ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

টাঙ্গাইলে প্রধান শিক্ষক বদলি ও অাটককৃত শিক্ষকের জামিন না দেয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত, শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমানের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি, সহকারী শিক্ষক এ্যানি সুরাইয়া, হাবিবুর রহমান, মাকসুদা রানা ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদারের বদলির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অবিভাবকবৃন্দ। এসময় অাটককৃত শিক্ষককের জামিন না দেয়ার দাবি করেন তারা। পাশাপাশি অান্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিবাকদের নিরাপত্তার দাবিও জানান তারা।

মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অবিভাবক কমান্ডার ফেরদৌস আলম রুঞ্জু বীরপ্রতীক, এডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল, হাসান রেজা অপু, খন্দকার খালেদা ফেরদৌস, সুলতানা সরোয়ার, ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারজানা হোসাইন মিতু, তাহিয়া তাবাসছুম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে অবিভাবক শামীম চৌধুরী দয়াল বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকার কথা কিন্তু সেখানেও যৌন হয়রানি শিক্ষা হচ্ছে তারা । তাহলে আমরা কিভাবে আমাদের সন্তানদের মানুষ করবো। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিকট প্রাইভেট না পরলে তারা পরীক্ষায় অকৃতকার্যেরও ভয় দেখায়। তাই বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কয়েকজন শিক্ষককের বদলি কামনা করছি।

অপর অবিভাবক হাসান রেজা অপু বলেন, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসে ও ক্লাসের বাইরে অশালীন মন্তব্য কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন শিক্ষক সাঈদুর রহমান। শুধু ছাত্রী নয়, অভিভাবকদের নিয়েও সে অশালীন মন্তব্য করে থাকে। সুযোগ পেলেই ছাত্রীদের শরীরে হাত দিত এবং মানসিক নির্যাতন করত। এছাড়াও বিদ্যালয়ের বাইড়ে শিক্ষার্থীরা তার কাছে প্রাইভেট না পরলে, তাদের পরীক্ষায় কম নম্বর দেয়া সহ নানাবিধ অভিযোগ ছিলো এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আমি শিক্ষকের দৃষ্টান্ত মূল শাস্তি দাবি করছি।

অবিভাবক সুলতানা সরোয়ার বলেন, গত রোববার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয় সাইদুর। ওই দিনই সকল ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মামুন তালুকদার অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ওই ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে কিছু ছাত্রীর স্বাক্ষর নেন। শিক্ষকরা নিরাপত্তার পরিবর্তে ছাত্রীদেয় কু-প্রস্তাব দেয়া এরকম শিক্ষকদের শাস্তির দাবি করছি।

৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারজানা হোসাইন মিতু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সাঈদুর রহমান অনেককে বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন তালুকদারকে জানানোর পরও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সাইদুর রহমান দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও প্রধান শিক্ষক মামুন তালুকদারের অপসারণ দাবি করছি।

তিনি অারোও বলেন,টিফিনের জন্য প্রতিমাসে আমাদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হয়। টাকা নিয়েও আমাদের টিফিনেও অস্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া হয়। আমরা স্বাস্থ্যকর খাবারের দাবি করছি।

অপর শিক্ষার্থী তাহিয়া তাবাসছুম বলেন, আমাদের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা সেল, স্বাস্থ্যকর টিফিন, শতভাগ মহিলা শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের দাবি করছি। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমানের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি, সহকারী শিক্ষক এ্যানি সুরাইয়া, হাবিবুর রহমান, মাকসুদা রানা ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদারের বদলির দাবি জানাচ্ছি ।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ন মন্তব্য ও যৌন হয়রানীর অভিযোগে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমানকে গনধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার সকালে ছাত্রী অভিভাবকরা বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিচার ও শাস্তির দাবিতে তারা বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করে। এসময় সাইদুর রহমান বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করলে ছাত্রীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তাকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে এনে বেদম মারপিট করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ছাত্রীদের গণধোলাইয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক সাইদুর রহমানকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার রহমান এই রায় দেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.