News Tangail

হলি আর্টিজানে হামলার দুই বছর: জঙ্গি দমনে সরকারের সাফল্য

দুই বছর আগে ১ জুলাই দেশের ইতিহাসে রচিত হয় একটি কালো অধ্যায়। তখন পবিত্র রমজান মাসের শেষের দশদিন চলছিল। ঈদের আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল দেশের প্রতিটি মানুষ। ঠিক এরকম একটা সময়ে ইফতারের পর রাজধানী ঢাকার গুলশানে অবস্থিত হলিআর্টিজানরেস্টুরেন্ট ঢেকে যায় এক অশুভ ছায়ায়।  কিছু যুবক ছদ্মবেশে সেই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে এবং সেখানে অবস্থানরত মানুষের ওপর চালায় নৃশংস হামলা। রেস্টুরেন্টটি কূটনীতিক এলাকায় অবস্থানের জন্য বিদেশিদের কাছে সুপরিচিত ছিল। এছাড়াও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশও মন কাড়তো সাধারণ মানুষের। দেশি মানুষের পাশাপাশি সেখানে বিদেশী লোকজনেরও  আসা যাওয়া ছিল।

সেই দিন রাতে ছয় জন যুবক যারা কিনা ছদ্মবেশে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে তারা প্রকৃতপক্ষে ছিল মানুষরূপী অমানুষ অর্থাৎ জঙ্গি। তারা রাতভর নৃশংস নির্যাতন ও হত্যাকান্ডচালায় সাধারণ মানুষের ওপর। তাদের হামলায় নিহত হন পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন খান। জঙ্গি দমনে প্রাণ দেন দুইজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা। জঙ্গিদের নির্মম বর্বর হামলায় নিহত হন ২০জন সাধারণ মানুষ। তাদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন বিদেশী; যাদের ৯ জন ছিলেন ইতালির ও ৭ জন জাপানের নাগরিক। সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো সদস্যদের বিশেষ অভিযান অপারেশন থান্ডার বোল্টের মাধ্যমে ৬ জন জঙ্গি নিহত হন।

এরপর থেকে  জঙ্গি  দমন অভিযান অব্যাহত ছিল গোটা দেশ  জুড়ে। সেই ঘটনার পর থেকে সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে নির্মূল করা হয় জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি আস্তানা। সিলেটের জঙ্গি অভিযান অপারেশন টোয়াইলাইটের মাধ্যমে নির্মূল করা হয় সিলেটের জঙ্গি ঘাঁটি। রাজধানীর কল্যাণপুরের তাজ মঞ্জিলের (জাহাজ বাড়ি) জঙ্গি আস্তানায় গত বছরের ২৬ জুলাই ‘অপারেশন স্ট্রম ২৬’ চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এ অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি দমন অভিযান অপারেশন  অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭ এ  গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি নিহত হয়।

পরপর অপারেশন আজিমপুর, গাজীপুরের অভিযান শরতের তুফান, চট্টগ্রামেরঅপারেশন অ্যাসল্ট, মৌলভীবাজারের অভিযান অপারেশন ম্যাক্সিমাস, কুমিল্লার অপারেশন স্ট্রাইক আউট সহ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত আরো কিছু জঙ্গিনির্মূল অভিযান সফল ভাবে সম্পন্ন হয়।

সরকারের তৎপরতায় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষ অভিযানে  দেশ বর্তমানে জঙ্গি মুক্ত। হলিআর্টিজানের পর দেশের মানুষের ভিতর আতঙ্ক ভীতি কাজ করতো। দেশ থেকে অনেক বিনিয়োগকারী, কূটনীতিক, ক্রেতা-বিক্রেতা নিরাপত্তার জন্য চলে যেতে  চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশে বসবাসরত ও অবস্থানরত প্রতিটি মানুষের  নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। দক্ষভাবে দমন করেছন নানা রকম জঙ্গি আস্তানা। জঙ্গিদের হামলা করার মনোবল গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সফল ভাবে। নিশ্চিত করেছেন দেশের সর্ব স্তরের নিরাপত্তা। দুই বছরে সরকার জঙ্গি দমন করতে সফল হয়েছেন। কঠোর ভাবে লড়েছে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.