News Tangail

টাঙ্গাইলে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জানার পর নিহতের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল ভাংচুর ও চিকিৎসক,নার্সদের উপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরে চিকিৎসক ও নার্সরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও আনসার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। (৩০ আগস্ট ) বৃহস্পতিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, (৩০ আগস্ট ) বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জাপুর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সাকিম উদ্দিনের ছেলে মো. আলাল উদ্দিন(৫৫) বুকে ব্যথা নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালের নিচ তলায় এমএমসি ওয়ার্ডে ভর্তি হয় । হাসপাতালে ভর্তির পর তার বুকের ব্যথা আরও বাড়তে থাকে। তার বোন ফিরোজা বেগম ও ভাতিজা আলামিনসহ স্বজনা ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সদের দ্রুত চিকিৎসাপত্র দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এ সময় চিকিৎসক কানে মোবাইলের হেডফোন দিয়ে গান শুনতে এবং ফেইসবুক ব্যবহারে ব্যস্থ ছিলেন। চিকিৎসকরা উল্টো তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অসৌজন্য মুলক আচরন করেন এবং তাদের হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। চিকিৎসকদের কাছ থেকে তারা ফিরে এসে দেখেন আলাল উদ্দিন বুকের ব্যথায় ছটফট করে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।এ সময় নার্সরা এসে ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় তার হাত-পা কাল ও নীল হয়ে অল্পক্ষন পরেই তিনি মারা যান।

ফিরোজা বেগম ও আলামিন অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের চরম অবহেলার কারনে আমাদের রোগী আলাল উদ্দিন মারা গেছেন। এই খবর শুনে স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসলে ডাক্তার ও নার্সরা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যায়।তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি ।

এদিকে ঘটনা জানতে হাসপাতালে গেলে ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা আগের মতো নেই । এখানে চিকিৎসক ,নার্সরা কেউ রুগিদের কথা শুনছে না। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন । চিকিৎসকদের অবহেলায় একের পর এক রোগী মারা যাচ্ছে।কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগ করার পরও ন্যায় বিচার হচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আলাল উদ্দিনের মত্যুর ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।তদন্তে দোষী প্রমানিত হলে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক বলেন, ঘটনার পর পরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। নিহতের পরিবার থেকে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করে নাই ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.