ব্রেকিং নিউজ
News Tangail

বাসাইলে রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঠদান চলছে এক শিক্ষক দিয়ে

বাসাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের শিশু থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ৬টি ক্লাস একজন শিক্ষককেই সামলাতে হচ্ছে। একটি ক্লাসে শিক্ষক গেলে অন্য ক্লাসগুলো ফাঁকা থাকে। এ কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে একজন শিক্ষকেই পাঠদান দিতে দেখা যায়।

জানা যায়, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। পাঁচজন শিক্ষকের পদ থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২ জন শিক্ষক দিয়েই জোড়াতালির মাধ্যমে চলছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। প্রথম অধিবেশনে শিশু শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত ৩টি ক্লাস নেওয়া হয়। দুইজন শিক্ষক দুইটি ক্লাসে গেলে একটি ক্লাস ফাঁকা থাকে। একইভাবে দ্বিতীয় অধিবেশনে তৃতীয় শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত তিনটি ক্লাস চলে। প্রতি সময় একটি করে ক্লাস শিক্ষক বিহীন থাকে। গত শনিবার থেকে এ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাসুদুর রহমান প্রশিক্ষণে রয়েছে। আর কারণে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিনকে দিয়েই। এ দুইজন শিক্ষকের মধ্যে নাজিম উদ্দিন ২০১৭ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে কর্মরত।

৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ঊর্মি আক্তার, ইভা আক্তার, বৃষ্টি আক্তারসহ শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘দ্বিতীয় অধিবেশনে তৃতীয় থেকে ৫ম শ্রেণীর তিনটি ক্লাস দুইজন শিক্ষককেই নিতে হয়। অনেক সময় স্যার আমাদের পড়া দিয়ে আবার অন্য ক্লাসে চলে যায়। এ জন্য স্যার আমাদের পড়া ভালোভাবে আদায় করার আগেই ক্লাসের সময় চলে যায়। সামনে আমাদের সমাপনী পরীক্ষা, প্রস্তুতিও নেই তেমনটা। স্যার কম থাকায় অনেকে অন্য বিদ্যালয়ে চলেও গেছে।’ শিক্ষক ঘাটতি থাকায় তাদের পড়া লেখার অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলেও তারা জানায়।

এ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে দুইজন শিক্ষককেই শিশু থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাসগুলো নিতে হচ্ছে। ক্লাস চলাকালে একটি করে ক্লাস ফাঁকা থাকে। এ জন্য একটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পড়া দিয়ে আরেকটি ক্লাসে একজন শিক্ষককে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় অফিসিয়াল কাজে শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। সেই সময় একজন শিক্ষককেই সকল ক্লাস একাই সামলাতে হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ আরো ৪জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। বার বার আবেদনের পরও শূণ্য পদগুলো পুরণ করা হচ্ছে না। শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।’

অভিভাবকদের অভিযোগ- বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকলেও শিক্ষা অফিস কোনও প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের উপজেলা সদরে নিয়েও পড়া লেখা করাচ্ছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকলিমা চৌধুরী বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই শিক্ষক পেয়ে যাবো।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.