শুরু হচ্ছে কর্ণফুলী টানেলের কাজ : সরকারের উন্নয়নকাজের আরেকটি মাইলফলক

নিউজ ডেস্ক: প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের,ভূমি অধিগ্রহণ এবং ভূমি সমতলের কাজ। তৈরী হয়েছে প্রকল্প কার্যালয়। চীন থেকে এসেছে নির্মাণসামগ্রীর দুটি বড় জাহাজ,আসবে আরও ছয়টি। বর্তমান সরকারের আমলেই নির্মাণাধীন টানলের প্রস্তাবিত দুটি টিউবের একটির কাজ শেষ করার জন্যেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সরকার। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেলেটির নির্মাণকাজ শেষ হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের চিত্র। অর্থনৈতিক আঙিনায় অভাবনীয় পরিবর্তনের পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে দেশের এই বাণিজ্যিক রাজধানীর। বহুমুখী যোগাযোগব্যবস্থার ফলে চাপ কমবে নগরের ওপর। কমবে শহরকেন্দ্রিক নির্ভরতা।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন,’কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নদীর দুই তীরে শিগগিরই শুরু হবে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ। ইতিমধ্যে চীন থেকে টানেলের নির্মাণসামগ্রী নিয়ে দুটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে। আরও ছয়টি জাহাজ আসার অপেক্ষায় আছে’। তিনি আরো বলেন,’টানেলের টিউবের নকশা চূড়ান্ত করতে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ টিম বাংলাদেশে অবস্থান করছে। আশা করছি বর্তমান সরকারের আমলেই দুটি টিউবের একটির নির্মাণকাজ শেষ হবে’।

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প সূত্রে জানা যায়,‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা এলাকায়। ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা (সম্ভাব্য) ব্যয়ের টানেলের অ্যালাইনমেন্ট হবে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে কর্ণফুলী নদীর ২ কিলোমিটার ভাটির দিকে। টানেলের প্রবেশপথ হবে নেভি কলেজের কাছে,বহির্গমন পথ হবে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের সিইউএফএল সার কারখানা সংলগ্ন ঘাট। মোট ৯ হাজার ২৬৫ দশমিক ৯৭১ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এ প্রকল্পের মধ্যে টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৫ মিটার (উভয় পাশের ৪৭৭ মিটার ওপেন কাট ছাড়া)। টানেলে থাকবে ৯২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ফ্লাইওভার। এর মধ্যে শহর প্রান্তের ‘অ্যাট গ্রেড সেকশন’ হবে ৪৬০ মিটারের আর দক্ষিণ প্রান্তের ‘অ্যাট গ্রেড সেকশন’ হবে ৪ হাজার ৪০৩ দশমিক ৯৭১ মিটারের। দেশের প্রথম এই টানেল হবে ‘ডুয়েল টু লেন’ টাইপের। টানেল নির্মাণ করা হবে ‘শিল্ড ড্রাইভেন মেথড’ পদ্ধতিতে।

কর্ণফুলী টানেলের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা শেষ হয় ২০১৩ সালে। চার বছর মেয়াদকালের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। ২০১৪ সালের ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বেইজিংয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের চুক্তি হয়।

এই টানেলটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এর মাধ্যমে গড়ে উঠবে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও যুগোপযোগী সড়ক যোগাযোগ। আধুনিকায়ন হবে বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। সংযোগ স্থাপিত হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে। যুক্ত করা হবে কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহরের সঙ্গে ডাউন টাউনকে। ত্বরান্বিত হবে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ। বৃদ্ধি পাবে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.