ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

মির্জাপুর আসনে কে পাচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীক!

টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর আসন থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিয়ষক সম্পাদক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী’র পক্ষ থেকে তার স্ত্রী ফাতেমা আজাদ গত ১২ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন এবং গত ১৫ নভেম্বর জমা দিয়েছেন, সাবেক এই এমপিকে গত ০৬ নভেম্বর ঢাকার ঐক্যফ্রন্টের জনসভা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে, বর্তমানে সে আইনি জটিলতায় কেরাণীগঞ্জ জেল হাজতে রয়েছেন, অন্যদিকে এ আসন থেকে আরও মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা প্রদান করেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসীন হল ছাত্র সংসদের সাবেক জি.এস সাইদুর রহমান সাঈদ সোহরাব, জিয়া শিশু কিশোর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ফিরুজ হায়দার খান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শিল্পপতি একেএম আজাদ স্বাধীন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মন্তব্য
আইনি জটিলতায় সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী জেলহাজতে থাকায় তার ছোট ভাই মির্জাপুর পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আজম সিদ্দিকীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতির কারণে আমার বড় ভাই আজ বিনা কারণে জেলহাজতে, আল্লাহ্ না করুক যদি আদালত আমার ভাইকে জামিন না দেয় সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ইনশাআল্লাহ জেলহাজত থেকেই নির্বাচনে লড়বে এবং আশাকরি মির্জাপুরের সকল জনগণ আমার ভাইকে নির্বাচনে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন। দেশবাসীর কাছে তিনি তার ভাইয়ের জন্য দোয়াও চেয়েছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইদুর রহমান সাঈদ সোহরাব বলেন, এর আগেও আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছিল কিন্তু দলীয় স্বার্থে আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলাম বর্তমানে এ আসনটি আ.লীগের দখলে রয়েছে। এই আসনটি পুনঃউদ্ধার করতে হলে নতুন প্রার্থীর বিকল্প নেই। তাই আমি মনে করি সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দিলে এই আসনকে অলঙ্কিত করতে পারবো।

অপরদিকে হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী ফিরুজ হায়দার খান বলেন, এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি’র দখলে নেই, রয়েছে আ.লীগের জোড়ালো দখলে। তিনি বলেন, মির্জাপুর বিএনপি তথা অঙ্গসংগঠনকে পিছিয়ে নিয়ে গেছে শুধুমাত্র গ্রুপিং, লবিং এবং বিশেষ করে সাবেক এমপি নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার কারণে। আর তাই আগামী নির্বাচনে মির্জাপুরবাসী নতুন মুখ চায়, চায় পরিবর্তন, আর সেজন্য যদি আমাকে বেগম খালেদা জিয়া মনোনয়ন দেয় তাহলে ইনশাআল্লাহ আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে হারানো আসনটি ফিরিয়ে দিতে পারবো। তবে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেনো আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো।

মনোনয়ন প্রত্যাশী একেএম আজাদ স্বাধীনের ছোট ভাই সোহেল রানা স্বপন তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার পক্ষের কারও সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাশী সাদেক আহমেদ খান বলেন, দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচনে জয়ী হতে পারবো এবং এলাকার উন্নয়ন করতে পারবো। মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাই মির্জাপুরে গণসংযোগ, সভা সেমিনার, ব্যানার ফেস্টুন ইত্যাদির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম নয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুরে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে রয়েছে। দল যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে দলীয় হাইকমান্ড অবশ্যই ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি আশাবাদি।

উল্লেখ্য যে, টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে শিল্প-কারখানা অধ্যুষিত ও নদীবেষ্টিত হওয়ায় মির্জাপুর উপজেলা অন্যতম। একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মির্জাপুর উপজেলা। নির্বাচন কমিশন সূত্রমতে এই আসনটির মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ২২ হাজার ৬ শত ৭৪ জন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.