ব্রেকিং নিউজ :

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে কোন্দলে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলেও বইছে নির্বাচনের দমকা হাওয়া। দেশের রাজনীতিতে টাঙ্গাইল জেলা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। টাঙ্গাইলে ৮টি আসনের মধ্যে বর্তমানে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিরা প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন। তবে বর্তমান এমপিদের মধ্যে একজন বয়সের ভারে ন্যুব্জ, একজন এমপি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন, দুই আসনে এমপিদের সঙ্গে দলীয় কোন্দল প্রকট এবং দুজন এমপি কর্মীবিমুখ হয়ে পড়েছেন বলে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। এসব আসনে উদ্যমী তরুণ ও নতুন পরীক্ষিত প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে। এমনটিই মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠনের পর থেকেই দলীয় কোন্দল ও দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য। বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, টাঙ্গাইল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এখন খালেদা জিয়া এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি সালাম পিন্টুর পরিবার এই দুই গ্রুপে বিভক্ত। জেলায় খালেদা জিয়ার কারামুক্তি আন্দোলন পালিত না হলেও সালাম পিন্টু কারামুক্তি আন্দোলন পালিত হয়। রাজপথে তারা সরকার বিরোধী কোন কর্মকান্ড পালনের চেয়ে নিজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের কুশপুতুল দাহ করা নিয়ে ব্যস্ত। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় কর্মসূচী নামেমাত্র পালন করছে। জেলায় জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সমর্থিতদের গুটিকয়েক নেতা থাকলেও কর্মীশূন্য দলে পরিণত হয়েছে। এছাড়া জেলায় জামায়াতে ইসলামের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁরা উন্নয়নমূলক কাজ, জনসভা, পথসভা, র‌্যালিসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছেন। শুধু নির্বাচনী প্রচার নয়, জনসাধারণের সুখ-দুঃখের অংশীদারিত্বের প্রমাণ দিতে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও তরুণ কর্মীদের কাছে টানছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ এলাকায় নির্বাচনী আমেজ তৈরি করছে। তাঁরা নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে অনেকেই কেন্দ্রে জোর লবিং করছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, চা-স্টলগুলোতে রঙিন পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে নিজের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন। এছাড়া হোটেল-রেস্তরাঁ, পাড়া-মহল্লায় সংসদ নির্বাচনের প্রচার এখন সর্বত্র।

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) ॥ দীর্ঘদিন ধরেই আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লির অন্যতম সদস্য, সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এ আসনের এমপি। তিনি পরপর তিনবার নির্বাচিত হয়ে এ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দুই উপজেলাতেই তাঁর শক্ত অবস্থানের কারণে তাঁর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। বিগত নির্বাচনগুলোতে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। এছাড়াও মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গসংগঠনের নেতকর্মী ড. আবদুর রাজ্জাকের প্রতি আস্থাশীল। আগামী সংসদ নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন, এটা প্রায় নিশ্চিত।

এ বিষয়ে ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, বিগত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমার নির্বাচনী এলাকা ধনবাড়ী ও মধুপুরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ধনবাড়ীতে মডেল উপজেলা ভবন, ৫০ শয্যার হাসপাতাল, থানা ভবন, ফায়ার সার্ভিস, প্রাণী হাসপাতাল, বিদ্যুত, সড়ক নির্মাণ, মধুপুরে ৭২ হাজার মে.টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক সাইলো নির্মাণ, কোল্ড স্টোরেজ, মধুপুর অডিটরিয়ামসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ধনবাড়ী ও মধুপুর উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দিয়েছি। বিপুল এই উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে মধুপুর-ধনবাড়ীর প্রতিটি মানুষ। মধুপুর-ধনবাড়ী এখন উন্নয়নের রোল মডেল।

এ আসনে বিএনপিতে প্রার্থী সঙ্কটে রয়েছে। ভূঞাপুর উপজেলার সন্তান শিল্পপতি ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে বিএনপি এ আসন থেকে মনোনয়ন দেয়। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নাজুক অবস্থানে রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নের মধ্যে দিয়েই আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনা মেনে কাজ করছি। তিনি মূল্যায়ন করবেন। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারলে এ আসনে বিএনপি প্রার্থী অবশ্যই জয়ী হবে।

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) ॥ আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান এই আসনের সংসদ সদস্য। কারাবন্দী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী। বর্তমানে এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামান বয়সের ভারে ন্যুব্জ। দীর্ঘদিন ধরে অসুুুস্থ থাকায় নির্বাচনী এলাকায় অনুপস্থিত।

তাঁর অনুপস্থিতিতে দলীয় নানা কাজে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনি। গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টুর সকল ষড়যন্ত্র ও সহিংস রাজনীতি মোকাবেলায় তানভীর হাসান ছোট মনিকে প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এছাড়া আওয়ামী ঘরানার তরুণ নেতৃত্বের বিশাল অংশ এখন তানভীর হাসান ছোট মনির অনুসারী। দলের সাংগঠনিক কর্মকা- ও সরকারের নানাবিধ উন্নয়নে শরিক হয়ে দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কাছেও ছোট মনি একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব- কাছের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি মানুষের পাশে থেকে সাহায্য-সহযোগিতা করে চলেছেন। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, এ আসনে বিএনপির সালাম পিন্টুর পরিবারকে মোকাবেলা করার জন্য ছোট মনির মতো নেতা প্রয়োজন। মনোনয়ন প্রত্যাশী তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, এলাকার নদী ভাঙ্গন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমি জনগণের পাশে থেকে সব সময়ই কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ এই আসনে আমাকে চায়। তাই জনগণের প্রত্যাশী পূরণে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ২০৪১ বাস্তবায়নে কাজ করতে পারব।

এ আসনে গোপালপুর উপজেলা পরিষদের দুবারের সফল চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় কাজ করে চলেছেন। ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে তিনি এলাকায় পরিচিত। ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠা-ু দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে নেতাকর্মীদের মাঝে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ আছে। ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠা-ু বলেন, অনেক দিনের পরীক্ষিত মানুষ আমি। জনগণ আমাকে চিনে এবং জানে। জনগণকে পাশে নিয়ে আমি কাজ করে যাচ্ছি। দুবার আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে বলেই আমি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

এছাড়া বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের অবর্তমানে তাঁর ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। পিতার উন্নয়নমূলক কাজকে এগিয়ে নিতে ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল এলাকায় কাজ করছেন।

অন্যদিকে, কারান্তরীণ সাবেক উপমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আব্দুস ছালাম পিন্টু জেলহাজতে থাকায় আইনী জটিলতায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলে তাঁর ছোট ভাই কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ আসনে প্রার্থী হবেন বলে দলীয় ও তার অনুসারী সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম তোফা বলেন, এই আসন বিএনপির। সরকারের জুলুম-নির্যাতনের পরও এ আসনে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির (এরশাদ) শামছুল হক তালুকদার ছানু এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) ॥ এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। নেতৃত্ব সঙ্কটে পড়েছে আওয়ামী লীগ। ঘাটাইলে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কোন কমিটি নেই। আহবায়ক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চলছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দিশেহারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বর্তমান এমপি আমানুর রহমান খান রানা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি হয়ে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে হাজতবাস করছেন। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে তাঁর মনোনয়ন পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত।

এ সুযোগে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান, বর্তমান এমপি আমানুর রহমান খান রানার স্ত্রী ফরিদা রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, ঘাটাইলে উন্নয়মূলক কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পড়েছে। দলীয় এমপি প্রায় দুই বছর ধরে অনুপস্থিত। এ সময় ঘাটাইলের উন্নয়নের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান মনোনয়ন পেলে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে জয় পাওয়া সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে ডাঃ কামরুল হাসান খান বলেন, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের অভিভাবক ছিলেন শামসুর রহমান খান শাজাহান। তাঁর সঙ্গে থেকে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করেছি। মাঠ পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করেছি। তাছাড়াও সর্বোপরি চিকিৎসক হিসেবেও জনগণের সেবা করে যাচ্ছি। এ কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে চায়। জননেত্রী ও দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘাটাইলের উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই জয়ী হব।

অপর প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, হত্যা মামলার আসামি এমপি রানাকে ঘাটাইলবাসী আর চায় না। তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। ঘাটাইলের জনগণ ভুল করে তাকে ভোট দিয়েছিল। কালো টাকা ও পেশীশক্তি দিয়ে সে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জয় পেয়েছিল। তার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমিই প্রতিবাদ করেছি। ঘাটাইলবাসীর কাছে রানা অতীত। উপনির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আবারও মনোনয়ন পেলে প্রধানমন্ত্রীকে নৌকা উপহার দিতে পারব।

এদিকে ঘাটাইলে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত ও শক্তিশালী। দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের কোন্দল থাকলেও উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের সকল নেতাকর্মী বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদের প্রতি সবাই আস্থাশীল। দলে তার একক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সকল নেতাকর্মী তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। তবে তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এবার প্রার্থী হবেন জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাইনুল ইসলাম।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ॥ এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় নেতারা কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত রয়েছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল না মিটিয়ে বরং একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছেন। বর্তমান স্থানীয় সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারির বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন অপর প্রার্থীরা। এদিকে বিএনপিতেও রয়েছে অস্বস্তি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মতিন নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এলাকা ছেড়েছেন। কদাচিৎ এলাকায় এলেও দলীয় কর্মকান্ডে তেমন তৎপরতা নেই। এ কারণে প্রার্থী সঙ্কটে ভুগছে বিএনপি।

এ আসনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজ এবং মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। সময়ের পরিক্রমায় উভয়েই রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন। এদের মধ্যে শাহজাহান সিরাজ অসুস্থতা জনিত কারণে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অপরজন লতিফ সিদ্দিকী আপত্তিকর বক্তব্যের কারণে মন্ত্রিত্ব হারান, দল থেকে বহিষ্কৃত হন এবং সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগের পর উপনির্বাচনে এমপি হন হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারি। তিনি এমপি হওয়ার পর থেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগে কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।

সংসদ সদস্য সোহেল হাজারি বলেন, উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর অনেক উন্নয়ন করেছি। এলেঙ্গা রেলস্টেশন, কালিহাতীকে ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য যমুনা নদীতে গাইড বাঁধ নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন, জোকারচরে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মানের টেন্ডার হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলায় ১৫০কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বছর ব্যাপক উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে। আগামী নির্বাচনে তিনিই মনোনয়ন পাবেন এমন বিশ্বাস তাঁর। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কালিহাতীর মানুষ আগে এমপির পেছনে ঘুরত। এখন এমপি মানুষের পেছনে ঘুরে। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা আস্থা রেখে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এবারও আমার ওপর আস্থা রাখবেন।

তীব্র কোন্দলের কারণে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সহধর্মিণী সাবেক এমপি লায়লা সিদ্দিকী মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। তিনি শুধু জানান, আমরা রাজনৈতিক পরিবার। রাজনীতির বাইরে নই। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। অপেক্ষায় রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিবেন ওই নির্দেশ মেনে চলব।

এদিকে শাহজাহান সিরাজের পর বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পপতি লুৎফর রহমান মতিন। নির্বাচনে পরাজয়ের পরই তিনি দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। সরকারবিরোধী কোন কর্মকা-ে তাকে পাশে পায়নি নেতাকর্মীরা। কালেভদ্রে এলাকায় এলেও দলীয় কর্মকান্ডে অংশ নেন না। স্থবির হয়ে পড়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম। এদিকে শাহজাহান সিরাজ অসুস্থ থাকায় তার স্ত্রী কেন্দ্রীয় বিএনপির তাঁতী বিষয়ক সহ-সম্পাদক রাবেয়া সিরাজ দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। রাবেয়া সিরাজ বলেন, শাহজাহান সিরাজ দীর্ঘদিন এমপি ছিলেন। দল নির্বাচনে গেলে অবশ্যই মনোনয়ন চাইবেন।

এদিকে এই আসনে নির্বাচন করবেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক এমপি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। এছাড়া জেলা জাতীয় পার্টির অর্থবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোস্তাক আহম্মেদ রতন দলীয় প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) ॥ বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন। নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- করে চলেছেন। সপ্তাহের চারদিনই তিনি তার সংসদীয় এলাকায় সময় দেন। তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে রয়েছে তার ব্যাপক যোগাযোগ। গণসংযোগ করছেন প্রতিনিয়ত। দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তার সুনাম রয়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করবেন বলে জানান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

বিগত তিনটি নির্বাচনে পরাজিত হয়েও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী মাঠে রয়েছেন। তিনি এ আসনে শক্ত একজন প্রার্থী। নির্বাচনী এলাকায় সভা সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করছেন। সাধারণ জনগণের মাঝে রয়েছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ অথবা স্বতন্ত্র যে দল থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন না কেন তার বিজয় হবে বলে জানান তার সমর্থিত ভোটাররা। এদিকে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদানের জন্য ইতোমধ্যে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

এ ব্যাপারে মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। এর বাইরে কখনই ছিলাম না। ১৯৯৮ সাল থেকে নির্বাচনের মাঠে রয়েছি। তিনবার নির্বাচন করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরেছি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে তো আমাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার নেত্রী। নেত্রী যদি আমাকে দলে যোগদান করার সুযোগ দেন তাহলে একজন কর্মী হিসেবে এলাকার জনগণের সেবা করার পথ সুগম হবে।

এদিকে জেলা বিএনপির নতুন কমিটির পর বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য ও সাংগঠনিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীরাও হয়ে পড়েছে দ্বিধাবিভক্ত। বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত মেজর জেনারেল (অব) মাহমুদুল হাসান। তবে তার বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তাই বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মী চাচ্ছেন নতুন মুখ। সেই হিসেবে তারা চাচ্ছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ২০০৮ সালে আমি গোপালপুর-ভূঞাপুর থেকে নির্বাচন করেছিলাম। ওই আসনটি থেকে আমার বড় ভাই আব্দুস সালাম পিন্টু বারবার নির্বাচন করে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। আইনগত কোন জটিলতা না থাকলে এবারও বড় ভাই ওই আসন থেকে নির্বাচন করবেন। সেক্ষেত্রে আমি টাঙ্গাইল সদর আসনে মনোনয়ন চাইব।

এদিকে টাঙ্গাইলে সাংগঠনিক কোন ভিত্তি নেই জাতীয় পার্টির। কিন্তু নির্বাচনী কৌশলগত কারণে আওয়ামী লীগ এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়ে আসছে। দলের মনোনয়ন চাইবেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পীরজাদা শফীউল্লাহ আল মুনীর নির্বাচনী মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল-৬ আসন (নাগরপুর-দেলদুয়ার) ॥ এ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল বাতেনের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে টানা দুইবার এমপি হয়েছেন তিনি। নেতাকর্মীদের অভিযোগ খন্দকার আব্দুল বাতেন এমপি হওয়ার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করেছেন। দূরে ঠেলে দিয়েছেন ত্যাগী নেতাদের। সুবিধা দিয়েছেন দলের বাইরের তার আস্থাভাজন ও জাসদের লোকদের। এ কারণে তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন দলীয় অনেক নেতাকর্মী। এবারও তিনি প্রার্থী হবেন।

এদিকে নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আহ্সানুল ইসলাম টিটু ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট তারানা হালিমের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ে আহ্সানুল ইসলাম টিটুর রয়েছে শক্ত অবস্থান। মনোনয়ন পেলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া টিটুর পক্ষে সহজ হবে বলে মনে করেন তার সমর্থিতরা। অপরদিকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই দেলদুয়ার ও নাগরপুরে সভা-সমাবেশ করছেন। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন। ইতোমধ্যে তিনি ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়াও ফেলেছেন।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে নেতাকর্মীরা আমার পাশে অবস্থান নিয়েছে। আট বছর ধরে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করছি। ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীদের পুনরুজ্জীবিত করেছি। আমি দুর্নীতি করি না। দুর্নীতিবাজদের কখনও প্রশ্রয় দেই না। ভবিষ্যতেও দেব না। আমার সঙ্গে দলীয়ভাবে কারও শক্রতা নেই। মনোনয়ন পেলে সবাইকে এক প্লাটফরমে নিয়ে নির্বাচন করব।

এছাড়া এ আসনে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তারেক শামস হিমু। তিনিও গত প্রায় ১০ বছর ধরে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। তরুণ নেতাকর্মীদের মধ্যেও তার একটা শক্ত অবস্থান রয়েছে। আগামী নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের কোন্দল ও দলীয় নেতাদের রেষারেষির সুযোগ নিতে চায় বিএনপি। হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন। এবারও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি হিসেবে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তাও রয়েছে। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) ॥ এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বড় দু’দলেই রয়েছেন একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য, কোন্দল। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়-ঝাঁপ করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এ আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বর্তমান এমপি ছাড়াও এবার এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন- টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মির্জাপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান খান ফারুকের ছেলে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য খান আহমেদ শুভ। টাঙ্গাইল জেলা চেম্বার এ্যান্ড কমার্সের সভাপতি শক্তিশালী প্রার্থী সুদর্শন যুবনেতা খান আহমেদ শুভ দলের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আট-ঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন। তিনি এলাকায় নিয়মিত উঠান বৈঠক এবং উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। কর্মী বান্ধব প্রার্থী শুভ মির্জাপুরের তরুণ যুব সমাজের অন্তরে ইতোমধ্যে পাকাপোক্তভাবে স্থান করে নিয়েছেন। বঞ্চিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। বিভিন্ন সমাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে সরকারের নানা সফলতা তুলে ধরছেন।

এতে শুভর অবস্থান বেশ মজবুত এবং গণসংযোগে এগিয়ে আছেন। তার পিতা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই তাকে আপন করে নিচ্ছেন। মির্জাপুর তথা টাঙ্গাইল জেলার আওয়ামী রাজনীতিতে এই (শুভর) পরিবারের অনেক ত্যাগ এবং অবদান রয়েছে। সব মিলিয়ে শুভর দিকে তরুণ-যুব সমাজসহ সাধারণ মানুষের ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে খান আহমেদ শুভর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বর্তমান এমপি একাব্বর হোসেনের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রয়েছে দ্বন্দ্ব। টানা তিনবার এমপি হওয়ায় একাব্বর হোসেন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন না বলেও অনেকের অভিযোগ। এদিকে এমপির ব্যক্তিগত সহকারীসহ ঘনিষ্ঠ কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবৈধ কাজ করারও অভিযোগ উঠেছে। এতে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া তিনি শারীরিকভাবে বেশীরভাগ সময় অসুস্থতার কারণে নির্বাচনী বাইরে থাকেন। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ত্যাগী নেতা মীর শরীফ মাহমুদ নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এছাড়াও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব মনোনয়ন পাবার আশায় এলাকায় কাজ করছেন। সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, আশা করি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বিচার-বিশ্লেষণ করে আমাকেই মনোনয়ন দিবেন। আর জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারলে আমিই অবশ্যই বিজয়ী হব। মাঠে কাজ করে যাচ্ছি, যাব। আশা করি দল মূল্যায়ন করবে।

টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) ॥ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে কোন রাজনৈতিক দলই এককভাবে টানা দীর্ঘদিন বিজয়ের সফলতা ধরে রাখতে পারেননি। আসনটি মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পাশাপাশি ভিন্নভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাই আসনটিতে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য যে কোন মূল্যে আসনটি ধরে রাখা। এদিকে বিএনপির পাশাপাশি এ আসনটি উদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এ আসনটিতে বিজয়ী হতে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটবদ্ধ হওয়ার কথা ভাবছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে। তাছাড়া নির্বাচনী এলাকায় ভোটার ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝেও এ বিষয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। কাদের সিদ্দিকীর কারণেই এ আসনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে কাদের সিদ্দিকী কোন জোটভুক্ত হলে দ্বিমুখী অথবা আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হচ্ছেন আওয়ামী লীগের অনুপম শাহজাহান জয়। তিনি ২০১৪ সালে সালের ২৯ মার্চ উপ-নির্বাচনে তার বাবা প্রয়াত শওকত মোমেন শাহজাহানের আসনে বিজয়ী হন। নির্বাচিত হয়েই স্বল্প দিনে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এবারও তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার আশীর্র্বাদ পাবেন বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোয়াহের এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন। প্রাচ্যের আলীগড় হিসেবে খ্যাত করটিয়ার সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দুইবার ভিপি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগে তার সুখ্যাতি রয়েছে। জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়ি সখীপুর উপজেলায় থাকলেও বাসাইলেও তার ভোটার ও তৃণমূলে রয়েছে বেশ শক্ত অবস্থান। সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দুইবার ভিপি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগে ছাত্র জীবন থেকেই তার বেশি পরিচিতি। তাছাড়া বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরকে সন্ত্রাসমুক্ত করে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের একজন দক্ষ সাংগঠনিক কর্মী হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে। জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। নেত্রী সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে তাকে মনোনয়ন দিলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে জনগণের সেবা করে যাব।

অন্যদিকে বিএনপি গৃহদাহে জ্বলছে দলীয় কোন্দল। সাংগঠনিকভাবেও দলটি বেশ দুর্বল। বিএনপির চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এ আসন থেকে একাধিকবার হারলেও এবারও নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও সখীপুর বোয়ালী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সখীপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবিব নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন। জাতীয় পার্টি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব কাজী আশরাফ সিদ্দিকী ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবসংহতির সহসভাপতি রেজাউল করিম মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

সূত্র: জনকণ্ঠ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.