ব্রেকিং নিউজ :

সখীপুরে ডাকাত ও চোর আতষ্কে গ্রামবাসীর রাত জেগে পাহারা

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নে চোর ও ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা বসিয়েছেন গ্রামবাসী। গত কয়েকদিন ধরে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিত গরু, ছাগল ও মহিষ চুরি হওয়ার পর চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে গ্রামবাসীদের মাঝে। বিগত ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে ওই ইউনিয়নে প্রায় ৩০-৩৫ টি গরু এবং প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটে।
জানা যায়, সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের দিঘীরচালা, বুড়িরচালা, বাঘেরবাড়ি, ইন্দ্রারজানি, ঢণঢণিয়াসহ কয়েকটি গ্রামে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ৩০-৩৫টি গরু ও ছাগল চুরির ঘটনা ঘঠেছে। অন্যদিকে রাতের আঁধারে বাড়ির গ্রিলকেটে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও কাটছে না আতঙ্ক। ফলে গ্রামবাসী উপায়ান্তুর না পেয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই দেওয়ার জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
জানা গেছে, ঈদুল আযহা আগে থেকে শুরু হয়ে অধ্যবধি পর্যন্ত ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ আগষ্ট গড়বাড়ি গ্রামের মালেক মিয়ার একটি ষাঁড় গরু চুরি হয়। এর পরে ওই এলাকার বায়েজিদ মিয়ার দেড় লাখ টাকার মূল্যে ২টি, ৩লাখ টাকার মূল্যে শাহজাহান মিয়ার ৩টি, বাঘেরবাড়ি গ্রামের জনৈক কৃষকের প্রায় দুই লাখ টাকার মুল্যে ২টি, দিঘীরচালা শাহজাহান মিয়ার ১টিসহ প্রায় ২৫-৩০টি গরু চুরি হয়। অন্যদিকে কয়েকদিন আগে শ্রীপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের বাড়ি থেকে ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল চুরি হয়। এর আগে ইন্দ্রারজানি গ্রাম থেকে একই রাতে ৩ স্কুল শিক্ষকের বাড়ির গ্রিল কেঁটে মোটরসাইকেল চুরি হয়। অন্যদিকে উপজেলার কাজিরামপুর এলাকার তুলা মিয়ার নিজ বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এসময় সংঘবন্ধ চোরেরা নগদটাকা, গহনা এবং একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় ৫লাখ টাকার মালামাল চুরি করে। এরপরে হামিদপুর চৌরাস্তা বাজার ও ইন্দ্রারজানি বাজারের ৪টি মুদির দোকন থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়।
সরেজমিনে উপজেলার ছোটদিঘীরপাড় ঘিয়ে দেখা গেছে, চোর ও ডাকাত আতঙ্কে গত এক সপ্তাহ ধরে ওই এলাকার শাহজাহান ও জাহিদুলের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। একত্রিতভাবে গ্রামের ১৫/২০ জন যুবক দলবদ্ধভাবে গ্রামঘুরে পাহারা দিচ্ছেন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, গ্রেপ্তারের পর কয়েকদিন কারাভোগ করে চোর ও ডাকাত দলের সদস্যরা জামিনে বেড়িয়ে পুনরায় তাদের পেশায় এবং মাদক সেবিরা নেশার টাকা জোগার করতেই চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.এম তুহিন আলী বলেন, এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তা দেওয়াসহ চুরি ও ডাকাতি রোধে পুলিশ কাজ করছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.