ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

টাঙ্গাইলে মসজিদের জমি দখল করলেন ইউপি সদস্য!

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক ইউপি সদস্য মসজিদের সীমনাপ্রাচীর ভেঙে ৫ শতাংশ জমি দখল করে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এ ঘটনায় ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

মির্জাপুরের তরফপুর ইউনিয়নের ছিটমামুদপুর দিঘিরচালা বাজার জামে মসজিদের জায়গা দখল করা ওই ইউপি সদস্য হলেন জাহাঙ্গীর আলম সিকদার।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সিকদারের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় ও উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে ওই এলাকায় মুসুল্লিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৮৩ সালে ছিটমামুদপুর গ্রামের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীরের বাবা মৃত হাড়ান সিকদার দিঘির চালা মসজিদের নামে ছিটমামুদপুর মৌজার ৬৪০ খতিয়ানে ৪৫২ দাগে ২৩ শতাংশ জমি দলিলমূলে দান করেন।

ছিটমামুদপুর বাজার সংলগ্ন ওই জমিতে পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় একাংশে দোতলা মসজিদ নির্মাণ করার পর সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়।

সম্প্রতি তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সিকদার ৫ শতাংশ জমি নিজের দাবি করে মসজিদের গেট ও পাকা দেয়াল ভেঙে ৫ শতাংশ জমি দখল করে দেয়াল নির্মাণ করেন।

এ কাজে এলাকাবাসী বাধা দিলে গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি দেখান তিনি। পরে গ্রামবাসীর পক্ষে লাল মিয়া মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

তখন মির্জাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ফয়সাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেয়াল নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে জাহাঙ্গীর দেয়াল নির্মাণকাজ চালু রাখেন।

অবশেষে গ্রামবাসীর পক্ষে লাল মিয়া, ফজলুল হক, সিরাজ মিয়া, ছানোয়ার হোসেন মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবার লিখিত অভিযোগ দেন। এতেও কোনো কাজ না হওয়ায় মসজিদের জমি রক্ষায় লাল মিয়া আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা করেন।

ছিটমামুদপুর গ্রামের ফজলুল হক (৬০), শওকত হোসেন (৩২), বাবুল মিয়া (৫৫), লুৎফর রহমান (৪২) ও আব্দুল হালিম (৫০) বলেন, দীর্ঘ তিন যুগ ধরে মসজিদ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছি। জাহাঙ্গীর সিকদার জায়গা দখল করায় এবারের ঈদে নামাজ আদায় করতে কষ্ট হয়েছে মুসুল্লিদের।

মসজিদের ঈমাম আব্দুল বাতেন বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এ মসজিদে ইমামতি করছি। জাহাঙ্গীর আলম যে জমি দখলে নিয়েছেন তা আমি চাকরির পর থেকেই মসজিদের হিসেবে পেয়েছি। মসজিদের জমির চারপাশে সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। তা ভেঙে ৫ শতাংশ জমি দখলে নিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সিকদার বলেন, মসজিদের নামে আমার বাবা ২৩ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছেন। মসজিদের জমি ঠিকই আছে। আমাদের ৫ শতাংশ জমি মসজিদের জমির মধ্যে বেশি থাকায় মসজিদ কমিটি রেজুলেশন করে আমার জমি ফেরত দিয়েছে। আমি ওই জমির মধ্যে দেয়াল নির্মাণ করেছি।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ওসি একে এম মিজানুল হক বলেন, মসজিদের ওই জমি নিয়ে আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা হয়েছে। উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। জমির বিষয়ে আদালত আদেশ দেবেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.