টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় নির্মাণাধীন ২০১ গম্বুজ মসজিদের দানবক্সে ১০ লাখ

নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় নির্মাণাধীন ঐতিহাসিক ২০১ গম্বুজ মসজিদের দানবক্সে ঈদের সময় মাত্র ৪ দিনে আয় হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের চতুর্থ দিন পর্যন্ত ওই দানবক্সে ৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা জমা হয়। ঈদের তিন দিন পর মঙ্গলবার ১৯ জুন বিকেলে গণনা শেষে এই টাকার হিসাব পাওয়া যায়। টাকা ছাড়াও দান হিসেবে স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে। যা টাকার অংকে হিসাব করা হয়নি। প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবক্সগুলো খোলা হয়। পরে ওই সব টাকা গণনা করা হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তা, সিন্দুক খোলা কমিটির সদস্য এবং ওই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টাকা গণনার কাজ তদারক করেন।

২০১ গম্বুজ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের অন্যতম মসজিদগুলোর মধ্যে এটি একটি। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্সের উন্নয়নের কাজ করা হয়। তিনি আরো বলেন, এবার ঈদে দানবক্সে পড়া টাকাগুলো জমা রাখা হয়েছে। আর যে স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে তাও রেখে দেয়া হয়েছে।

সার্বক্ষণিক নির্মাণাধীন এ মসজিদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ভাই মো. হুমায়ুন কবির জানান, নিজেদের তত্বাবধানে নির্মাণাধীন অবস্থায়ই ২০১ গম্বুজ মসজিদে এরইমধ্যে ঈদের নামাজ আদায় শুরু হয়েছে। এ মসজিদ কমপ্লেক্সে থাকবে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। মিহরাবের দুই পাশে লাশ রাখার হিমাগার তৈরি করা হচ্ছে। পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলেও মসজিদে শতাধিক ফ্যান লাগানো হবে। মোট গম্বুজের সংখ্যা হবে ২০১টি। মসজিদের ছাদের মাঝখানে থাকবে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি বড় গম্বুজ এবং চারদিকে থাকবে ১৭ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ২০০টি গম্বুজ। মূল মসজিদের চার কোনায় থাকবে ১০১ ফুট উচ্চতার চারটি মিনার। পাশাপাশি ৮১ ফুট উচ্চতার আরো চারটি মিনার থাকবে। ১৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪৪ ফুট প্রস্থের দ্বিতল মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

মসজিদের দেয়ালের টাইলস জুড়ে অঙ্কিত থাকবে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা আয়াত। যে কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে পড়তে পারবেন কোরআন শরীফ। আর মসজিদের প্রধান দরজা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫০ মন পিতল। আযান প্রচারে মসজিদের দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে উচুঁ মিনার। উচ্চতার হিসেবে মিনারটি হবে প্রায় ৫৭ তলার সমপরিমাণ। অর্থাৎ ৪৫১ ফুট। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে পৃথক দুটি পাঁচতলা ভবন। সেখানে থাকবে দুঃস্থ মহিলাদের জন্য বিনামূল্যের হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পূণর্বাসন ব্যবস্থা। মসজিদের উত্তর-পশ্চিম পাশে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে দেশি-বিদেশি মেহমানদের থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থার জন্য। পশ্চিমে ঝিনাই নদী থেকে মসজিদ পর্যন্ত সিঁড়ি করা হচ্ছে। নদীর ওপর নির্মাণ করা হবে একটি সেতু। চারপাশে করা হচ্ছে দেশি-বিদেশি ফুলের বাগান।

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে পাথালিয়া গ্রামের ঝিনাই নদীর তীরে অবস্থিত সু-দৃশ্য মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি। নির্মাণাধীন ওই মসজিদটি সবচেয়ে বেশি ২০১ গম্বুজ এবং ৪৫১ ফুট উচ্চতায় বিশ্বের দ্বিতীয় উঁচু মিনার বিশিষ্ট। মিনারের উচ্চতা হবে ৫৭ তলা ভবনের উচ্চতার সমান। মসজিদটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্ব মসজিদ ইতিহাসে স্থান করে নিয়ে ‘গিনেজ রেকর্ডবুকে’ নাম লেখাবে নির্মাণাধীন এ মসজিদ। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বাংলাদেশকে বিশ্বে নতুন করে পরিচিত করবে। প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক, ওলি আউলিয়ার আগমন ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশাল এ মসজিদটি মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। ২০১ গম্বুজ মসজিদের পাশেই ইটের তৈরি ৪৫১ ফুট উচ্চতার (১৩৮ মিটার, ৫৭ তলা উচ্চতা সমান) বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মিনারটি হবে বিশ্বের সবচাইতে উঁচু মিনার। প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে এ মসজিদ।

মসজিদটি এরইমধ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য পর্যটক নির্মাণ কাজ দেখতে ভিড় করছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য পর্যটক প্রতিদিন মসজিদের দানবক্সগুলোয় অর্থ ছাড়াও স্বর্ণালংকারসহ দান করছেন বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.