ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার পরবর্তী সাক্ষগ্রহণ ২৭ সেপ্টেম্বর; এমপি রানার জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।

আজ বুধবার মামলার প্রধান আসামী সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মাকসুদা খানম। অপরদিকে এমপি রানার সমর্থকরা মিছিল নিয়ে আদালত প্রাঙ্গনের দিকে যাওয়া সময় পুলিশ বাধা দেয়। পরে সমর্থকরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ করে।

এসময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার সেল ও লাঠি চার্জ করে। এ ঘটনায় ১টি বিদেশী পিস্তল,২টি ম্যাগজিন ও ৮রাউন্ড গুলিসহ ১১জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে আসামীপক্ষের জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বিকেল চারটায় জামিন না মঞ্জুর করেন বিচারক।

বাদিপক্ষের আইনজীবীরা আজ জামিনের আদেশের ব্যাপারে অধিকতর শুনানীর আবেদন করলে আসামীপক্ষের আইনজীবীরা তার বিরোধিতা করেন। এছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধীতা করেন। এদিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মামলার প্রধান আসামী সাংসদ আমানুর রহমান খান রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত চত্বরে আজ সকাল থেকেই পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আদালত চত্বর ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বেলা ১১ টার দিকে এমপি রানার সমর্থকরা ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের দাবির ব্যানার নিয়ে শহরের শামসুল হক তোরণ এলাকায় অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার বিচার দাবিতে আদালত চত্বর ও শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

এই মামলায় এমপি রানা ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪জন আসামী রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.