ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

ভূঞাপুরে এইচএসসির ফলাফল বিপর্যয়, জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সদ্য প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে নজীরবিহীন বিপর্যয় ঘটেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায়। অন্য বছরের চেয়ে ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ- ৫ দুটোই কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) ফলাফল ঘোষণার পর অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে হতাশ হয়ে ফিরতে দেখা গেছে। হঠাৎ এমন ফলাফলের কারণ নিয়ে সন্দিহান অভিভাবকরা।

জানা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলায় মোট ৭ টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ। উপজেলার একমাত্র এই সরকারি কলেজের ফলাফলও এবার সন্তোষজনক নয়। ১৮শ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬৮৪ জন, আর সব বিভাগ মিলিয়ে জিপিএ- ৫ পেয়েছে ৩ জন শিক্ষার্থী।

কলেজটিতে এবারে পাসের হার ৪০ ভাগ যা বিগত বছর ছিল ৫৬ ভাগ। সেই হিসেবে পাসের হার কমেছে ১৬ ভাগ। খোদ অধ্যক্ষও স্বীকার করছেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় সবচেয়ে খারাপ ফলাফল এটি।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও উচ্চতর গণিতের চেয়ে ইংরেজি ও আইসিটিতে কয়েক গুণ বেশি শিক্ষার্থী থাকায়, এসব বিষয়ের খারাপ ফলাফল সার্বিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার প্রতি অমনোযোগী, অতিরিক্ত স্মাটফোন ব্যবহার, চাকরীর কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনসহ ইত্যাদি কারণে কলেজটির পাসের হার কমেছে বলে মনে করেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

উপমহাদেশের প্রথম মুসলমান প্রিন্সিপাল ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ ১৯৪৮ সালে ইবরাহীম খাঁ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। যা দীর্ঘ ৬৪ বছর পর ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়।

এদিকে সরকারি কলেজের এমন হতাশাজনক ফলাফলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। হঠাৎ এমন ফলাফলের কারণ নিয়ে সন্দিহান তারা। এজন্য কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দায়ী করেছেন। এছাড়া এই ফল বিপর্যয়ের কারন অনুসন্ধানের দাবি করেছেন সচেতন মহল।

প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, এইচএসসিতে ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ থেকে এবার মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান শাখা থেকে ১৮০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬৮৪ জন। ফেল করেছে ১১১৬ জন। পাসের হার ৪০ ভাগ। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন বিভাগ মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন। তারা সবাই মেয়ে এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

লোকমান ফকির মহিলা কলেজ থেকে ১৩০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৯ জন। পাসের হার ৩৭.৬৯ ভাগ। ৩ বিভাগ মিলিয়ে এ প্রতিষ্ঠানে কেউ জিপিএ ৫ পায়নি।

শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ থেকে ১৪৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬৪ জন। পাসের হার ৪০.২৫ ভাগ। ৩ বিভাগ মিলিয়েও এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ ৫ পায়নি।

সিহাব উদ্দিন কলেজ, ফলদা থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১১ জন। পাসের হার ২১.২৭ ভাগ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও কেউ জিপিএ ৫ অর্জন করতে পারেনি।

অলোয়া স্কুল এন্ড কলেজে ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২ জন। পাসের হার ২০ ভাগ। এখান থেকে কেউ জিপিএ ৫ লাভ করতে পারেনি।

শমসের ফকির কলেজ, নিকরাইল কলেজ থেকে ৪২৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১১১ জন। পাসের হার ২৬.৯৫ ভাগ। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিভিএ- ৫ অর্জন করতে পারেনি।

যমুনা কলেজ, হাতিয়া থেকে ১৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৭ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার এসে দাঁড়িয়েছে ২৮.১৪ ভাগ। অত্র প্রতিষ্ঠান থেকেও কেউ জিপিএ-৫ লাভ করতে পারিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বেনজীর আহাম্মেদ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার যে ফলাফল এসেছে এটি মোটেও ভালো ফলাফল নয়। তবে প্রকাশিত এই ফলাফলে হতাশ নন তিনি।

কারণ হিসেবে জানালেন, এবার টাঙ্গাইল জেলার ৫ টি সরকারি কলেজের মধ্যে পাসের হার এবং জিপিএ ৫ পাওয়া কলেজের মধ্যে ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের অবস্থান ২য়। এছাড়া পাসের সংখ্যায় জেলার ৯৫ টি কলেজের মধ্যে ৩য়। সেই হিসেবে ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ পিছিয়ে নেই।

“তবে আমাদের প্রত্যাশা আরও অনেক বেশি ছিল। কিন্তু সারাদেশেই এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই কমায় সেই প্রভাব ভূঞাপুরেও পড়েছে। আগামীতে আমরা আমাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চালাবো।”

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.