News Tangail

ইসলামে হিজড়াদের ব্যাপারে যেটা বলা হয়েছে

মৌলিকভাবে মানুষ দুই প্রকার। ইসলামে মানুষকে পুরুষ ও নারী হিসেবে গণ্য করে থাকে। যারা উভয়লিঙ্গ হয়ে পৃথিবিতে থাকেন তারাও মূলত: হয় নারী কিংবা পুরুষ। তাই তাদের ব্যাপারে আলাদা কোনো বিধান আরোপ করা হয়নি। যে উভয়লিঙ্গের অধিকারী ব্যক্তির মাঝে যেটির প্রভাব বেশি থাকবে, তিনি সেই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত হবেন।

হিজড়া সম্প্রদায়ও আল্লাহুর সৃষ্টি। ওরাও আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব। প্রতিবন্ধী মানুষের যেমন শারীরিক ত্রুটি থাকে, এটি তেমন একটি ত্রুটি। তবে এ ত্রুটির কারণে তাদের মনুষ্য সমাজ থেকে বের করে দেওয়া যাবে না। বরং অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের মতোই তারা আরও বেশি স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

পৃথিবীতে মোট চার ধরনের হিজড়া দেখা যায়। যথা:
১. পুরুষ তবে এরাও নারীর বেশে চলে তাদের আকুয়া বলা হয়। এরা মেয়েদের বিয়ে করতে পারে।
২. নারী বেশেও তাই, তবে দাড়ি-মোঁচ আছে। তাদের জেনানা বলা হয়। তারা ইচ্ছা করলে পুরুষের কাছে বিয়ে বসতে পারে।
৩. লিঙ্গহীন আরবিতে তাদের ‘খুনসায়ে মুশকিলা’ বলা হয়। এই শ্রেণির হিজড়া আসলে কারা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন বিজ্ঞ আদালত ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক।
৪. কৃত্তিমভাবে যৌন ক্ষমতা নষ্ট।

বাংলাদেশ মানবাধিকার সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে হিজড়ার সংখ্যা ৫০ হাজার। কৃত্রিম হিজড়া ২০ হাজার। একটি চক্র সরল সুন্দর সপ্তম-অষ্টম শ্রেণির বারো তেরো বছরের ছেলেদের ফুসলিয়ে প্রতারণায় ফেলে নিয়ে যায়।

হিজড়া সন্তান জন্ম হওয়ার কারণ:
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, হিজড়ারা জীনদের সন্তান। কোনো এক বাক্তি আব্বাস (রাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন এটা কেমন করে হতে পারে। জবাবে তিনি বলেছিলেন ‘আল্লাহ্ ও রাসুল (স.) নিষেধ করেছেন যে মানুষ যেন তার স্ত্রীর মাসিক স্রাব চলাকালে যৌন সংগম না করে’, সুতরাং কোনো মহিলার সঙ্গে তার ঋতুস্রাব হলে শয়তান তার আগে থাকে এবং সেই শয়তান দারা ঐ মহিলা গর্ববতী হয় ও হিজড়া সন্তান প্রসব করে। (মানুষ ও জীন এর যৌথ মিলনজাত সন্তানকে ইসলাম এ বলা হয় ‘খুন্নাস’)। প্রমানসূত্র: সূরা বানী ইস্রাইল- আর রাহমান-৫৪, ইবনে আবি হাতিম, হাকিম তিরমিজি।

ইসলামে হিজড়াদের আদম সন্তান হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং হিজড়াদের সব অধিকার নিশ্চিত করেছে। মানবসমাজকে যেভাবে জীবনযাপন করতে বলা হয়েছে, হিজড়ারাও ঠিক সেভাবেই জীবনযাপন করতে পারবে। কোনো বিষয়েই ইসলাম তাদের উপেক্ষা করেনি। সে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বক্তব্য রয়েছে। অনেক দীর্ঘ আলোচনাও রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়েও তারা ছিল। ইসলামের প্রথম যুগ থেকে আজকের যুগ পর্যন্তও তারা আছে। তাদের অধিকার ইসলামে নিশ্চিত রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই, আমরা তাদের মানবগোষ্ঠীর বাইরে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছি। ফলে তাদের আমরা ভিন্নভাবে এখন বিবেচনা করছি। কিন্তু এই কাজ একবারেই ভুল; তা করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, কোনো একজন ব্যক্তির যদি একটা হাত না থাকে, তাকে কি মানুষ বলা হবে না? হিজড়াদের বর্তমানে যারা পরিচালনা করছেন, তারা অনেকেই সমাজে হিজড়াদের অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছেন। নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে।

মনে রাখতে হবে, হিজড়াদের প্রতি ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ও স্নেহ দরকার। তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, খারাপ মন্তব্য করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। এমনিতেই যেকোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া পাপ- তেমনি তাদেরও গালি দেওয়া পাপ। কোনো মুসলমানকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যেমন পাপ- তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা এর চেয়ে কম পাপ নয় বরং আরও বেশি পাপ। কারণ তাদের এ দুর্বলতার কারণে তাদের ঠাট্টা করার মানে হলো- আল্লাহতায়ালার সৃষ্টিকে ঠাট্টা করা। আল্লাহর সৃষ্টিকে হাসি-তামাশার বিষয় বানানো। এটা খুব গর্হিত কাজ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.