News Tangail

টাঙ্গাইল ৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে চাপা উত্তেজনা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেও বিএনপির প্রার্থী নিয়ে রয়েছে গুঞ্জন।

বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার সময় যত নিকটে আসছে ততই বাড়ছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা উত্তেজনা। আসনটিতে কে হবেন প্রার্থী? দল কাকে দেবে মনোনয়ন? কে হলে আসনটি উদ্ধার হবে- এ নিয়ে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা।

১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসন গঠিত। এ আসনে ৩ লাখ ২২ হাজার ৬৭৩ জন ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে নারী ১ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৫ জন এবং পুরুষ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭৮ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন টানা তিন বারের সংসদ সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন।

অপরদিকে আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস সাইদুর রহমান সাঈদ সোহরাব, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি নেতা ও জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শিল্পপতি এ কে এম আজাদ স্বাধীন ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদেক আহমেদ খান দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।

আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালে বর্তমান এমপি একাব্বর হোসেনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

গত ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার পল্টন মডেল থানা পুলিশ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেন। তিনি বর্তমানে জেল হাজতে থাকলেও এ আসনে তিনিই বিএনপির প্রথম পছন্দ বলে তার সমর্থকেরা জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা সাঈদুর রহমান সাঈদ সোহরাবের পক্ষে মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান। পরে তাকে বাদ দিয়ে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী চারবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুনের নির্বাচনে নির্বাচিত হন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী একাব্বর হোসেনের কাছে পরাজিত হন।

একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শক্তিশালী আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেনের বিপরীতে লড়ে আসনটি উদ্ধার করতে নতুন প্রার্থীর বিকল্প নেই। আর নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন সাঈদুর রহমান সাঈদ সোহরাব ও একেএম আজাদ স্বাধীন।

তারা জানান, ইতোমধ্যে মির্জাপুর বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মির্জাপুরে ২টি ও ঢাকায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে নেতাকর্মীরা কৌশলে ধানের শীষের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু এবং বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা হলেই তারা প্রকাশে প্রচারণা চালাবেন বলে জানান।

তারা আরো জানান, ইতোমধ্যে ভাইভা শেষ করেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ প্রার্থী। এখন শুধু দেখার বিষয় কার গোলায় উঠবে ধানের শীষ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.