News Tangail

তীরে এসে তরী ডুবলো বাংলাদেশের

পারলো না বাংলাদেশ দল। তীরে গিয়ে ডুবে গেলো তরী। স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৭২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শেষ মূহুর্তে তালগোল পাকিয়ে থেমেছে ২৬৮ রানে। তিন রানের হতাশার হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগারদের। জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়ে হতাশ করেছেন মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান রুমান। এক জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরিছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শেষ সাত বলে টাইগারদের জয়ে জন্য প্রয়োজন ছিলো ৮ রান। কিন্তুু উইকেটে থাকা দুই সেট ব্যাটসম্যান সাব্বির ও মুশফিক পারেননি। ইনিংসের ৪৯তম ওভারের শেষ বলে আউট হন সাব্বির রহমান। ব্যক্তিগত ১২ রানে দলীয় ২৬৪ রানে সাজঘরে যান তিনি।

সাব্বির বিদায়ের পর শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য ৮ রানের প্রয়োজন পড়ে। তখনো টাইগার ভক্তরা স্বপ্ন দেখছিলেন উইকেটে থাকা হাফ সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকের ব্যাটে। তবে বাংলাদেশের এই ব্যাটিং স্তম্ভও এদিন হতাশ করেন। সাব্বির বিদায়ের পরের বলেই তিনিও সাজঘরে যান। ব্যক্তিগত ৬৮ রান সংগ্রহ করেন মুশফিক। ৬৭ বলে পাঁচ চার ও এক ছয়ে সাজানো ছিলো তার ইনিংসটি।

শেষ পাঁচ মোকাবেলা করেন মাশরাফি ও মোসাদ্দেক। তবে তাদের কেউই ৮ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি। শেষ পাঁচ বলের চার বল মোকাবেলা করেন মোসাদ্দেক। সংগ্রহ করেন মাত্র ৩ রান। মাশরাফি এক বলে করেন ১ রান। শেষ পর্যন্ত হতাশার তিন রানের হার নিয়ে সিরিজ ঝুলিয়ে রাখলো টাইগাররা।

স্বাগতিকদের ২৭১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ তামিম-বিজয়ে দুর্দান্ত শুরু করে। তবে দলীয় ৩২ রানেই ফিরে যান বিজয়। ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে ঝড় তোরা বিজয় থামেন মাত্র ২৩ রানে। নয় বলে দুই চার ও দুই ছয়ে নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি।

বিজয়ের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন সাকিব আল হাসান। তামিমের সঙ্গে তিনি জুটি গড়েন ৯২ রানে। তামিম ইকবাল হাফ সেঞ্চুরি করে দলীয় ১২৯ রানে ফিরে যান সাজঘরে। ৮৫ বলে ছয় চারে নিজের ইনিংসটি সাজান তামিম।

তামিমের বিদায়ের পর মুশকিকে নিয়ে জুটি গড়েন সাকিব। হাফ সেঞ্চুরি করে তিনিও সাজঘরে ফেরত যান। অর্ধশতক পূর্ণ করেই এলবিডাব্লিউ’র ফাঁদে পড়েন সাকিব। এ যাত্রায় রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। খানিক পরেই ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভেলিয়ানের পথ ধরেন অলরাউন্ডার। আউট হওয়ার আগে ৭২ বলে পাঁচ চারে ৫৬ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেছেন তিনি।

ক্যারিবিয়ানদের হয়ে দেবেন্দ্র বিশু,অ্যাশলে নার্স, আলজারি জোসেফ ও জেসন হোল্ডাররা ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪৯.৩ ওভার অলআউট হয়ে ২৭১ রানে।

বাংলাদেশী বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরুতে রানের চাকা তেমন সচল করতে পারেনি স্বাগতিকরা। কোন ব্যাটসম্যানই তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারছিলেন না। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন শিমরণ হেটমায়ার। তাঁর লড়াকু সেঞ্চুরিতেই ২৭১ রানের বড় পূঁজি পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশেল বোলারদের তিনি শাসন করেছেন। ৯৩ বলে ১২৫ রান করেন রান আউট হয়ে তিনি সাজঘরে ফেরেন। তার ইনিংসে তিনটি চার ও সাতটি ছক্কার মার ছিলো। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪ রান আসে কাইরন পাওয়েলের ব্যাট থেকে।

ক্যারিবীয়ান ব্যাটিং ইনিংসে শুরুতেই আঘাত হানেন মাশরাফি। তার শিকারে ওপেনার দলীয় ২৯ রানেই ফিরে যান ওপেনার লুইস। তিনি করেন ১২ রান। মাশরাফির পর উইকেট শিকার করেন মিরাজ। স্বাগতিকদের দলীয় ৫৫ রানে ক্রিস গেইলকে ফেরান তিনি।

বিদায়ের আগে ক্রিস গেইল করেন ২৯ রান। এরপর দলীয় ৭৭ রানেই তৃতীয় উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাশরাফি, মিরাজের পর এবার উইকেট শিকার করেন সাকিব। ২৫ রান করা শাই হোপকে সাজঘরে পাঠান তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে রুবেল ৩টি, মুস্তাফিজ ২টি, সাকিব ২টি, মাশরাফি ও মিরাজ ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.