News Tangail

দাদা এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিনিধি: “দাদা” কালিহাতী বাসীর মুখে একটি জনপ্রিয় শব্দ । আর এই শব্দ যুক্ত হয়ে অাছে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নামের পাশে। কালিহাতীতে দাদা বলে সবাই তাকে চিনে।

অার দাদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার (২৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিজের বাসায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় তার সমর্থকসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন সম্পর্কে (দাদা) লতিফ সিদ্দিকী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমি আদর্শিত। কালিহাতীর মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে আড়ালে থাকলেও আমার সমর্থক ও জনগণ এখনও আমার সঙ্গেই আছেন।

এ ব্যাপারে মোশারফ হোসেন সিদ্দিকী ঝিন্টু বলেন, ‘দাদা’ নির্বাচন করবেন এই খবরে কালিহাতীতে আনন্দের জোয়ার বইছে। কালিহাতীর আওয়ামী লীগ ও উন্নয়ন নিজ হাতে গড়েছেন ‘দাদা’। কালিহাতী উপজেলার প্রতিটি এলাকায় গণভিত্তি রয়েছে তার । আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীই তাকে চান। তাই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।’

লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতী থেকে ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ১৯৭৩, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের বিজয়ী হওয়ার পর মন্ত্রিত্ব পান তিনি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হজ, মহানবী (সা.) ও তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে কটূক্তি করে ফেঁসে সমালোচনার শিকার হন তিনি। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে মোট ২২টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১৭ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে তিনি দেশে এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পান। পরে দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলনের মুখে তার মন্ত্রিত্ব কেড়ে নিয়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি তার আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সোহেল হাজারীই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.