ব্রেকিং নিউজ
News Tangail

টাঙ্গাইলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক ছাত্রীকে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহল অসহায় পরিবারকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার পরই এলাকা থেকে পালিয়েছে ওই শিক্ষক। অভিযুকুক্ত পুখুরিয়া শিয়ালকোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধর্ষক শফিকুল ইসলাম শফিক ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুখুরিয়া শিয়ালকোল গ্রামের বাসিন্দা। ধর্ষিতা ছাত্রীর বাবা সৌদি প্রবাসি।

জানা যায়, উপজেলার পুুখুরিয়া শিয়ালকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম শফিক প্রতিনিয়ত কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে গেলে ছাত্রীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে ওই লম্পট শিক্ষক। এ সময় মেয়েটি ডাক-চিৎকার করলে শিক্ষক পালিয়ে যায়। এর আগেও ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে যৌন হয়রানি করতো। পরে ঘটনাটি প্রকাশ না করতে ধর্ষক শিক্ষক মেয়েটিকে হুমকি দেয়। এতে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় ওই ছাত্রী। এর কয়েকদিন পরই গত রবিবার মেয়েটি শারিরীকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। অসুস্থ হওয়ার পরই মেয়েটি তার পরিবারকে বিষয়টি খুলে বলে। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে সেটি ধামা চাপা দেয়ার জন্য মেয়ের পরিবারকে হুমকি দেয়া হয়। প্রভাবশালীদের ভয়ে অসহায় ওই পরিবার মেয়েটির চিকিৎসাসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধর্ষিতার চাচা জানান, এরআগেও আমার ভাতিজিকে কু-প্রস্তাবসহ গায়ে হাত ও ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। সম্প্রতি ভাতিজি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ধর্ষণের বিষয়টি আমরা জানতে পেরে স্থানীয়দের কাছে বিচার দাবী করি। পরে তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য এবং আইনী ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটাকে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। বাড়িতেই গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে। কিন্তু পর্যায়ক্রমে মেয়েটি বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে পুখুরিয়া শিয়ালকোল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি তেমন কিছু হয়নি বলে ফোন কেটে দিয়ে পরে আর ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহওনেয়াজ পারভীন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ঘটনায় কেউ আমাকে অভিযাগ করেনি। তবে এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুছ ছালাম মিয়া বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কেউ অভিযাগ করেনি। অভিযাগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.