ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

সিরাজগঞ্জ- ০৩ রায়গঞ্জ, তাড়াশ, সলঙ্গা আ’লীগের মনোনয়নে এগিয়ে দিলু, বিএনপিতে ভিপি আইনুল ইসলাম

মোঃ জহির রায়হান, সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রদানের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা উইনেবল প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। সেদিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন এটিএম লুতফর রহমান দিলু। তার এই ব্যাপক জনসংযোগের ফলে এই অঞ্চলের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে তার পক্ষে জনগনের নিকট নৌকা প্রতীকে দিলুকে ভোট দেয়ার জন্য, ভোট চাইতে শুরু করেছে বলে জানা যায় ।

সংসদীয় আসন -৬৪, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনটি রায়গঞ্জ থানার ৬ টি ইউনিয়ন ,সলঙ্গা থানার ৩টি ইউনিয়ন ও তারাশ উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মাঝে রায়গঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা বেশী।

রাজনৈতিক জীবনে এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু) চৌধুরী ঘুঘাট ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সদস্য, ধুবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য, সলঙ্গা থানা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ও সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক কমিটির অন্যতম একজন সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালে নির্বাচনের পর দলের প্রয়োজনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (ততকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী) দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের কিংবদন্তি প্রয়াত নেতা জনাব আব্দুল লতিফ মির্জা সাহেবের ততা¡বধায়নে ততকালীন বিএনপি-জামায়াত চার দলীয় জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারখ্যাত হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় হরতাল-অবরোধ, টেকনাফ-তেতুলিয়া মানববন্দন কর্মসূচী এবং গোল চত্বর-চান্দাইকোনা এলাকায় মাননীয় নেত্রীর যে সকল বিশাল বিশাল জনসভা হয়েছে তার একজন সংগঠক হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচারী চার দলীয় জোট সরকারের নির্যাতনের শিকার রায়গঞ্জ, তাড়াশ এবং সলঙ্গা থানার আওয়ামীলীগের ব্যাপক সংখ্যক নেতাকর্মীর হাসপাতালে চিকিৎসা ও মামলা মোকদ্দমার খরচ বহন করেন। ২০০৩ সালে প্রলয়ংকরী বন্যায় আওয়ামীলীগের অগনিত নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে অত্র এলাকায় আওয়ামীলীগের ব্যানারে বিশাল আকারে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। একটি সময় রায়গঞ্জ-তাড়াশ এবং সলঙ্গা বিএনপির স্থায়ী আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। দিলুর অক্লান্ত পরিশ্রম, সামাজিক ও অর্থনেতিক কর্মকান্ডের জন্য মানুষের মধ্যে আওয়ামীলীগের গণ জাগরণ সৃষ্টি হয় এবং তার ফলশ্রুতিতে ২০০৮ জাতীয় নির্বাচনে প্রয়াত সাংসদ জনাব ইসহাক হোসেন তালুকদার বিশাল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু) ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত নেতা ইসহাক হোসেন তালুকদারকে মনোনয়ন দিলে তিনি মাঠে থেকে নৌকা প্রতিককে বিজয়ের জন্য কাজ করেন এবং ২০১৪ সালে বর্তমান এমপি জনাব ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলনকে মনোনয়ন দিলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেন।

এ.টি.এম. লুৎফর রহমান দিলু বলেন , “ আমি রাজনীতি করি জনগনের কল্যানের জন্য । জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে ,এই আসনে আমি নির্বাচিত হয়ে আসনটি তাকে উপহার দিব। মহান আল্লাহতায়ালা আমাকে একজন সফল ব্যবসায়ী করেছেন , আলাহর রহমতে জনগনের টি আর , কাবিখা বা সরকারী বরাদ্দের কোন কিছু আমার মেরে খেতে হবে না । আমি চাই আমি যেন জনগনের সেবা বৃহত পরিসরে করতে পারি ও অবহেলিত এই আসনের লোকজনের মুখে হাসি ফোটাতে পারি”।

অন্যদিকে রায়গঞ্জ, তাড়াশ, সলঙ্গা আসনে বিএনপি হতে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজের তিন বারের নির্বাচিত ভিপি আইনুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে রায়গঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা যুবদলের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক মাঠে সুনামের সাথে কাজ করে আসছেন।

ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রতন বলেন- “দীর্ঘদিন যাবত আইনুল ইসলাম তাড়াশ, সলঙ্গা, রায়গঞ্জের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মাঠে কাজ করছেন। তাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিলে আপামর জনসাধারণ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে বলে বিশ্বাস করি।”

রায়গঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য আব্দুল কাদের বলেন- “আমাদের নেতা আব্দুল মান্নান সাহেব এর বয়স বেশী হয়ে যাওয়ায় সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেন না। ভিপি আইনুল ইসলাম তরুণ ও পরিশ্রমী ব্যক্তি হিসেবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের মাঝে সুনাম রয়েছে। তাই ভিপি আইনুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক পেলে উক্ত আসনটিতে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে বিশ্বাস করি।”

ভিপি আইনুল ইসলাম বলেন-“দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যাকে ধানের শীষ প্রতীক দেবে আমি তার জন্যই কাজ করে যাব, তবে যেহেতু দলের এই দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে ছিলাম এবং বিরুপ পরিস্থিতিতে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি তাই বিশ্বাস করি বিএনপি উক্ত আসনে আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেবে এবং আমি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে উক্ত আসনটিকে উপহার হিসেবে দিতে পারব।”

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.