ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

টাঙ্গাইলের সখীপুরে পেঁপে ও লেবু চাষে বাদলের ভাগ্য বদল

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু: টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের শামছুল হকের ছেলে পেঁপে ও লেবু চাষে ভাগ্য বদল হয়েছে আশিক ইকবাল বাদলের (৩৫)। সে উপজেলার কালিদাশের খামার চালায় লেবু ও পেঁপে চাষ করে অল্প সময়ে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হয়েছেন।

এখন সে এলাকার মানুষের অনুকরণীয় লেবু ও পেঁপে চাষীতে পরিণত হয়েছেন। পাহাড়ি এলাকায় তিনি লেবু চাষ করে কৃষি জীবন শুরু করলেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন পেঁপে চাষ করে।

জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে জীবন বিভিন্ন পরাজয়ের গ্লানি পহাতে হয় আশিক বাদলকে। লজ্জা, গ্লানি ও পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য র্দীঘ দিন প্রবাসী জীবন কাটান। ইচ্ছে জাগে দেশেই কিছু করে খাবেন কিন্তুু কি করবেন এ প্রশ্নে সম্মুখে হন বারবার।

অবশেষে স্থানীয় সফল কৃষক মোসলেম উদ্দিনের সহযোগিতায় লেবু বাগান করেন। নিজ এলাকায় ৪ একর জমি লিজ নেন প্রতি একর বছরে ২৫ হাজার টাকা করে। প্রথম বছরে তেমন কোন লাভবান না হলেও পরের বছর খরচ বাদে ২ লক্ষ টাকা লাভ হয়। এ লাভের টাকা দিয়ে একই মালিকের আরো ৫ একর জমি লিজ নিয়ে পেঁপে চাষ শুরু করেন। ২০১৬ সালে পরিক্ষা মূলক ১৫০০ পেঁপে চাষ করেন। ফলন ভাল হলে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে ৫ একর জমিতে ৫ হাজার শাহী জাতের পেঁপে চারা লাগিয়েছেন।

ওই বাগানে পেঁপে ফলন ধরা হয়েছে ৫০ টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা। স্থানীয় কৃষকদের কাছে আশিক ইকবাল বাদল এখন রোল মডেল। পেঁপে চাষ করে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় অন্যান্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন সবজি জাতীয় এ ফলকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করতে।

কৃষক আশিক ইকবাল বাদল বলেন, জমি লিজ, চারা, সার, কীটনাশক, শ্রমিক সহ নানা খরচ বাবদ এপর্যন্ত আমার ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে এ মাসেই ৫০ টন পেঁপে বিক্রি করা যাবে।

খামারচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, আশিক ইকবাল বাদলকে দেখে এলাকায় আরো বেকার যুবকদের পেঁপে চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভূইয়া ফাইজুল ইসলাম বলেন, পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ পেঁপের চাহিদা ব্যাপক। পেঁপে চাষে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মেটায় অন্যদিকে অর্থনৈতিক ভাবেও সাবলম্বী হওয়া যায়। ৬ মাসের মধ্যে এজাতের পেঁপে বাজার জাত করা যায়। একটি গাছে চার থেকে পাঁচ মণ পেঁপে আসে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.