ব্রেকিং নিউজ
News Tangail

নামাজে মনোযোগী হওয়ার উপায়

নামাজে একাগ্রতা না থাকলে তা বান্দার কোনো উপকারে আসবে না। শুধু নামাজ নয় বান্দার যে কোনো ইবাদত-বন্দেগিতে যদি ইখলাস তথা একনিষ্ঠতা না থাকতে সে ইবাদত গ্রহণযোগ্য নয়। তাই নামাজে একাগ্রতা সৃষ্টিতে তথা মনোযোগী হতে কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। আর তাহলো-

১. নামাজে মনকে হাজির রাখা: নামাজে দাঁড়ানো পূর্ব মুহূর্তে দুনিয়ার যাবতীয় পেরেশানি থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নামাজ আদায়ে মনকে তৈরি করা। মানুষের মনোভাব এমন থাকবে যে, নামাজ আদায়কারী আল্লাহ তাআলাকে দেখছে; অথবা আল্লাহ তাআলা মানুষের নামাজ পড়া দেখছেন। এ মানসিকতাই মানুষকে নামাজে মনোযোগী করবে।

২. নামাজের আমলগুলো বুঝে বুঝে করা: নামাজে তাকবিরে উলা (আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বাঁধা) থেকে শুরু করে সুরা ফাতিহা, সুরা মিলানো, তাকবির, তাহমিদ, তাসবিহ, তাহলিল, রুকু, সেজদা এবং তাশাহহুদসহ যাবতীয় আমলগুলো বুঝে অর্থসহ অনুধাবন করে আদায় করা। তাতে মানুষের মন নামাজের আমলগুলোর মধ্যে থাকবে।

৩. আল্লাহর মহত্ব ও সম্মানের দিকে খেয়াল রাখা: আল্লাহর সম্মান ও মহত্ব লাভে দু’টি জিনিস বেশি বেশি খেয়াল রাখা জরুরি। প্রথমত- আল্লাহ মহান পবিত্র ও সুউচ্চ। তার মর্যাদার সমকক্ষ কেউ নেই। এ বিশ্বাস অন্তরে রেখে নামাজ আদায় করা।

দ্বিতীয়ত- আল্লাহর মহত্ব বড়ত্ব ও মর্যাদা যত বেশি; অন্যদিকে নামাজ আদায়কারীর যোগ্যতা তত কম। নামাজ আদায়কারীর যোগ্যতা এত কম যে, নামাজের আরকান-আহকামগুলো যথাযথ পালন করার কোনো ক্ষমতা তার নেই। নামাজে নিজেকে যত ছোট করা সম্ভব হবে, নামাজে তত একাগ্রতা সৃষ্টি হবে।

৪. অন্তরে আল্লাহর ভয় পোষণ করা: নামাজে একাগ্রতা তৈরির অন্যতম হলো আল্লাহর ভয় অর্জন করা। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ যথাযথ পালন অক্ষমতার কারণেই বান্দার এ ভয় সৃষ্টি হয়। নামাজে তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই একাগ্রতা তৈরি হবে।

৫. নামাজ কবুলের আশা করা: নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আশা করা। পরিপূর্ণ সাওয়াব লাভের আশা করা।

৬. নামাজে ধীরস্থির হওয়া: নামাজ আদায়ের আগে নিজের মনকে পরিশুদ্ধ করে দুনিয়ার সব কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকার মানসিকতা তৈরি করা। আরকান ও আহকামের বাইরে নামাজে আর কোনো আমল না করা। ধীরস্থিরভাবে নামাজের রুকু, তাসহিব, তাকবির, তাশাহহুদসহ ওঠা-বসায় তাড়াহুড়ো না করা।

মানুষ যখনই নামাজে মনোযোগী হবে; নামাজে একাগ্রতা তৈরি সক্ষম হবে; তখনই বান্দার নামাজ সফলতা পাবে। এ নামাজই মানুষকে দুনিয়ার যাবতীয় অন্যায়-অশ্লীল কাজ থেকে মুক্ত রাখবে। আল্লাহ তাআলার ঘোষণাও এমন যে, ‘নিশ্চয় নামাজ মানুষকে অন্যায়-অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.