ব্রেকিং নিউজ :

ক্যান্সারের বিপদ সংকেত ও তার প্রতিকার ——ডা.রুনা লায়লা

ক্যান্সারের বিপদ সংকেত ও তার প্রতিকার

                            ——ডা.রুনা লায়লা

ক্যান্সার যেমন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে তেমনি বিভিন্ন ক্যান্সারের বিভিন্ন রকমের বিপদ সংকেত আছে ।  যে কোন ধরণের বিপদ সংকেত দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ।

নিচে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের কয়েকটি বিপদ সংকেত উল্লেখ করা হল :

* স্তন ক্যান্সার : (Breast Cancer) স্তন ক্যান্সরে বাংলাদেশের নারীদের মৃত্যুহার সব চাইতে বেশি ।

লক্ষণ: গর্ভাবস্থা ,মাসিকের সময় বা দুগ্ধ দানের সময় ছাড়া স্তনে চাকা বা শক্ত চাকা ,বোটায় অস্বাভাবিক চুলকানি, লাল আভাবারস নির্গত হওয়া । স্তনের আকার পরিবর্তন হওয়া ।

* জরায়ুর ক্যান্সের : (Cervical Cancer)বাংলাদেশে মৃত্যু হার বিবেচনায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জরায়ূর মুখের ক্যান্সার ।

লক্ষণ: দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।

স্বামী সহবাসের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়া ।

*  গ্রন্থি ফোলা 🙁 Lymphoma)

লক্ষণ: শরীরে বড় গুটি, রাবারের  মত শক্ত, চুলকানি , রাতে ঘাম ,অনিয়মিত জ্বর ,ওজন হ্রাস  ।

* চর্ম ক্যান্সের : ( Skin Cancer)

লক্ষণ: তিলের বা আঁচিলের বর্ণ, আকার আকৃতির পরিবর্তন, চামড়ার নীচে চাকা অথবা গোটা যা সহজে ভাল হয় না ।

* মল দ্বারের ক্যান্সর: (Colon Cancer)

লক্ষন :মল দ্বার দিয়ে রক্ত ক্ষরণ , মলের সাথে রক্ত অথবা মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন ।

* শ্বাসনালীর ক্যান্সার : (Bronchial Cancer)

লক্ষন : দীর্ঘ স্থায়ী কাশি , ভাঙ্গা কন্ঠস্বর বা কন্ঠস্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া। সহজেই চামড়ার নিচে রক্ত ক্ষরণ ।

* ফুসফুসের ক্যান্সার: (Lung Cancer)

লক্ষন :দীর্ঘ স্থায়ী কাশি , কাশির সাথে রক্ত আসা ও বুকে ব্যাথা ।

* রক্ত ক্যান্সার : (Blood Cancer)

লক্ষন : ফ্যাকাসে ভাব , ক্লান্তি বোধ, ওজন হ্রাস , ভাল হচ্ছেনা এমন ক্ষত , নাকের রক্ত ক্ষরণ, হাড়ে বা অস্থিসন্ধিতে

ব্যাথা।

* কিডনী বা মূত্র থলীর ক্যান্সার :( Bladder Cancer)

লক্ষন : প্রসাবে জ্বালা পোড়া , অতিরিক্ত প্র¯্রাব ,রক্তক্ষরণ, যেমন নাক-মুখ-পায়ু পথ-মুত্র পথ সহ যেকোন পথে শরীর থেকে রক্তক্ষরণ ।

* মুখে এবং খাদ্য নালীরক্যান্সার : ((Oral & Esophageal Cancer)

লক্ষন: মুখে, জিহ্বায়, ও খাদ্য নালীতে দীর্ঘ মেয়াদী ঘা অথবা সাদা ক্ষত যা সহজে ভালো হয় না ।

মুখ খুলতে কষ্ট হয়,খাদ্য চিবাতে কষ্ট হয় ,জিহ্বা নড়াচড়া বন্ধহওয়া ,গলায় চাকা হওয়া, ঘ্যানের ক্ষমতা হ্রাস পায়।

* যকৃত ক্যান্সার: (Liver Cancer)

লক্ষন :প্রথমে তেমন কোন উপসর্গ দেখা দেয় না , পরবর্তীতে ডান দিকে পাঁজরের হাড়ের নীচে ব্যথা ও চাকা অনুভব

করা, চামড়ায় হলদে ভাব ,পাকস্থলি ফুলে যাওয়া ও পিঠে ব্যাথা , ওজন কমে যাওয়া এবং দূর্বল  লাগা ।

* ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার :( Ovrian Cancer)

লক্ষন :প্রথমিক পর্যায়ে তেমন কোন উপসর্গ দেখা দেয় না , পরবর্তীতে তল পেটে প্রচন্ড ব্যাথা , পাকস্থলি ফুলে যাওয়া ও ক্ষুধা মন্দা হওয়া ।

* হঠাৎকারণছাড়াওজনকমে গেলে ।

* ভলো হচ্ছেনা এমন কোন ঘাঁ থাকলে ।

প্রতিরোধ : প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধই উত্তম। তাই কিছু অভ্যাস গড়ে তুললেএ বং  দ্রুত রোগ চিহ্নিত করতে পারলে ক্যান্সারের আর্থিক ক্ষতি ও মৃত্যুর হার অনেক অংশে কমিয়ে আনা সম্ভব ।

* বদঅভ্যাসঃ ধুমপান, তামাক, জর্দা ,সেবন ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা ।

* ব্যক্তিস্বাস্থ্য: ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ।

* বংশগতঃ নির্দিষ্ট বয়সের পর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া । যেমন ৩০ বছর বয়স থেকে নিজে নিজে ব্রেস্ট পরীক্ষা করুন কিন্তু বংশে স্তন ক্যান্সার হওর্য়া ইতিহাস থাকলে ২০ বছর বয়স থেকে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করতে হবে এবং বছরে কম পক্ষে একবার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে স্তন পরীক্ষা করা উচিত ।

* খাদ্যা ভ্যাসঃ যেমন – বেশী বেশী ফলমূল এবংসবজি , ভিটামিন এ এবং সি সবুজও আঁশ জাতীয় খাবার খাওয়া এবং লাল মাংশ ও চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করা ।

* পেশা: কাজের সময় প্রতিরক্ষক উপকরণ, যেমন, মাস্ক, এপ্রোন, চশমা ও জুতো ব্যবহার করা ।

* রাসায়রিক উপাদান ঃ যেমন ফরমালিন, আর্সেনিকইত্যাদি আছে এমনখাদ্য, ঔষধ ও কসমেটিকস ব্যবহার থেকে বিরত থাকা ।

* প্রতিষেধক টিকা ঃ যেমন হেপাটাইটিস বি, জরায়ূ ক্যান্সারের টিকা গ্রহণকরা ।

* প্রতি ৩ বছর পর পর জরায়ূ মুখেরপরীক্ষা করা ।

* বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারের জন্য নিয়মিত স্ব-পরীক্ষাএবং স্ক্রীনিং – যেমন ত্বক,কোলন, জরায়ূ এবং স্তন পরীক্ষা করা ।

* স্বামি -স্ত্রীর প্রতিবিশ্বস্থ্য থাকা ।

*একই নিডিল বা সিরিঞ্চ বারবার ব্যবহার না করা ।

* নিয়মিত ব্যায়াম করা ও শবীরের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা ।

নোট:  শরীরের কোন স্থানে শক্ত চাকা, যা ধীরে ধীরে আকারেব ড়হতে থাকে , আকূতির পরিবর্তন হয় , প্রচ-ব্যাথা থাকে , পরীক্ষা করার জন্য চাপদিলে যে চাকা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নড়াচড়া করে বাসরে যায়, জীবাণু সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে । শরীরে দীর্ঘ স্থায়ী কোন ক্ষত,  যা সহজে শুকায় না  । শরীরের কোন স্থানহতে রক্ত ক্ষরণ ,খ্যাদ্য ভাস ও মল ত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন হওয়া , যা ক্যান্সারের লক্ষণ ।

শরীরের এ ধরণের কোন পরিবর্তন দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরপরামর্শ নিন ।

ডা. রুনা লায়লা

এম.বি.বি. এস(ঢাকা) , এম.পি.এইচ ( মা ও শিশু স্বাস্থ্য )

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.