ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

আয়ু বাড়িয়ে দেবে এই পাঁচটি কাজ

লম্বা জীবনের রহস্য কী? সুস্থ জীবনযাপন? নাকি ব্যাপারটা বংশগত? যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় দাবি করা হয়, জীবনযাপনে মাত্র পাঁচটি পরিবর্তন আনতে হবে আয়ু বাড়াতে। ৫০ বছর বয়সের পর এই পাঁচটি কাজের অভ্যাস করলে নারীর আয়ু ১৪ বছর এবং পুরুষের বয়স ১২ বছর বাড়তে পারে।

অনেকের কাছেই এই পাঁচটি কাজকে খুবই সাধারণ মনে হবে। কিন্তু এসব কাজের ফলাফল মোটেই সাধারণ নয়। পাঁচটি কাজ হলো-

১) স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস

২) ধূমপান বর্জন

৩) নিয়মিত শরীরচর্চা

৪) ওজন নিয়ন্ত্রণ

৫) পরিমিত মাত্রায় অ্যালকোহল সেবন

বেশিরভাগ মানুষই জানেন এ কাজগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু এসব কাজের অভ্যাস বজায় রাখতে পারেন না সবাই, ফলে তাদের আয়ু কমে। গবেষণার লেখকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য উচ্চ-আয়ের দেশগুলোর নাগরিকের তুলনায় আমেরিকানদের আয়ু কম, কারণ তারা এসব অভ্যাস ধরে রাখতে পারে না।

শরীরের ওজন এবং উচ্চতার অনুপাত, বিএমআই রাখতে বলা হয় ১৮.৫ এবং ২৪.৯ এর মাঝে। নিয়মিত শরীরচর্চা বলতে বোঝানো হয়, দৈনিক ৩০ মিনিট বা তারও বেশি শরীরচর্চা (যেমন জোরে হাঁটা)। অ্যালকোহল সেবনের মাত্রা দেওয়া হয় নারীর জন্য দৈনিক ৫-১৫ গ্রাম এবং পুরুষের জন্য ৫-৩০ গ্রাম।

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের গড় আয়ু ৭৯ বছর, অন্যদিকে জাপানের মানুষের গড় আয়ু ৮৪ বছর। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতে নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং চিকিৎসায় যত ব্যয় হয়, রোগ প্রতিরোধে তত ব্যয় করা হয় না। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ফলাফল হিসেবে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকে প্রচুর মানুষ মারা যান। গবেষণায় দাবি করা হয়, জীবনযাত্রায় পাঁচটি পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

গবেষণার জন্য এক লাখ মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। নারীদের জন্য ৩৪ বছর পর এবং পুরুষের জন্য ২৭ বছর পর আবারো তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দেখা যায়, এক লাখ মানুষের মাঝে ৪২,১৬৭ জন মারা গেছেন এ সময়ে। তার মাঝে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ মারা গেছেন ক্যান্সারে এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন হৃদরোগে।

গবেষণায় দেখা যায়, পূর্বে উল্লিখিত পাঁচটি স্বাস্থ্যকর কাজের অভ্যাস গড়ে তোলেন যারা, তাদের আয়ু অন্যদের তুলনায় বেশি হয় এবং গবেষণা চলাকালীন তাদের মৃত্যু ঝুঁকি কমে আসে ৭৪ শতাংশ। এই পাঁচটি অভ্যাস হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায় ৮২ শতাংশ এবং ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায় ৬৫ শতাংশ।

এটা ঠিক যে পরিবেশ এবং বংশগতি আয়ু নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও যে আয়ু বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তাই প্রমাণ করে এই গবেষণাটি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.