ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

ভূয়াপুরে বীজতলায় পোকার আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক

ফরমান শেখ, ভূঞাপুর: বীজতলায় ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণে বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন (ধানের চারা) পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে পচে যাওয়ায় হতাশ ও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় পড়বে বলে ধারণা করছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ধান চাষি কৃষকরা। কেননা বিগত কয়েক বছরে বীজতলা বর্ষার পানিতে পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক বেশি দামে ধানের চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপন করতে হয়েছে। এতে করে কৃষকরা ধান চাষে লাভবান হতে পারেননি বলে জানায় ধানচাষিরা।

উপজেলার কয়েড়া, নিকরাইল, মাটিকাটা, বিলচাপড়া, চর-কয়েড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বীজতলায় (ধানের চারা) পাতা হলুদ বর্ণ হয়ে পচে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়।

আঞ্চলিক ভাষায়- ব্রি ধান-১১, পাইজম, সোনামুই, পারজাক, গাইন্জা, চিনি সাগর, কাল জিরা, স্বর্ণ, গুটি স্বর্ণসহ নানা জাতের ধান বীজতলা করা হয়। এদের মধ্য ব্রি ধান-১১, চিনি সাগর ও স্বর্ণ ধানের চারার পাতা বেশি ‘থ্রিপস’ পোকার আক্রমণে পচন দেখা দিয়েছে বৃষ্টির পানিতে। এসব নানা ধরণের রোগবালাই প্রতিরোধসহ সব ধরণের কৃষি পরামর্শ চেয়েছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কাছে হতাশগ্রস্থ কৃষকরা।

ধানচাষি মহর আলী জানান, গতবারের তুলনায় এবারের বীজতলা (ধানের চারা) সুস্থ সবল হয়েছিল। কিন্তু অতি বৃষ্টির পানির কারণে নানা অজানা রোগে ধানের চারার পাতা হলুদ বর্ণ হয়ে পচতে শুরু করছে। কোনো ভাবেই এই পচনরোধ করতে পারছি না। এই পচন রোধে কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দরকার। তা না হলে চরম বিপাকে পড়তে হবে।

কথা হয় ধান চাষি হারুণ অর-রশীদেরর সাথে। তিনি জানান, হঠাৎ করেই ক’দিনেই ধানের চারার পাতা হলুদ রঙ হয়ে যায়। পড়ে পচন শুরু হয়। কেন এমন হয় তার কারণ জানতে গ্রামের কিছু কৃষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা আমাকে জানায়, অতি বৃষ্টির পানি বীজতলাতে জমে থাকায় ধান পাতা হয়ত পচন শুরু হয়েছে। কিন্তু এই পচন রোধ করতে সঠিক কোন পরামর্শ পাইনি। এখন কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা পেলে এই রোগের প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এজন্য অতিদ্রুত কৃষি অফিসকে এগিয়ে আসা দরকার বলে মনে করছি।

কৃষক জলিল জানান, ধানের পাতা পচে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ছি। আর মাত্র কয়েকদিন পরই ধানের চারা রোপণ করতে হবে জমিতে। যদি ধানের চারা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবে। সেই সঙ্গে রোপা আমন ধানের চারা সংকটে অধিক দামে চারা কিনতে হিমশিম খেতে হবে।

কৃষকরা অভিযোগ করে জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেমন কোন ধরণের প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ সহযোগিতা পাওয়া যায়নি এ এলাকায়। কৃষি পরামর্শ ও সব ধরণের সহযোগিতা পেলে চরম বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাব।

এদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শেখ রাশেদ জানান, বীজতলায় ধানের পাতায় যে হলুদ রঙ বর্ণ ধারণ করে বৃষ্টির পানিতে পচে যাচ্ছে তা ‘থ্রিপস’ পোকার আক্রমণে। এই পোকা এক ধরনের ক্ষতিকারক পোকা। এ পোকা ধানের চারার গোড়া শিকর ও পাতাকে বিনষ্ট করে। যার কারণে ধানের চারা তার প্রয়োজনীয় শক্তি পান না। ফলে ধানের পাতা হলুদ হয়ে পচে যায়। তবে এ নিয়ে কোন হতাশের কারণ নেই। উপজেলা কৃষি অফিস অথবা মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিকট থেকে সঠিক পরামর্শ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় কীট-নাশক ব্যবহার করলে দ্রুত সময়ে ক্ষতিকারক এই পোকা ধ্বংস হয়ে যাবে।

শেখ রাশেদ আরো জানান, ইতিমধ্যে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সরেজমিনে বেশ কয়েকটি গ্রামের ধানের বীজতলা পরিদর্শন করা হয়েছে। কৃষকদের দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জিয়াউর রহমান জানান, কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পরিদর্শনে পাঠানো হয়। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কৃষকদের সব ধরণের পরামর্শ প্রদান করছেন।

Please follow and like us:
error0
fb-share-icon20
Tweet 20
fb-share-icon20

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial