টাঙ্গাইলে ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে এক অসহায় পরিবারের প্রায় দুই একর জমি দখলের অভিযোগ

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে সখীপুর-ঘাটাইল সীমান্তবর্তী ফুলমালিরচালা এলাকায় লিজ নেওয়া জমির ভূয়া কাগজপত্র বানিয়ে বৃদ্ধ আমজাদ হোসেনের অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় দুই একর আবাদি জমি দখল নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে একই এলাকার প্রভাবশালী প্রকৌশলী আবদুল খালেক ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কৃষক আমজাদ হোসেনের অভিযোগ – প্রভাবশালী ওই পরিবার শুধু তার জমি দখলই নয়, তাকে এবং তার দুই সন্তানকে নানাভাবে ভয়ভীতিসহ মামলা ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছেন তারা।

বুধবার সকালে সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ১৯৮৩ ও ৮৫ সালে টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর ও ঘাটাইল উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলমালিরচালা (গায়েন আলীর মোড়) কৃষক বৃদ্ধ আমজাদ হোসেন একই এলাকার গিয়াস উদ্দিন ও তাদের ভাইদের কাছ থেকে ৮২/১১৩ খতিয়ানের এসএ ৫৯০, ৫৮৯,৫৯৪ ও ৬২৪ দাগের এক একর ৯১শতক কৃষিজমি ক্রয় করেন। সেই থেকে এ জমিটি আমজাদ হোসেনের নামেই নামজারি ও হালনাগাদ ভূমি রেকর্ড করে নিয়মিত ভূমিকর দিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে আমজাদ হোসেন প্রতিবেশী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল করিম সরকারের কাছে ২৫ হাজার টাকায় ১৫ বছরের মেয়াদে লিজ লাগায়। আবদুল করিম সরকারের মৃত্যু হলে তাঁর তিন ছেলে প্রকৌশলী আবদুল খালেক, খোরশেদ আলম ও খয়ের উদ্দিন লিজ মোতাবেক ভোগ দখল করে আসছে। গত ৮ বছর ধরে লিজের (বন্ধক) সময় শেষ হলে তাঁরা জমিটি বৃদ্ধ আমজাদ হোসেনকে দখলে বুঝিয়ে দেই দিচ্ছি বলে নানা তাল-বাহানা করছে। প্রকৌশলী আবদুল খালেক তার প্রভাব খাটিয়ে ভাইদের নিয়ে জোরপূর্বক ওই জমিটি দখল করে আছে। উল্টো গত ৮ মে ওই জমির ভূয়া বায়নাপত্র দেখিয়ে বৃদ্ধ অসহায় আমজাদ হোসেন ও তাঁর ছেলেদের নামে জমিতে যেতে নিষেধ করে টাঙ্গাইল আদালতে (পি-৪১৮/২০১৮ নং মোকদ্দমা) করে তারা। বিষয়টি মীমাংসায় স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার বসলে জমির প্রকৃত মালিক বৃদ্ধ আমজাদ হোসেন দলিলপত্র দেখাতে পারলেও দখলদাররা কোন বৈধ কাগজপত্র বা দলিল দেখাতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে ঘাটাইল উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া সুলতানা ও ধলাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহ্ ইলিয়াছ মিয়া ওই জমির ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরহাদ আলী, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল মালেক বলেন, জমি দখলের বিষয়ে কয়েকদফা শালিশী বৈঠকে উভয়পক্ষে কাগজপত্র দেখে মনে হয়েছে জমিটির প্রকৃত মালিক আমজাদ হোসেন এতে কোন সন্দেহ নাই। ওই গ্রামের জমি বিক্রেতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, ১৯৮৩-৮৫ সালে বৃদ্ধ আমজাদের কাছে জমিটি আমরা বিক্রি করি। তাবে সে জমিটি অন্যত্র বিক্রি করেছে বলে আমার জানা নাই।

এ বিষয়ে জমি দখলদার খোরশেদ আলম বলেন, ওই জমির সঙ্গে তাদের অনেক জমি রয়েছে। তবে জমিটি কৃষক আমজাদের কাছ থেকে তারা অনেক বছর আগেই বায়নাপত্র দলিল মূলে কিনে নিয়েছেন। বৈধ মালিকানা আছে বলেই । জায়গাটি আমরা বহুদিন ধরে ভোগদখল করে চাষবাস করে আসছি ।

দলিলের কথা বললে আমজাদ এখন নানা তাল-বাহান শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে বৃদ্ধ আমজাদ হোসেন বলেন, জমিতো আমি বেচি নাই, ১৫ বছরের নামে লিজ দিয়েছিলাম। না বেচলে ক্যামনে হ্যারা ওই জমির মালিক হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.