News Tangail

কার্লাইলকে ইংল্যান্ড ফেরত পাঠালো দিল্লি: নেপথ্যের ঘটনা ও সাম্প্রতিক বিএনপি

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার আইনজীবী লর্ড কার্লাইল লন্ডন থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। এরপর দিল্লিতে তিনি সংবাদ সম্মেলনের পরিকল্পনা করেছিলেন। বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লর্ড কার্লাইল এসে পৌঁছালে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। লর্ড কার্লাইলের ভারতীয় ভিসা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলেও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়। আর তাই তৎক্ষণাৎ তাকে ইংল্যান্ড পাঠিয়ে দেয়া হয় ফিরতি ফ্লাইটে। খালেদা জিয়াকে যে মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’- সেটাই তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন এমনটাই বিএনপির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পুরো অনুষ্ঠান আয়োজনে এরই মধ্যে ভারতের একটি কনসালট্যান্ট কোম্পানিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, লর্ড কার্লাইলের ভারত সফরের বিষয়টি লন্ডনে বসে দেখভাল করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে সহযোগিতা করতে লন্ডন যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও আরেক নেতা হুমায়ুন কবির। আর ভারতের উদ্দেশ্যে আগেই ঢাকা ছেড়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনের স্থান কৌশলগত কারণে গোপন রাখা হয়েছে। কারণ এর আগে একটি ভেন্যু বাতিল করা হয়েছে। হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলন স্থলে পৌঁছাবেন লর্ড কার্লাইল। সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সাংবাদিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা থাকবেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্ট ২০১৬ সালের ৮ই মার্চ জামায়াত নেতা মীর কাশিম আলীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখার পর লর্ড কার্লইল বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইলের খ্যাতি বড় বড় কিছু মামলায় তার সাফল্যের জন্য। এর মধ্যে একটি ছিল প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর তার ব্যক্তিগত বাটলার পল বারেলের বিরুদ্ধে মামলা।

এর আগে ১১ জুলাই, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভারতে লর্ড কারলাইলের অভ্যর্থনা টিমের লুবনা আসিফ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান লর্ড কার্লাইল। কিন্তু তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। লর্ড কার্লাইলের ভারতীয় ভিসা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলেও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়। পরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর থেকেই লন্ডনের ফিরতি ফ্লাইটে উঠিয়ে দেয় লর্ড কার্লাইলকে। লুবনা আসিফ বলেন, ‘১২ জুলাই, বৃহস্পতিবার দিল্লির লা মেরিডিয়ান হোটেলে লর্ড কার্লাইলের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে।’ ১৩ জুলাই, শুক্রবার দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল লর্ড কার্লাইলের। কিন্তু ক্লাব তা বাতিল করায় লা মেরিডিয়ান হোটেলকে সংবাদ সম্মেলনের স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

লন্ডনে ফিরে ভিডিও কনফারেন্স করে কার্লাইল প্রশ্ন করেন ঠিক কি কারণে তার ভিসা রদ করা হয়? ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার জানিয়ে দেন, “লর্ড কার্লাইল যে কারণ দেখিয়ে ভিসার আবেদন করেছিলেন – আর তার সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য- এসবের মধ্যে কোনও সাদৃশ্য নেই বলেই আমরা তার ভিসা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” পরে বিকেলে তিনি আরও যোগ করেন, “লর্ড কার্লাইল ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন – এমন সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।”

তবে গোটা ঘটনায় যে বিষয়টি অন্তরালে থেকে গিয়েছে তাহল বিএনপির অবস্থান। কেন বিএনপি এই সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে এত উদগ্রীব? দেশের একটি  ইস্যুকে পুঁজি করে কেন দিল্লির সঙ্গে আঁতাতে যেতে চায় বিএনপি? কেননা এরপরই ভারত বিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় চলে আসেন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। আর তারই খেসারত হিসাবে স্থগিত করা হয় দলে তার পদ। যদিও বিএনপির হাই কমান্ড বা কেন্দ্র থেকে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে নির্বাচনের বছরকে মাথায় রেখে ষড়যন্ত্রের নতুন চাল কিনা তা খতিয়ে দেখার অবকাশ রাখে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.