News Tangail

গীতিকার ও গল্পকারদের জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন চাই

বাংলাদেশে কণ্ঠশিল্পী, নায়ক নায়িকা, নাচ কিংবা সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতার অভাব নেই। প্রতি বছর এ ধরনের আয়োজনগুলো থেকে একাধিক কণ্ঠশিল্পী, অভিনেতা অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পায়। টিভি চ্যানেল কিংবা যেকোন কোম্পানীর নিজস্ব উদ্যোগেই এ ধরনের আয়োজনগুলো হয়ে থাকে।

নাটক, সিনেমা কিংবা গান, এগুলো তৈরীর জন্য গল্প এবং গীতিকবিতার প্রয়োজন হয় অর্থাৎ নাটক সিনেমা তৈরী হয় একটি গল্প দিয়ে এবং একজন শিল্পী একটি গীতি কবিতাকেই তার কণ্ঠে ধারণ করেন, অতএব বলাই যায় গল্প, গীতি কবিতা ছাড়া নাটক সিনেমা তৈরী, অভিনেতা অভিনেত্রীদের অভিনয় কিংবা একজন কন্ঠশিল্পীর গান গাওয়ার কিছু নেই।

বাংলা সিনেমায় মৌলিক গল্পের অভাব এখন, সিনেমা সংশ্লিষ্ট সবার মুখেই একই কথা, ভালো গল্প নেই, তাই মানহীন সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে এখন, বিভিন্ন দেশের সিনেমার গল্প নকল করে কিংবা বড় বড় কবি সাহিত্যিকদের গল্প কবিতা অবলম্বনে নাটক সিনেমা তৈরী হয়। গানগুলো সব মৌলিক হলেও নতুন গীতিকারকে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়, পরিচিতি মাধ্যম ছাড়া সুযোগ হয় না, অনেক সময় উল্টো টাকা দিয়ে গান করাতে হয়, সঙ্গীত পরিচালক, কোম্পানী, শিল্পী সহ বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে প্রতারিত হতে হয়। আবার সঙ্গীতাঙ্গনে প্রচলিত আছে যে, তরুন গীতিকারদের গান নিয়ে অনেকেই তাদের নিজের নামে চালিয়ে দেন।

নাটক সিমেনার বেলায়ও একই অবস্থা, তরুন ও নতুনদের সুযোগ পেতে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হয়, প্রতারিত হতে হয়। গল্প কবিতার বই প্রকাশ করতে গেলেও প্রকাশদের কাছ থেকে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হয়, অনেক সময় তরুন লেখক প্রকাশককে গল্প দিলেও তা প্রকাশ হয় অন্য কারো নামে, কেউ কেউ নিজ খরচে বই করলেও সামান্য সংখ্যক বই ছাপিয়ে লেখকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়, সুনির্দিষ্ট পন্থায় বাজার জাত করা হয় না।

বাংলাদেশে গল্পকার ও গীতিকারদের নিয়ে আলাদা কোন প্রতিযোগিতা হয় না, তবে ২০০৭ সালে জনপ্রিয় বেসরকারী টেভি চ্যানেল বাংলাভিশন একটি সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ও গীতি প্রতিযোগিতার আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে এ আয়োজনটি আলোর মুখে দেখেনি। পহেলা বৈশাখ কিংবা অন্যান্য উৎসবে কোন টিভি চ্যানেল এর বিশেষ আয়োজনে নাটক তৈরীর জন্য গল্প আহ্বান করলেও তা সকলের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ নয়।

কণ্ঠশিল্পী, অভিনেতা অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পীদের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তুলে আনা হয়। একই ভাবে যদি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুন গীতিকার ও গল্পকারদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে বাংলা সিনেমায় মৌলিক গল্পের দূর্ভোগ কমতে পারে, মানহীন বাংলা গানেও বেশ পরিবর্তন আসতে পারে, সর্বোপরি লেখাকে যারা পেশা হিসেবে নিতে চান, নিজ নিজ মেধা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ বাড়বে নিঃসন্দেহে।

যারা কণ্ঠশিল্পী, নায়ক নায়িকা, নাচ কিংবা সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন, তারাই গল্পকার ও গীতিকারদের জন্য আয়োজন করতে পারেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন বাংলা চলচিত্র এবং সঙ্গীতাঙ্গনের জন্য বেশ ফলপ্রসূ হবে বলেই আমি মনে করি।

জুবায়ের আহমেদ
অনলাইন এক্টিভিস্ট

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.