ব্রেকিং নিউজ :

সখীপুরে শালগ্রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের দ্বন্ধে একমাস ধরে বিদ্যালয়ের অচলাবস্থা

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু: টাঙ্গাইলের সখীপুরের শালগ্রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করায় ওই বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দাখিল করেছেন। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশিস কুমার তরফদার ও মাসুদ রানাকে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের শালগ্রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক থাকলেও উম্মে আফরিন নামে একজন শিক্ষিকা ছয়মাসের চিকিৎসা ছুটি নিয়েছেন। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ধারনা প্রধান শিক্ষকের যোগসাজসে ওই শিক্ষিকা সুস্থ থাকার পরও চিকিৎসা ছুটি নিয়ে ঢাকায় স্বামীর সংসার করছেন। ছুটিতে থাকা ওই শিক্ষকের ক্লাস ভাগ করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষককের দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ছেলেকে দিয়ে প্রধান শিক্ষকের ক্লাস নেওয়াসহ ১০-১২টি অভিযোগ এনে ওই বিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী শিক্ষক গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, ক্লাস ফাঁকি দেওয়াসহ কিছু অনিয়মের অভিযোগ এনে আরেকটি পাল্টা অভিযোগ দাখিল করেন।
ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য লিপি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের কারণে গত এক মাস ধরে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। ফলে বিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের শিমু নামের চতুর্থ শ্রেণিরএক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে , স্যার-ম্যাডামদের ঝগড়ার আমাদের ঠিকমত ক্লাস হয় না। হেড স্যার ও ইদ্রিস স্যার মাঝে মধ্যেই স্কুলে আমাদের সামনেই ঝগড়া করে। ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হায়দার আলী বলেন, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। অচিরেই মীমাংসার জন্য দুই পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।  ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলী ও লাকী আক্তার বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়মিতভাবে স্কুলে আসেন না। এছাড়াও উম্মে আফরিন নামের সহকারী শিক্ষিকা প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় চার বছর ধরে স্কুলে অনিয়মিতভাবে অনুপস্থিত থাকেন। তাঁর ক্লাসগুলো আমাদের ভাগ করে সব সময় বাড়তি নিতে হয়। তাঁরা আরো দাবি করেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমরা লিখিত অভিযোগ দিলে সেও আমাদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনেন যার কোনো সত্যতা নেই।
এদিকে প্রধান শিক্ষক শামসুল হক তাঁর বিরুদ্ধে সহকারীদের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সহকারী শিক্ষকরা আমার কাছে নানা সুযোগ সুবিধা আশা করে। আমি তাঁদের শাসন করায় তাঁরা আমাকে ভুল বুঝেছে।
সখীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, দুটি অভিযোগের তদন্ত চলছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.