্তপক্ষের উদাসিনতায় হকাররা এসব নিন্মমানের খাবার দেদারসে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বিক্রি করার সাহস পাচ্ছেন বলে অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার নলুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলুয়া বাছেত খান উচ্চ বিদ্যালয়, সান একাডেমিক স্কুল, ইউরেকা মডেল স্কুল, যাদবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতীবান্দা কাশেম বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেড়বাড়ী নামাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিদাশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিদাস কলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় , বড়চওনা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়চওনা উচ্চ বিদ্যালয়, কেজিকে উচ্চ বিদ্যালয় কীর্ত্তণখোলা, দাড়িয়াপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , দাড়িয়াপুর এসএ উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে হকাররা খোলা আকাশের নীচে ওইসব নিন্মমানের খাবার দেদারসে বিক্রি করছেন। আর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা না বুঝেই ওইসব নিন্মমানের খাবার খেয়ে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এলাকার সচেতন মহল, ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রতিনিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনা থেকে হকারদের উচ্ছেদ করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

একাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক জানান, স্কুলের আঙ্গিনায় হকাররা নিন্মমানের খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে। অবুঝ ছেলে মেয়েরা না বুঝে এসব খাবার প্রতিনিয়ত খেয়ে নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাভাবিক খাবার গ্রহণেও তারা অমনোযোগী হয়ে পড়েছেন। নলুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বাবা জানান, আমার মেয়ে কিছুদিন আগে জরে ভুগছিল। একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখালে তিনি পরীক্ষা নিরিক্ষা করে নিন্ম মানের তেলে ভাজা খাবার খেয়ে আমার মেয়ের এ অসুখ হয়েছে বলে জানান। পরে আমি স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমার মেয়ে প্রতিদিনই স্কুলে হকারদের তৈরি নিন্মমানের খাবার খেয়ে থাকে। রতনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ছেলে-মেয়েরা স্কুলের আঙ্গিনায় বিক্রি করা নিন্মমানের খাবার খেয়ে বাড়িতে স্বাভাবিক খাবার খেতে চায় না। এতে শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এছাড়া তারা নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে।

নলুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার বলেন, হকারদের তৈরি নিন্মমানের খাবার খেতে শিশুদের নিষেধ করা হয়। কিন্তু শিশুরা চটকদার খাবার দেখে নিষেধ উপেক্ষা করে তা খেয়ে নেয়। তিনি শিক্ষার্থী অভিভাবকদের দোষারুপ করে বলেন. স্কুলে আসার সময় শিক্ষার্থীদের হাতে টাকা দিয়ে দেন বলেই তারা তাদের ইচ্ছে মতো খাবার খেয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে আবু তালেব মিয়া, আজমত আলী, ইয়াকুব মিয়াসহ আরো একাধিক হকার বলেন, স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের কাছে খাবার বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলে। আমাদের তৈরি খাবার খেয়ে ছাত্রদের অসুখ হয়েছে তাও আমাদের জানায় নাই। শিক্ষকরাও আমাদের কখনো নিষেধ করে নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী সরকার রাখী বলেন, অচিরেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনা থেকে অসাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রিকারী হকারদের উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.